0

কবিতা - অমিতাভ মুখার্জী

Posted in




















(১)

বিপিনের ভাবনার ভেতরে
হাত ছুঁয়ে স্পষ্ট বোঝা যায়
তার বিশ্বাস
তা নিয়ে সে অপেক্ষা করে—

ওই শিশু জন্মানোর পরে
তাকিয়ে থাকে উপরের দিকে
বিশ্বাসে বা অবিশ্বাসে—

বিপিন জেগে থাকে
ঘরেতে সব সময়ই
বা রাতে অযথা জেগে থাকে
লাগুল উপত্যকার কোন এক ঘরেতে—

বাইরে বরফ পড়ে
জানলার কাঁচের ওদিকে
চাঁদ
চিরহরিৎ ডালের জালে—

নিরবিচ্ছন্ন উজ্জ্বল আলো
আর বরফের ঠাণ্ডায়
পরিষ্কার রাত লাগুলে।


(২)

বিপিনের চলাফেরা
রাতের তরল অন্ধকারে
সমতল পাথর রাতের জলে
ডুবে থাকে—

তলের দিকে টলমল করে
সকালের জন্য
অপেক্ষা না করে—

সূর্যকে দেখতে পায় বিপিন
জলের মধ্য দিয়ে

আরেকটি হিমবাহ না আসা পর্যন্ত
জমাট বরফ লাগুলের পাহাড়ে।


(৩)

বিপিনের ঘরে মুখোশটি
নিজেই ধাঁধাঁয় পরিণত
হয়েছে—

চোখের ছিদ্র দিয়ে মুখোশের
ভিতরের উত্তাপ
বের হয়—

বিপিনের শ্বাসের শব্দ শোনা
যায়
বিপিনের মুখের চারপাশের
প্লাস্টারে ভিজে থাকে অন্ধকার—

আর চেষ্টা করে না বাইরের আলো
নেবার জন্য
গভীর অন্ধকারের বিরুদ্ধে
আর এক অন্ধকার—

মুখোশটি পরে যায়
বিপিনের মুখের ভিজে প্লাস্টার
হিমবাহে নরম হয়ে যায়
লাগুলের উপত্যকায়—

এক সংগীত ভয়ের পর্যায়ে
নেমে আসে
প্লাস্টারের দাগ রয়ে যায়
বিপিনের মুখে —

মুখোশটি আলাদা হয়ে
রয়ে যায়
লাগুলের এই বাড়িতে।

0 comments: