গল্প - মনোজ কর
Posted in গল্পশেষ পর্ব
পরের দিন সকালে অফিসে বসে এক কাপ চা খেয়ে থানার দিকে যাবার জন্য যখন
তৈরি হচ্ছেন পানু রায় এবং সুন্দরী তখন পানু রায়ের ফোনটা বেজে উঠলো। ফোনের
ওপারে মনীষা।
-আপনি কোথায়, মিঃ রায়?
-অফিসে, কী হয়েছে? তোমায় এত উত্তেজিত লাগছে কেন?
-সাঙ্ঘাতিক কান্ড হয়েছে। আমি প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেছি। আমি কি আসবো আপনার
কাছে?
-আগে শান্ত হও। কী হয়েছে বলো। তারপর বলছি। এই অবস্থায় এত দৌড়োদৌড়ি করা
ঠিক নয়।
-আমি আজ সকালে অফিসে এসেছি। একটা পুরনো ফাইল খুঁজে বের করার জন্য
একবারে নিচের একটা ড্রয়ার যেখানে অনেক পুরনো ফাইল থাকে সেটা খুলেছিলাম।
খুলে যা দেখলাম তাতে আমার হাত পা কাঁপতে শুরু করেছে।
-শান্ত হও। কী দেখেছ?
-একটা রক্তমাখা তোয়ালে। রক্ত জমে কালো হয়ে গেছে। আমি এটা নিয়ে এখন কী
করবো? আপনার কাছে নিয়ে যাব? নাকি যেখানে ছিল সেখানে রেখে ড্রয়ার বন্ধ করে
দেব? আমার মাথা কাজ করছে না।
-তুমি একটু অপেক্ষা করো। তোমার কোথাও আসার দরকার নেই। দরকার হলে আমি
তোমার কাছে আসছি। শান্ত হয়ে বসো।
পানু রায় ফোন রেখে সুন্দরীকে বললেন,’আমি পেয়ে গেছি। ওরা আমার ছোঁড়া গুলিটা
পায়নি কিন্তু আমি রক্তমাখা তোয়ালে পেয়েছি। ওটাই আমার অস্ত্র।‘
-দাদু, আমি মাথামুন্ডু কিছুই বুঝছিনা।
-বোঝার দরকার নেই। মন দিয়ে শোনো। আমি এটাই বলবো যে ছোটকালী আমরা
যেটাকে ছোট বন্দুক বলছি সেটা নিয়ে রেবার অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিল। ইতিমধ্যে
রেবা দেখেছে যে বড় বন্দুকটা যেটা বড়কালী তাকে দিয়েছিল সেটাতে একটা গুলি কম
আছে। এটা দেখে রেবা নিশ্চিত হয়েছিল যে বড়কালীই শিবুলালকে খুন করেছে।
সেইজন্য আমরা চলে যাবার পর রেবা ছোট বন্দুকটাকে সরিয়ে বড় বন্দুকটা একই
জায়গায় রেখে দিয়েছিল। পরের দিন পুলিশ এসে বড় বন্দুকটা দেখতে পায় এবং সেটা
পরীক্ষা করে দেখে তাতে একটা গুলি কম এবং মনের আনন্দে চলে যায়। আমি
জিজ্ঞাসা করবো আর একটা বন্দুক তাহলে কোথায় গেল?
-তারপর কী করবে দাদু? তুমি তো পুরো ব্যাপারটা গুলিয়ে দিতে চাইছো মনে হচ্ছে।
-হ্যাঁ, তাই। আমি বলতে চাইছি যে কেলো দারোগা যে তত্ত্ব খাড়া করতে চাইছে তার
মধ্যে অনেক ফাঁক আছে। এর ভিত্তিতে চার্জসিট দাখিল করা যায়না। তারপর আমি
এলিনাকে ডেকে পাঠাবো। অন্য কাউকে ডেকে পাঠালে কেলো দারোগা বলতে পারে
আমি সময় নষ্ট করছি। কিন্তু এলিনার বিরুদ্ধে ভুয়ো বিল পেমেন্ট করার অভিযোগ
আছে। ইতিমধ্যে জগাই এবং তুমি গিয়ে রক্তমাখা তোয়ালে সমেত মনীষাকে থানায়
নিয়ে আসবে। তারপর সবাই দেখবে এই বুড়োহাড়ে ভেল্কি।
-দাদু, অসাধারণ। তোমার গল্প বিশ্বাসযোগ্য বলেই মনে হচ্ছে। আসলে আমারও মনে
হচ্ছে তুমি যা বলছো সেটাই ঘটেছে। রেবা বড়কালীকে ভালোবাসে বলে তাকে বাঁচাতে
চাইছে এবং নিজের ঘাড়ে দোষটা চাপাতে চাইছে।
-তুমি যখন বিশ্বাস করছো, ওরাও করবে। আর একটা বন্দুকের হিসাব যদি ওরা দিতে
না পারে তবে আমার তত্ত্বকে খারিজ করার অস্ত্র ওদের কাছে নেই। ওরা রেবাকে
আবার জেরা করতে শুরু করবে কিন্তু রেবা মুখ খুলবে না আমি নিশ্চিত। রেবা নিশ্চয়ই
চাইবে না তার কোনও কথায় বড়কালীর কোনও ক্ষতি হয়। তোমরা মনীষাকে নিয়ে
এসো। আমি থানায় যাচ্ছি।
পানু রায় থানায় ঢুকে কেলো দারোগাকে জিজ্ঞাসা করলেন,’ আমি এলিনাকে থানায়
নিয়ে আসার জন্য একটু আগে আপনাকে ফোন করেছিলাম সবার সামনে কারণটা না
বলার জন্য। আশা করি আপনি এলিনাকে ডেকে পাঠিয়েছেন।‘ কেলো দারোগা বললো,’
এলিনাকে ফোন করে জানলাম সে আশে পাশেই একটা বিউটি পার্লারে আছে। এক্ষুনি
এসে যাবে। ভাগ্যিস! না হলে চুপচাপ সবাইকে বসে থাকতে হতো। আপনার যা গোঁ!’
-দেখুন দারোগাবাবু আপনার তত্ত্বে এত ফাঁকফোকর যে একটা যুক্তিগ্রাহ্য
চার্জসিট দাখিল করা যাচ্ছে না। দেখাই যাক না কিছু পাওয়া যায় কি না।
পানু রায়ের কথা শেষ হতে না হতেই এলিনা ঘরে ঢুকলো। পানু রায় বললেন,’ আসুন
এলিনা। আপনাকে একটু বিব্রত করলাম। বসুন, দু-একটা প্রশ্ন করেই ছেড়ে দেব
আপনাকে।
-একটু তাড়াতাড়ি করুন। আমার অনেকগুলো কাজ আছে।
-বেশ, আপনি কৃষ্ণকালীর অফিসে সেক্রেটারির কাজ করার আগে অন্য কোথাও
সেক্রেটারির কাজ করেছেন? সেক্রেটারি হিসাবে আপনার একটা কাজ হচ্ছে বিল
পেমেন্ট করা এবং ভাউচার তৈরি করা। ঠিক?
-হ্যাঁ, ঠিক।
-আপনি মাঝে মধ্যেই চেক তৈরি করে কৃষ্ণকালীকে দিয়ে সই করাতেন। কিন্তু চেক
তৈরি করার আগে নিশ্চয়ই বিলগুলো পরীক্ষা করে দেখতেন যে বিলগুলো ঠিক আছে
কি না? কাজগুলো হয়েছে কি না? জিনিসগুলো পাওয়া গেছে কি না? ইত্যাদি।
-হ্যাঁ, অবশ্যই।
-তাহলে বলুন আপনি অ্যাকমে ইলেক্ট্রিকের নামে যে সব চেক তৈরি করেছিলেন সে
সব চেক কোথায় গেল? অ্যাকমে ইলেকট্রিকের ঠিকানা ভুল এবং ভুয়ো। আপনি
সেটাও পরীক্ষা করেন নি কেন?
-না, না বিশ্বাস করুন ওর থেকে আমি একটা পয়সাও পাইনি। শিবুলাল পুরোটাই…
-কে? শিবুলাল? কেন ওকে টাকা পাঠাতেন আপনি? কাঁদবেন না, বলুন। যা সত্যি তাই
বলুন।
-শিবুলাল আমাকে বলেছিল যে ওর নতুন হোটেলে আমাকে কাজ দেবে। ও আমাকে
ঠকিয়েছে। ও আমাকে বলেছিল সিনেমায় চান্স করে দেবে। কিচ্ছু করেনি। আমাকে
লোভ দেখিয়ে আমাকে দিয়ে অন্যায় কাজ করিয়েছে। আমাকে ভাঁওতা দিয়েছে।
এলিনার কথা শেষ হওয়ার আগেই দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকলো জগাই, সুন্দরী এবং
মনীষা। মনীষার চেহারার দিকে তাকিয়ে কেলো দারোগা এবং পানু রায় শশব্যস্ত হয়ে
উঠলো। তাড়াতাড়ি সকলে মিলে ধরাধরি করে মনীষাকে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিল।
মনীষার হাত থেকে একটা কাপড়ের প্যাকেট হাতে নিয়ে সেটা খুলতে খুলতে নাটকীয়
ভাবে পানু রায় বললেন,’ এলিনা, শিবুলালকে গুলি করার পর আপনি একটা তোয়ালে
দিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্ত মুছে তোয়ালেটা আপনার ব্যাগে রেখেছিলেন। তারপর
অফিসে এসে একটা পুরনো ফাইল ক্যাবিনেটে ওটা লুকিয়ে রেখেছিলেন। তারপর
কৃষ্ণকালী যখন কোট খুলে রেখে বাথরুমে গেল তখন আপনি কোটের পকেট থেকে বড়
বন্দুকটা বের করে লকারে রাখলেন আর লকার বন্দুকটা রাখলেন কৃষ্ণকালীর
কোটের পকেটে। আমি কি ঠিক বলছি?’ এলিনা খানিকক্ষণ হাঁ করে পানু রায়ের মুখের
দিকে তাকিয়ে রইলো তারপর হাউহাউ করে কাঁদতে আরম্ভ করলো। পানু রায় বললেন,’
আপনি নিজে বলবেন না আমি বলবো?’
-আমি লকার থেকে বন্দুকটা নিয়ে শিবুলালের কাছে গিয়েছিলাম ওকে ভয় দেখাবো
বলে। কিন্তু কথা কাটাকাটি হতে হতে ও আমার গলা চেপে ধরে। আমার দম বন্ধ হয়ে
আসছিল। নিজেকে ওর হাত থেকে ছাড়াবার আমার আর কোনও উপায় ছিল না। আমি
প্রথমে বুঝতে পারিনি ও মারা গেছে। মেঝেটা রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। আমার জুতোয়
রক্তের দাগ দেখে সামনে থেকে একটা তোয়ালে নিয়ে রক্ত মুছে ওটা কোথায় ফেলবো
বুঝতে না পেরে ব্যাগে ঢুকিয়ে নিই। তারপর অফিসে ফিরে তোয়ালেটা একটা পুরনো
ফাইল ক্যাবিনেটে রেখে অপেক্ষা করতে থাকি কৃষ্ণকালীবাবুর। উনি অফিসে এসে
কোটটা খুলে বাথরুমে গেলেন। আমি সেই ফাঁকে লকারের বন্দুকটা ওনার কোটের
পকেটে ঢুকিয়ে ওনার পকেটের বন্দুকটা লকারে রেখে দিই।‘ কথা শেষ করে দু’হাতে
মুখ চাপা দিয়ে বসে রইলো এলিনা। পানু রায় বললেন,’ দারোগাবাবু। বাকিটা আপনার
কাজ।‘ কেলো দারোগা হাত জোড় করে বললো,’ আপনার ধারে কাছে পৌঁছতে আমার
বহুদিন লাগবে। আদৌ পৌঁছতে পারবোনা কোনওদিন মনে হয়।‘ পানু রায় হাসতে হাসতে
বললেন,’ আমার এখন যা বয়স সেখানে পৌঁছতে আপনার আরও চুয়াল্লিশ বছর
লাগবে। ততদিনে আমি এবং আপনি দু’জনেই থাকবো না। আজ চলি ।‘
সুন্দরী কেলো দারোগার দিকে তাকিয়ে বললো,’ একে বলে বুড়োহাড়ে ভেল্কি। ঘুঘু
দেখেছেন,
ফাঁদ তো এখনও দেখেননি।‘
পানু রায়ের অফিসে সেদিন সন্ধ্যাবেলা একে একে জগাই, কৃষ্ণকালী আর রেবা এসে
জড়ো হলো। সুন্দরী অফিসেই ছিল। সকলের জন্য চা-কফি আর স্ন্যাকসের অর্ডার
দিয়ে পানু রায়ের পাশে এসে বসলো। পানু রায় রেবাকে বললেন,’ আপনি আমাকে
সত্যিটা বলতেই পারতেন।‘ রেবা বললো,’ আমি ঠিক করেছিলাম আমি কাউকেই কিছু
বলবো না। আমি সেদিন দেখেছিলাম কৃষ্ণকালী শিবুলালের ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে গেল।
উনি আমাকে দেখেননি। পরে যখন উনি আমাকে ওনার বন্দুকটা দিয়ে গেলেন আমি
দেখলাম ওটাতে একটা গুলি কম আছে। আমি ভাবলাম কৃষ্ণকালীই কাজটা করেছে।
আমার মনে কোনও সন্দেহ রইল না। তারপরে আপনি যখন কালীকৃষ্ণকে সঙ্গে করে
নিয়ে এসে ওর বন্দুকটাও আমাকে দেবার ব্যবস্থা করলেন তখন আমার মনে হলো
যদি পুলিশ এসে কোনও কারণে যদি বড় বন্দুকটা আমার কাছে চায় আমি যাতে তখন
ছোট বন্দুকটা দিয়ে দিই। কিন্তু আমার মনে হলো ছোট বন্দুকটার জায়গায় আমি যদি
বড় বন্দুকটা একই ভাবে রেখে দিই তাহলে পুলিশ জানবে ঐ বন্দুকটা কালীকৃষ্ণ
আমাকে দিয়েছিল। কালীকৃষ্ণ সেটা মেনেও নেবে। আর যেহেতু কালীকৃষ্ণ কোনও
ভাবেই এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে যুক্ত নয় পুলিশের কিছুই করার থাকবে না। তাই
আপনারা চলে যাবার সঙ্গে সঙ্গেই আমি বড় বন্দুকটা নিয়ে এসে ঠিক যেমনভাবে
কালীকৃষ্ণ ছোট বন্দুকটা রেখে গিয়েছিল সেইভাবে রেখে দিলাম। ছোট বন্দুকটা নিয়ে
গিয়ে রান্নাঘরে আটার বস্তার মধ্যে ঢুকিয়ে রাখলাম। কিছুক্ষণ পরে বাইরে বেরিয়ে
একটু দূরে একটা জায়গায় যেখানে একটা নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছিল তার সামনে ডাঁই
করে রাখা সিমেন্টের স্তূপের নিচে ঢুকিয়ে রেখে এলাম।‘
কৃষ্ণকালী বললো,’ আমি জানতাম না তুমি আমাকে দেখেছ। আমি তো একটা
হেস্তনেস্ত করার প্ল্যান নিয়ে শিবুলালের ফ্ল্যাটে গেলাম। ও আমাকে দরজা না
খুলেই জানিয়ে দিল যে দশ মিনিটের মধ্যে জরুরি কাজে কেউ আসবে এবং আমার
সঙ্গে দেখা করা সম্ভব নয়। আমার মনে হচ্ছে এলিনা তখন ভিতরে ছিল। আমি বলে
এলাম আমি রাত্রে আবার আসবো। আজ একটা হেস্তনেস্ত হবেই।‘
পানু রায় বললেন,’ তার মানে আমি যখন শিবুলালের সঙ্গে কথা বলছিলাম তখন একটা
ফোন এল। ও আমাকে বললো দু মিনিটের মধ্যে কেউ আসবে এবং আমি যেন তক্ষুনি
বেরিয়ে যাই। আমি সামনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে লক্ষ্য রাখতে শুরু করলাম কে
আসছে। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ পর্যন্ত কাউকে দেখতে না পেয়ে চলে গেলাম। আমার
মাথায় তখন আসেনি যে পিছনের সিঁড়ি দিয়ে কেউ উপরে উঠে পিছনের দরজা দিয়ে
ভেতরে ঢুকতে পারে।‘
কৃষ্ণকালী বললো,’ এখন আমি পুরো ব্যাপারটা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। এলিনা
পিছনের দরজা দিয়ে ঢুকেছিল। শিবুলাল ওকে চেকগুলো দেবার জন্য চাপ দিচ্ছিল। সে
এলিনাকে বলেছিল অনেকগুলো শো দেবে। এলিনা ওর অদক্ষতার জন্য নয় শিবুলালকে
টাকা পাইয়ে দেবার জন্য সবকিছু করতে রাজি ছিল। শিবুলাল যে ওকে ঠকাচ্ছে সেটা ও
আগে বোঝেনি।‘
রেবা বললো,’ আমি ওপরে গিয়ে বেল বাজালাম।কেউ খুললো না। হ্যান্ডেলে চাপ দিতেই
দরজাটা খুলে গেল। ভিতরে গিয়ে দেখলাম শিবুলালের মৃতদেহ রক্তে ভাসছে। আমার
মাথা কাজ করছিল না। পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখি আমার জুতো রক্তে মাখামখি।
বাথরুমে গিয়ে জুতো ধুলাম। হাতের দিকে তাকিয়ে দেখি হাতে রক্ত। ভালো করে হাত
ধুয়ে পিছনের দরজা দিয়ে নিচে নেমে এলাম। ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে কাঠ। কথা বলতে
পারছিলাম না। যেহেতু আমার দৃঢ় ধারণা ছিল যে কৃষ্ণকালীই খুন করেছে আমি চুপ
করে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।‘ কৃষ্ণকালী বললো,’ আর তুমি আমাকে বাঁচানোর
জন্য নিজে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে রাজি হয়ে গেলে? ‘ রেবা বললো,’ সে তো
বলবেনই। আপনার যেই মনে হলো যে আমি খুন করেছি আপনি পুরো ব্যাপারটা
এমনভাবে সাজালেন যাতে মনে হয় আপনি খুনী।‘ সকলে হো হো করে হেসে উঠলো।
কৃষ্ণকালী বললো,’ ঠিক আছে, এটা নিয়ে পরে কথা বলা যাবে। আপাতত জানাতে চাই
যে আমি মিঃ রায়কে একটা ব্ল্যাঙ্ক চেক দিতে চাই। আমি জানিনা ওনার ফি কত
হওয়া উচিৎ। সেটা ঠিক করার দায়িত্ব ওনাকেই দিলাম আরও অনেক দায়িত্বের
মতো।‘ পানু রায় হেসে বললেন,’ ঠিক আছে। সুবিচারের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকুন।‘ পানু
রায়ের ফোন বেজে উঠলো। কালীকৃষ্ণের ফোন।
-মিঃ রায়। অনেক অনেক অভিনন্দন। কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই। সেদিন যে
গাড়িটা নিয়ে রেবার বাড়ি গিয়েছিলাম ঐ গাড়িটার যা দাম তার অর্ধেক দামে আপনাকে
বিক্রি করতে চাই।
-ঠিক আছে এক্ষুনি আমার অফিসে আসুন। আমার কাছে একটা ব্ল্যাঙ্ক চেক আছে।
ওটাতে অ্যামাউন্টটা বসিয়ে নেবেন।
সুন্দরী বললো,’ দাদু, তোমার সত্যিই জবাব নেই।‘










