Next
Previous
Showing posts with label কবিতা. Show all posts
0

কবিতা - ব্যাঞ্জামিন দিতি

Posted in







আমাদের
দেখা হয়েছিল বছর সংক্রান্তিতে
ভাঙাচোরা জীবনের গল্পে গল্পে
পরিচয় হলো বীভৎস অতীতের
আঙুলের খাঁজে হিসেব কষলাম
কত বছর কত যুগ বিয়োগ হয়ে গেলো
জীবন থেকে।


স্বাভাবিক মানুষের থেকে তোমার আঙুলে
খাঁজ একটি বেশি
ঠিক আমার দুঃখগুলোর মত
হিসেবে বাড়ে বেহিসেবীর মত।


তুমি চড়ুই পাখির মত আমার বারান্দায়
বাসা বেঁধে নিলে
যেন আবারও ফিরে এলো কৈশোর
প্রথম প্রেমের অনুভূতি,
নববর্ষের রঙ নিয়ে ঢেলে দিলে
সমস্ত আবির ,,,
যেন স্বপ্নের জীবন
প্রেমিকের বাহুডোরে বন্ধী হওয়ার লোভ ।


কবিতার মত কথা, হাজারো প্রতিশ্রুতি
বারবার শুনে শুনে মুখস্থ হয়ে যাওয়া
তোমার পাঠানো কণ্ঠস্বর, অঙ্গীকারনামা
এত কিছুর কিছুই আর অবশিষ্ট রইলো না
না প্রেম, না অঙ্গীকার না তুমি ।


আমাদের পৃথক করে দিলো কে?
সময়ের কাঁটাতার?
দায়িত্বের বেড়াজাল? নাকি
স্বার্থের মায়াজাল ?
0

কবিতা - সিয়ামুল হায়াত সৈকত

Posted in







আকুলতা ও সময়ের মিথ্যে দিনগুলো নিয়ে,
বিস্তর আলাপে বসে ক্লান্ত ব্ল্যাকবোর্ড। পায়ের কাছে পরে থাকে চোখ।
আড়াল হতে দেখে বয়সের ভাঁজ, ঠোঁটের চিবুক-
প্রেম এখানে দোটানায় বড় হয়
আমরা মেখে চলি চক্রব্যূহর পরিত্যক্ত দিন।

এসো মন নিয়ে বেড়াতে, নদী হয়ে সমুদ্রর কাছাকাছি
হাওয়ার মতো উড়ে চোখ বন্ধ করে
0

কবিতা - ইন্দ্রাণী সরকার

Posted in








তোমার চলে যাওয়ার পথের দিকে
তাকিয়ে থাকতে থাকতে
হাসনুহানার সুবাস মাখা রাত পার হয়ে যায়
দক্ষিণের বারান্দায় ঝুমকোলতা
ঘাড়ের ওপর ঝুঁকে পড়েছে
চাঁদের আলোয় রাস্তার আলো মৃদু হয়ে আসে
ঘুম যেন আসে না তাও চোখের পাতা জড়ায়
ঘরে ফিরে চোখ বুজে তোমার
শান্ত মুখখানি ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ি
আলোছায়ার নিভৃতে তোমার নাম ।

0

কবিতা - আর্যা ভট্টাচার্য

Posted in




















১)
তথাপি তেমন জ্যোৎস্না ছুঁলে
লাভাস্রোত বয়ে যায় কাশবন জুড়ে।
পথে নামে বাঘ ও হরিণী বেড়া ভেঙে।।
তুমি তো তেমন যুবা নও
আমাকেও বয়স ছুঁয়েছে...


২) 
বিচ্ছেদ হয়েছে কবে! যেন কতো সৌরবর্ষ আগে! কলঙ্ক চিহ্নের মতো তাহার অস্তিত্ব টুকরো আমার অন্দরে তবু আছে।


৩)
চকমকি পাথর ছড়ানো,আগাছা জংগল।
অপেক্ষায় পথ হয়ে যাবে,জ্যোৎস্না তুমি ছুঁলে।


৪)
ভালো যে বাসোনি তাও বলেছো নিশ্চিত অনাদরে,
মান্দাস ভেলায় যায় সর্পদ্রংস্ট্রা গাঙুরের জলে।


৫)
আকাশের দিকে চেয়ে প্রদীপ নিজেকে মেলে ধরে,
তেমনই বাঁধনে আছি তুমি আমি, একই শহরে।


৬)
পাতা ছিল রিক্ত দুটি হাত। তোমার দু’হাতে ছিল ভাণ্ডপূর্ণ অযুত অমৃত।
স্বভাব কৃপণ তুমি, ভুলেছিল এ কাঙাল মন।।


৭)
কিছু ঠিক ভালোবাসা, ঠিক মানুষের সাথে; বেঠিক সময়ে আসে বেঠিক বয়সে।


৮)
এই রাত, এই বৃষ্টি, ঘন অন্ধকার ; আবার আনছে ডেকে প্রথম দেখার স্মৃতি তোমার আমার।


৯)
ভিড়ে ঠাসা এ শহরে, এতো মানুষের ভিড়ে, বসা তো দূরের কথা দাঁড়ানোই দায়;
তবু্ও শূন্য ফাঁকা, যখন শহর ছেড়ে তার ট্রেন ধীরে ধীরে হাওড়া পেরোয়।


১০) 
নিঃশব্দ অন্ধ শূন্যতায়
প্রেমের অলীক বুদ্বুদ,
সময়ের ঠ্যালাগাড়ি বয়ে
নিয়ে যাবে কতদূর!!


১১) 
আজ্ঞাচক্রে মৃদু মৃদু অমৃত ক্ষরণ। অন্ধকারে আজও জানি জেগে ভালোবাসা।।
0

কবিতা - অমিতাভ মুখার্জী

Posted in

ড্রামে কাঠি দেওয়া মাত্র,
শাড়ির সরু পাড়ের মতো
সকাল—

রিভিকা টোস্টটারের কাছে,
টোস্ট পুড়েছে—

ড্রামে কাঠির দ্বিতীয় স্ট্রোকে,
রিভিকা গাড়িতে—

ড্রামে কাঠির স্ট্রোকে স্ট্রোকে,
ভালো-মন্দের বাঁধনে,
কাজের নাচনে সারাদিন—

সন্ধেতে বাতাসের নরম ফিতেয়,
মোমবাতি জ্বলে নিজে নিজে,
আগুনের উজ্জ্বল বাদামী রঙ
রিভিকার লম্বা চুল জুড়ে,
নীলাভ ঝর্না নন্দন চত্বরে—

অ্যাপ্রিকট ও জলের সাথে
মিশে আছে সিগারেট,
বালি, পাথরের চত্বর ছেড়ে,
রিভিকা সহজেই হাত ধরেছিল—

পৃথিবীর ইটভাটার পাশে,
পিছু হাঁটা সন্ধে সাক্সোর আওয়াজে,
থেমে যায় সন্ধে দ্বিতীয় হুগলী ব্রিজে—

বাসগুলোর কামনা
ও গাড়িগুলোর কোমল কম্পনে,
ড্রামের বীটগুলো আবেগ,
নিঠুর ও মায়াবী—

কী-বোর্ডের তিক্ততায়,
লাল রিসিভারের বিচ্ছন্নতায়,
মান ভাঙাতে মিশুকে বেড়াল --

রিভিকা নেই, ফিরে যায় গাড়ি
থিয়েটার রোড পেরিয়ে—
নীলাভ ঝর্নায় সন্ধে একাই ট্রাম্পেট।
1

কবিতা - অমিতাভ মুখার্জী

Posted in




















(১)

বিপিনের ভাবনার ভেতরে
হাত ছুঁয়ে স্পষ্ট বোঝা যায়
তার বিশ্বাস
তা নিয়ে সে অপেক্ষা করে—

ওই শিশু জন্মানোর পরে
তাকিয়ে থাকে উপরের দিকে
বিশ্বাসে বা অবিশ্বাসে—

বিপিন জেগে থাকে
ঘরেতে সব সময়ই
বা রাতে অযথা জেগে থাকে
লাগুল উপত্যকার কোন এক ঘরেতে—

বাইরে বরফ পড়ে
জানলার কাঁচের ওদিকে
চাঁদ
চিরহরিৎ ডালের জালে—

নিরবিচ্ছন্ন উজ্জ্বল আলো
আর বরফের ঠাণ্ডায়
পরিষ্কার রাত লাগুলে।


(২)

বিপিনের চলাফেরা
রাতের তরল অন্ধকারে
সমতল পাথর রাতের জলে
ডুবে থাকে—

তলের দিকে টলমল করে
সকালের জন্য
অপেক্ষা না করে—

সূর্যকে দেখতে পায় বিপিন
জলের মধ্য দিয়ে

আরেকটি হিমবাহ না আসা পর্যন্ত
জমাট বরফ লাগুলের পাহাড়ে।


(৩)

বিপিনের ঘরে মুখোশটি
নিজেই ধাঁধাঁয় পরিণত
হয়েছে—

চোখের ছিদ্র দিয়ে মুখোশের
ভিতরের উত্তাপ
বের হয়—

বিপিনের শ্বাসের শব্দ শোনা
যায়
বিপিনের মুখের চারপাশের
প্লাস্টারে ভিজে থাকে অন্ধকার—

আর চেষ্টা করে না বাইরের আলো
নেবার জন্য
গভীর অন্ধকারের বিরুদ্ধে
আর এক অন্ধকার—

মুখোশটি পরে যায়
বিপিনের মুখের ভিজে প্লাস্টার
হিমবাহে নরম হয়ে যায়
লাগুলের উপত্যকায়—

এক সংগীত ভয়ের পর্যায়ে
নেমে আসে
প্লাস্টারের দাগ রয়ে যায়
বিপিনের মুখে —

মুখোশটি আলাদা হয়ে
রয়ে যায়
লাগুলের এই বাড়িতে।
0

কবিতা - সুজিত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

Posted in







বিপ্লব,ও বিপ্লব বাড়িতে কি আছো?
মাটির ওপর কাটছে মানুষ দিন।
রাত কাটাবে গাছের তলায় বসে।
তোমার কথাই ভাবছে জেগে রাত।
আসবে কখন পেটের খিদে নিয়ে!
সেইজন্যেই চুলোয় জ্বলে আগুন,
তাত্ লাগে তার ঘুমন্ত বুক মাঝে।
সেই তাতে-ই পেটের ক্ষিধে বাড়ে,
ডাকছে তোমায়,"বিপ্লব কি এলে"?
উত্তর দাও, কিছু একটা বলো।
নইলে ওদের রাতগুলো কাটবে না।
দিন কাটাতে আবার পিষ্ট হবে,
মানুষ, সে ত' মানুষই থাকবে না।
0

কবিতা - ইন্দ্রাণী সরকার

Posted in







অসামান্য যে সকল প্রাকৃতিক আভরণ
তার থেকেই কবিতার উৎপত্তি
বসন্ত ও রোদ থেকে তাদের গ্রন্থনা

একটি নদীর বাঁক আমায় ভাসিয়ে নেয়
জলের আয়নায় মুখ দেখা সারস
আমার কবিতার সত্ত্বাকে জাগিয়ে তোলে
হওয়ার ফিসফিসানি আমায়
বারবার ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়

পদ্মপাতায় টলমলে জল আর শিশিরকণা
মাঝে ভ্রমরের আনাগোনা আমায় উদাস করে
অনন্ত আকাশের বুক জুড়ে শুধু একটি চাঁদ
আর বহুদূরে মিটমিট জ্বলে কতিপয় তারা
যে কটি চোখে পড়ে, তাই আমি মন্ত্রমুগ্ধের মত দেখি
এরই মধ্যে থাকে হাজার কবিতা।

0

কবিতা - সুজিত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

Posted in








সেইদিন পৃথিবী ছিল সবুজ।
সেইদিন সুখের রঙ ছিল নীলাভ।
সূর্য্য ছিল রক্তিম আভায়।
রোদ ছিল পৃথিবীর আনাচে-কানাচে।
মানুষের খাদ্য ছিল পৃথিবীর
আদাড়ে-বাদাড়ে।
আজও পৃথিবীতে আছে রোদ, হাওয়া,জল,
বাদাড়ের ঝাড়ে গাছ আছে,
ডাল আছে গাছের বিস্তারে।
তবে ফল নয়, নয় কোন ফুল,
গাছের পাতার ফাঁকে ঝোলে পোড়া দেহ,
আদাড়ে মানুষ আর
খোঁজে নাকো বাঁচার রসদ।
কাটা হয়ে গেছে আদাড়ের ঝাড়।
শূন্য সে’ স্থানে গড়ে ওঠা সাজানো
সভ্যতার মুখোশ পড়ে আধুনিক মানুষ
সেখানে জ্বালায় দ্বেষের আগুন।
0

কবিতা - তীর্থঙ্কর সুমিত

Posted in








কিছু বলার থেকে
চুপ থাকাটাই শ্রেয়
মতামতের পেন্ডুলামে সময় আটকে আছে
ইতিহাসের চোরাস্রোতে
তাই এখনও জোয়ার কিম্বা ---
মনে পরে যায় ফেলে আসা অতীত
মুখে - চোখে
বিবর্ণতায় ঢেকে যায় শহর
তোমার কথায় জেগে থাকা রাত
অন্ধকারে মাখামাখি বারুদ এখন !

তারা খসার আলোয় নিজেকে দেখি।
0

কবিতা - অমিতাভ মুখার্জী

Posted in








হে বৃক্ষ,
শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে
হাওয়ার মাদলে পাতাগুলো
নেচে উঠলেই
মৃত্যুর জন্য দিন গুণতে শুরু করো
অর্জুনের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য
কর্ণের যে রথ তৈরি হয়েছিল
তা তোমাকে দিয়েই
আর অর্জুন যে ধনুক ও তীর দিয়ে
কর্ণকে বধ করেছিল
তা তৈরি হয়েছিল তোমাকে চীরেই
যে গীটার নিয়ে গান গেয়ে
জোন বায়েজর জগত জোড়া নাম
ওই গীটারও তোমা থেকেই
ডাইনিং রুমে খাবার সাজানো
থাকে
টেবিলের উপরে
তুমিই নানা রকমফেরে
ওই বাহারি টেবিলগুলো
সরু করাতের
সোহাগ ছোঁয়ায়, চীরে
নানা মাপে সাজিয়ে রাখে
নানাজনের জন্য
নিজেকে মেলে রাখাই তোমার কাজ
নানা আকারের গুঁড়ি হয়ে
নিতে থাকবে দরকারে
ঠিক মাপে কেটে নিয়ে
নানা মাপের সারি
হওয়ার আগে কথাগুলো
মুখে থেকে
আলজিভতেই আটকে থাকে
সেই কথা বেরিয়ে আসেনি
সবার সামনে
মরণ ছোঁয়ার আগে
ওই পাতাগুলো
নজরে আসে
যাওয়া-আসার সময়ে
বা

সোহাগে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে
কিন্তু ওদের কোন পরিচয় নেই
হে বৃক্ষ,
রোদ্দুরের রূপালি চেহারায় বা
অমাব্যসার অন্ধকারে
দিক দিগন্তের বাতাসে
আশ্বাস পাই
দিনে বা রাতে
গোল টেবিলে বসার জন্য
শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে
সারি সারি
নজরবন্দী কাঠ ছাড়া
সহজে আর কিছু মনে
করতে পারি না
তোমার নিজের মতো করে
দাঁড়িয়ে থাকাকেও
মনে করতে পারি না
শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে
হাওয়ার মাদলে পাতাগুলো
নেচে উঠলেই
হে বৃক্ষ,
মৃত্যুর জন্য দিন গুণতে শুরু করো
সারি সারি নজরবন্দী লাশ হবে, অবশেষে।
0

কবিতা - শিশির আজম

Posted in








প্রথমেই জানা দরকার বদলটা কীসের




একেকটা রাস্তার নাম তুমি পারো বদলে দিতে
কিন্তু ওরা বদলায় না
আর ওদের খিদেও কমে না


বরং তুমি গিয়ে বসো
ওদের রাতের ক্যাফেতে


আর ক্যাফের টেবিলগুলোর মাতলামি
সহ্য করো


হ্যা মাতালদের পাল্লায় পড়ে
তুমি আবার মেঝেয় গড়াগড়ি খেয়ো না
মেঝেয়
বিয়ারের ফোঁটা
রক্তের ফোঁটা
আর জানো তো এই ফোঁটাগুলোর
রকমসকম
কোনদিনই সুবিধের না



ব্যাঙের কেত্তন



সোনালি রঙের এক ব্যাঙের লগে এখন আমি দিন গুজরান কোর্তেছি
ভাবভালোবাসা ঠোকাঠুকি মিথ্যাচার
ও ওয়েট করতে জানে ওর সহ্যশক্তি অসাধারণ
ও জানে আমার ঈষৎ উঁচাপেট বডিটা বেশিক্ষণ
ওর এ্যান্টিকিউবিক দেহের ওপর নর্তনকুর্দন চালাইতে পারবো না
ওইটা ক্লান্ত হয়া পড়বে
আর আমি আমার তেলাপোকাগুলারে ঢুকাইয়া রাখি
আমার জুতার ভেতর আমার ঘামগন্ধওলা মোজাগুলার লগে
ওকে সুশ্রী বলা যাইতেই পারে আর বিবর্তনবাদী
আর এ্যাথলেটিক
চিন্তাদর্শনে চমক আছে প্রিমিটিভিজম আছে
অরে আমি ভালোবাইসা ফেলছি
ঘৃণা করছি জানাইছি আমিও অতিভৌগলিক
বৃষ্টিতে জানলাগুলার সার্ত্রভক্তি
আমার মাথা এলোমেলো কইরা দেয়
মাথার আর কি দোষ
স্বামী বিবেকানন্দের দারস্থ হইতে পারি কিন্তু ওনার ষোড়ষী রক্ষিতা
অসুস্থ তো
নিশ্বাসের কাছে শেয়াল
এদিকে সমস্ত দেয়াল আনকোরা রং করা
মুছে যায় যাক কৌমকহন
আমি কি ফের বিয়ার ফ্যাক্টরিতে চাক্রি নিবো
ইয়ে মানে এখন আমার সর্দিটর্দি লাগে না





চোখের বালি



১|
আমি আর কুয়াশা আলটিমেটলি ঘুমাইছি
না কি ঘুমাইনাই
ভোরের ঘাসে কুকুর
ডাকতিছে কখন আমার জানা নাই




২|
ঘাসের পাশে ঘুমায়ে আছে ঘাস
সারা বিকেল নিবিড় চাষবাস
জানি বউ আমারে খুবই ভালবাসে
বউরে তাই আমি রাখি না পাশে




৩|
কিঞ্চিত কসরত কইরা বিয়ার বাগাইছি
আকাসে মেঘ নাই আকাশ চুপচাপ
জোনাকপোকা বনে
ঘাসের বুকে সাপ






নেভানো বাতির অন্ধকার সব গিলে ফেলে যদি



দীপ নিভিয়ে যাদু খেলবে --
কে সে? কে সে?
কাঁচা পালঙ ক্বড় ক্বড়া ক্বড়
পড়বে খসে।


বাকবাকুম বাঁক মাড়িয়ে
ডাকলে আমায়
লিপস্টিকের রঙ লাগালে
ফরসা জামায়।


রোদের পেটে শামুক-ঝিনুক
কাশের প্রলয়
লোভ দেখালে হাঙর-চোয়াল
সমুদ্রময়।


হিম রাত্তিরে পার হয়েছে
শেয়ালগুলো
স্বপ্ন কেবল শুধুই স্বপ্ন
জ্বলবে চুলো।


দ্বিধায় পড়লে? মানছো না কি
পালঙচ্যূতি?
আমার বাপু এতেই জীবন
এ-ই বিভূতি।


সকল বিন্দুই কুমড়োতলা
অমানবিক লোহার শলা।






ভিখিরিপনা



নগ্ন অপরিচিত দুজন
শয়তানের দাগানো আয়নার সামনে
আত্মত্যাগের কথা
তোতলানো নখেরা কী বলবে কাকে বলবে


দুটো পবিত্র প্রাণি
১|| গরু
২|| শুয়োর
দুটোই যৌন আচরণে মানুষের সমধর্মী


ঝিনুকের খোলের ভিতর পোড়া মাংসের সৎকার
সমুদ্র শোনা
একটাও ভিখিরি নেই
যে লোভাতুর চোখে তাকায় পৃথিবীর দিকে


এই প্রতিজ্ঞাই করেছিলাম
যে আমরা মরবো
আর বাড়ি ফিরবো

যথার্থ শয়তানের মতো
0

কবিতা - সুজিত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

Posted in







তোমায় ছেড়ে আসার সময়ও, জানি আমি,
তোমার যাপনে জমা আছে
আমার যাপিত কিছু স্মৃতি
যা গড়েছ মোর অবয়ব
নিঃস্বার্থ নীরবে। কিংবা তোমার
অবক্ত্য আনন্দে। শুধু আমায় বলেছ,
তার গোপন যন্ত্রণা। গোলাপ কাঁটার মতো
রক্তাত্ব করে, তবু নীরব সুরভি তার
বাতাসে বাঙ্ময় হয়ে আছে, মনের গহনে।
জানি ওরা, কাফনে ঢেকেছে এই দেহ।
এইবার অর‍্যর বা বৈশ্বানর সূচিশ্রভ্র
করবে আমায়। তবু সে ত শেষ নয়,
কাফনে ঢাকার আগে আমি রেখে গেছি
সবকিছু তোমাদের কাছে। সেই স্মৃতি,
সেই কথা, সেই ভালোবাসা।
শুধু কৃশাণুর স্পর্শ মোরে ঢেকে দেবে
সূর্য নদী ভুপৃষ্টের মাঝে
0

কবিতা - ইন্দ্রাণী সরকার

Posted in








মেঘেদের ভেসে থাকা বিকেলে ডুবে যাই নীরব মায়ায়
ধূসর আকাশে তখনো আলোর রূপময় ঝলকানি
মাটিতে কত শত ফুলেদের বৈচিত্র্যময় সমাবেশ
আকাশের কালো ছায়া গাঢ় হয়ে পড়ে নদীর বুকে
পাখিরা বিচিত্র শব্দ করতে করতে উড়ে যায় নীড়ে
আমার একাকীত্ব নির্জন হয়ে আসে ধীরে ধীরে
এই সব সুন্দর মুহূর্তে কবিতারা চুপিচুপি কথা বলে
আমি মোহিত হয়ে পড়ি প্রকৃতির সান্ধ্যকালীন আবেশে


0

কবিতা - সমরেন্দ্র বিশ্বাস

Posted in

কোকিলের কঙ্কাল কি ক্ষয়িত ঋতুর বাদামী সিন্দুকে?
বসন্তকাল আজ থমকে আছে
কোলকাতার একটা হেলে পড়া বিপদজনক বাড়ির পাঁচিলে!
সভ্যতার সেমিনারহল, ইটপাথর - ঐ দেখো ভয়ে ভয়ে কাঁপছে
দুমড়ে পিষে যাবার কুক্ষণে ঋতুহীন বসন্তের নির্মম আর্তনাদে!
গত সন্ধ্যায় কিছু মানুষ এ পাড়ার পূর্ণিমার চাঁদটাকে
পোড়াচ্ছিল এসপ্লানেডে, যাদুঘরের সামনে ফেস্টুন জ্বালিয়ে।
আজ দোল। মধুমন্তী, এই সকালে তুমিও কি রঙ খেলছো?
তোমার কাপড়ে, তোমার কপোলে যে রঙ
সেখানে অনেক আগুন, অনেক অনেক লজ্জা -
প্লীজ, আমাকে আজ রঙ দিতে এসো না! আমিও দেবো না।
যে কোনো রঙের প্রত্যেকটা বিন্দুতে আজ বিমর্ষ কান্না,
শুনতে কি পাচ্ছো না, লাল আবীরের জীবন্ত কণাগুলো এখনও
তিলোত্তমাদের মর্মান্তিকতায় আর্তনাদ করে কাঁদছে!
0

কবিতা - কোহিনূর মিত্র

Posted in







তীব্র চোখের পাশে
কাছে টানা ঠোঁট
বেশ ভালো,তবে
সবচেয়ে প্রিয়তম
অন্যকিছু তোমার শরীরে
দু উরুর মাঝখানে
প্রবল আলোর মহাদেশ
2

কবিতা - অমিতাভ মুখার্জী

Posted in


কিঙ্কর কবি নয়

কিঙ্কর সেই ভাস্কর
যে সিমিকার শরীরকে মাটি দিয়ে
ভাস্কর্য তৈরি করে

কাঁপা কাঁপা হাতে
সিমিকার ছায়াকে মূর্ত করে
মূর্তিতে পরতে পরতে

যে জানে না
বিশ্বাস করবে না
কেবল তার ভালোবাসার সাথে
আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করে কিঙ্কর

সে কবি নয়...

কিঙ্কর সেই ভাস্কর যে
সিমিকার অঙ্গভঙ্গি নিজের
মধ্যেই আছে

যে তার ত্বকের প্রতিটি
বক্ররেখা ও দেহের প্রতিটি
বাঁকের মিলনকে জানে
যে সিমিকার সামনে তার রূপকে
চুম্বন করেছে

না, কিঙ্কর কবি নয়
সে পদ্য লেখে না
সে সিমিকাকে ভাস্কর্যে
গড়ে তুলেছে

কিঙ্কর সিমিকাকে সামনে
বসিয়ে
ওর ঘরে নীরবতার সাথে
ভাস্কর্য সৃষ্টি করে

কিঙ্কর চায় না
ওর পৃথিবীর বাইরে
বুঝতে না পারে যে
জলের ফোঁটায় ফোঁটায়
পাথরের খাঁজে খাঁজে
তারই স্নেহ-প্রেমে
সিমিকারই ভাস্কর্য

সিমিকার নিখুঁত সৌন্দর্য
খোঁজে না কিঙ্কর
সে তার জীবনের প্রাণোচ্ছল
দুঃখের, অভিমানের প্রতিচ্ছবি
যা তার জীবনকে আলোকিত করে
মূর্তির ভাস্কর্যে জীবন্ত করে সিমিকাকে’

সিমিকা ভাঙা গলায়
কথা বলা খসে খসে আওয়াজে
সেই অসম্পূর্ণতা কাছে টেনে
রেখেছে কিঙ্করকে

সিমিকা থেকে গেছে
তার সাথে
তার ভাস্কর্যের মূর্তির
তৈরির সাথে

সিমিকা যদি চলে যায়
কোনদিন
কিঙ্কর তার স্মৃতিকে
বাতাসে ঢালাই করতে থাকবে

সিমিকার প্রেম কাগজে
খোদাই করা যায় না
সময়ের সাথে থাকে
কিঙ্করের ভাস্কর্যের সৃষ্টিতে

কিঙ্কর কবি নয়।

0

কবিতা - অভিরূপ মুখোপাধ্যায়

Posted in






তোমার নয়ন শয়নে মোর
জীবন হলো গো সার।
মরমে নুতন প্রেমের আবেশ
প্রবীণ প্রবেশ 'পার।

যেমন করে ভোরের ঘোর
আলোক ডোর বারে।
সারে সারে গুঞ্জরিনী
গুঞ্জরিয়াই মরে।

তেমন করে মনোহর
হরিণী পলক হরে।
তেমন করে নিরস জীবন
উথলী উথলী পড়ে।

নীরদ গগনে তরঙ্গ তিমির
সঘনে কাঁপানু দ্বার।
তেমন করে নাবিকের কাছে
মানিবে নলিনী হার।
0

কবিতা - ইন্দ্রাণী সরকার

Posted in








বিদেশী ফুল


সহজাত মৃত্তিকায় প্রস্ফুটিত হতে চেয়ে
সুবাতাস পেল এক গুচ্ছ বনজ ফুলের

শীতের হাওয়ায় কবিতার মৃদু ছোঁয়ায় যে
পূর্ণায়িত সকাল, দুলিয়ে গেল শীর্ষমঞ্জরী

কোকিলের কুহু তান ভরিয়ে দেয় আকাশ
সোপানে নেমে যাওয়া ঘাটের নিচে তরী

আঁধার নেমে আসে আলোকোজ্জ্বল বাগানে
শিশুতোষ বুকে নেওয়া ম্লানমুখ রমণীর ।।
0

কবিতা - অন্তর চন্দ্র

Posted in








স্কেল নিরপেক্ষ
রেখা টেনে কাঁধে নিল, আমাদের

সূত্র- রক্ত প্লাস হিমোগ্লবিন কার্পেট
দৈর্ঘ্য- ঐক্যের একক প্রার্থী
প্রস্থ- সাড়ে তিন হাত ভূমি

রিখটার স্কেল
সমান্তরাল চোখের জ্যোতি ফেলতে জানে

চোখ আমাদের, তীর্থস্থান
স্নান সেরে ফিরে এলে, প্রণাম করি