0

গল্প - রঞ্জন চক্রবর্তী

Posted in


গল্প


সাহিত্যিকের সঙ্গে কিছুক্ষণ
রঞ্জন চক্রবর্তী


"নমস্কার, আমার নাম অমৃতা। আমি বেশি সময় নিতে আসিনি। জানি আপনি খুবই ব্যস্ত।"

"আপনি কিছুই জানেননা।"

"আ্যঁ?"

"আমি আপনাকে বেশি সময় দিতেই আসিনি। আপনি নেবেন কিকরে? আর আমি তো আসিনি। এসেছেন তো আপনি। আমি তো আমার নিজের বাড়িতেই আছি।"

"বাব্বা:, আপনার নামে যা যা শুনেছি প্রথমটায় বিশ্বাস না করলেও শুরুতেই মনে হচ্ছে সবটাই হয়তো সত্যি!"

"কি শুনেছেন? একটু শুনি। যা যা রটে তার কিছু তো বটে - এই কথাটা শুনেছেন তো?"

"দেখুন কি শুনেছি সেটা আলোচ্য নয়। আর সেটা দিয়ে শুরু করলে মনে হয় আমাদের সাক্ষাৎকার খুব বেশি দূর এগোবেনা।"

"আচ্ছা শুরু করুন।"

"একি? বসতেও বলবেন না?"

"না না, সে কি? বসতে বলব। তবে আপনাকে একটা কথা দিতে হবে তার আগে।"

"কি কথা?"

"খেতে পেলে শুতে চায় এই কথাটা শুনেছেন তো?"

"হ্যাঁ।"

"আমার অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি যে সবাই বসতে পেলেই খেতে চায়। মুখে না বললেও হাবভাবে বোঝা যায়।"

"ও বুঝেছি। আপনি ভাবছেন বসতে বললেই আমি খেতে চাইব। আর তারপর খেতে পেলে শুতে..."

"হ্যাঁ, ঠিক তাই। আর শুধু ভাবছিই না। আমি নিশ্চিত।"

"আমি তাহলে চলি। আপনার সঙ্গে কথা চালানই দুস্কর ব্যাপার।"

"আরে না না। রাগ করে এইভাবে চলে গেলেও তো আমারই ক্ষতি। প্রথমে এই মোড়াটায় বসুন। এরপর এই পাশের ভাল চেয়ারটা দেব আলোচনা একটু এগোলে। মানে আদৌ যদি এগোয়। না হলে তো কাগজে কাগজে রটিয়ে বেড়াবেন। আমি কি অভদ্র ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনাকে একটু পরীক্ষা করে দেখলাম আর কি। আপনার ধৈর্যটা ঠিক কতটা।"

"তা কি দেখলেন?"

"আগে একটু বসে মনটাকে স্থির করে নিন। আপনার ধৈর্য আমার প্রথম প্রেমিকার থেকেও অনেক কম। 

সে কিরকম? এর মধ্যে আবার আপনার প্রেমিকাকে জোটালেন কোথ্থেকে?"

"দেখুন সত্যি কথা বলতে আমি কোনদিন যে প্রেমে পড়ব তা ভাবিনি বা কেউ আমার প্রেমে পড়বে তাও। কিন্তু জোটালো সেই প্রেমিকাই আমাকে। একটা সাহিত্য সভা থেকে বেরচ্ছি আর সেই মুহূর্তেই সামনে কাগজ বাড়িয়ে বলল, "আমায় একটা অটোগ্রাফ দেবেন?" সত্যি কথা বলছি তখন আমার মনটা একটু ব্যাকুল হয়ে গিয়েছিল। হাজার হলেও জীবনের প্রথম অটোগ্রাফ দেওয়া কাউকে। সে তো অনেক বছর আগের কথা। তখন আমার বয়সও অনেক কম। ভাবলাম অটোগ্রাফের সঙ্গে কিছু একটা লিখে দিতে হয় তাই জিজ্ঞেস করলাম, " তোমার নাম কি?"

সে বলল, "লিখুন কল্পনা।"

একটু সন্দেহ হল তাই আবার জিজ্ঞেস করলাম "ওটা কি তোমার বানান নাম না সত্যি? "

সে হেঁয়ালি করে বলল "সত্যিই আমার নাম কল্পনা। আমার বোনের নাম জল্পনা।"

আমি বললাম, " ধুর্, জল্পনা কারুর নাম হয় নাকি?"

কথায় কথা বাড়ল আর তারপর ছা পোষা, না প্রেমে পড়া বাঙালির যা হয় আর কি। পরের দিন চা, তার পরের সপ্তাহে ফুচকা, ইত্যাদি। 

তার পরে একদিন সে বলল সিনেমায় যাব। গেলাম, একটা শহরের নামী হল-এ। কিছুক্ষণ পরে দেখলাম সে ছটফট করছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কি হয়েছে?

সে বলল তোমাকে একটা কথা বলব বলব বলেও বলা হয়নি। আমার আসল নাম কল্পনা নয়। আমার কোন বোনও নেই। 

আমার হঠাৎ ভীষন রাগ হল কল্পনা, না না কি যেন নাম ছিল তার। ও হ্যাঁ মনে পড়েছে, বলেছিল অমৃতা, অমৃতা। হঠাৎ মনে হলো সিনেমার সীট থেকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দিই। 

****

"দিদিমনি, হো দিদিমনি, হাপনি ওপেক্ষা করতে করতে শুয়ে গেছেন? মানে ঘুমিয়ে পড়েছেন? মোড়া থিকে পড়ে যাচ্ছেন তো। তোখুনই বললাম হাপনি মোড়াটাতে বসতে পারবেন না। চেয়ারটাতে বসুন। 
হাপনাকে বাবু ভিতরে ডাকছেন। "

"কে বাবু? "

"আরে হাপনি যার সোঙ্গে দিখা করবেন বললেন। সাহিত্যিক বাবু। ইন্টারভ্যু নিবেন। "

"ও হ্যঁ। আসছি, আসছি। একটু জল খাওয়াবে?"

0 comments: