Showing posts with label কবিতা. Show all posts
কবিতা - অমিতাভ মুখার্জী
Posted in কবিতাভারকালা সমুদ্রের সৈকতে
সকাল, প্রণতি ক্যাফেটেরিয়ায়,
কফির কাপ সামনে—
বিন্দু বিন্দু ঘাম প্রণতির কপালে
টুরিস্ট গাইডের মতো হালকা হাসিতে
চেয়ে দ্যাখে সমুদ্রকে —
নিজের ভেতরে তিনটি ছায়ার থেকে
নিজেকে সরিয়ে রাখে —
সব কিছু থেকে নজর ছেনে চোখ
পড়ে—
চারটে পাথর ইচ্ছের বিস্ফোরণে
জড়িয়ে আছে একে অপরকে—
চোখের সামনে দেখেছে
কত রকমের ভালোবাসা
থাকতে পারে, চুল-খোলা পৃথিবীতে—
কত ভিন্ন ধরণের
মেলামেশায় ভালবাসতে
পারে চারটে পাথর নিজেদেরকে
জলের গন্ধে—
প্রণতি নিজের মধ্যে
আচমকাই ফিরে আসে
বেশ কিছু মেয়ের চিৎকারে—
প্রণতির কি আন্দাজ আছে?—
ওদের ভালোলাগায়,
ওদের ভালোবাসায়,
কতটাই বিস্ফোরক আছে?
পাথরের উপরে
সূর্যের নাস্তিক আলোয়
রোদ্দুরের আভাস ছিল
প্রণতির উপরে—
সূর্য ডোবে বোতামের শব্দে
ভারকালা সমুদ্রের সৈকতে—
তখনও আলো লেগে আছে
স্বেচ্ছায়, ওই পাথরের গায়ে—
প্রণতি নিজের শরীরকে
নির্বাসনের আলোয়
যেভাবে যতনে রাখে—
সেভাবে
আলিঙ্গন করে একটি ছায়াকে
তার শারীরিক উপস্থিতিতে—
চারটে পাথরের আলিঙ্গন
আর প্রণতির আলিঙ্গন
তফাৎ করা যায়নি
নাস্তিক সূর্য, নিজের আস্তিন
গুটিয়ে ফেলার পরে।
কবিতা - কুমকুম বৈদ্য
Posted in কবিতাএকটি ফুরিয়ে যাওয়া দুঃখ জমিয়ে
রাখতে হয়
এক ফোঁটা কালো মেঘ যেমন বর্ষা
ফুরানোর পরে
মাঝে মধ্যে পাড়তে হয়
সুখের লোভে -
মাঝে মধ্যে বিশ্রাম নিতে নিতে থাবা চাটে
যেমন বিড়াল
সেই দুঃখ থেকে সুর হয়
নতুন রকমে
শুধু অন্ধ ভিখারির কাছে
সুর থাকে ঈশ্বর প্রদত্ত
কবিতা - অমিতাভ মুখার্জী
Posted in কবিতাতিথিকা তোমার লোভহীন পৃথিবীকে,
মেয়েমানুষের মতো তুমি ভালোবাসো,
তা তুমি বলেছো—
হ্যাঁ, আমার পরাজিত পৃথিবী,
নির্দিষ্ট ঠিকানায় দাঁড়িয়ে থাকে
পাতাল গর্ভে, বেরিয়ে আসে বিষণ্ণে,
নাস্তিক শরীরে—
তোমার ভালোবাসার নিরপেক্ষ মন
জয়ী নয়, সেই মনে কস্তুরীর ঘ্রাণে
বিড়াল চলে যায় নিঃশব্দে,
অবশ্যই টের পাওনি—
তোমার মন—
পাতাল গর্ভ মনে রাখে,
দুটো আলোর বিন্দুদ্বয়ে—
মেলে দাও টুকরো টুকরো বিস্ময়ে
আর আলো ও অন্ধকারের গোলাপের পাপড়িকে—
অবসর প্রাপ্ত মনুমেন্টের
একা দাঁড়িয়ে থাকার পাগলামি
ছুঁয়ে যায় আকাশকে—
তাই দেখে তিথিকা তুমি বলতে,
ডানদিকে দাঁড়িয়ে সহ্য করেছো,
চার দশকের অনেক পাপপুণ্য—
তিথিকা, তুমি তো বলতে
শীতের রাতে, রাস্তার ধারে
কাপুরুষ কাঠগুলোকে, ঘন আগুনে পোড়ায়—
বোঝা যায় ওদের দুঃখকে—
তাতে তুমি দুঃখের ছদ্মবেশে
মন খারাপ করতে না—
ব্যস্ত সময় এলোমেলো অন্ধকার
সরিয়ে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
নিজের নাম ধরে নিজেকে ডেকে
অহংকারী মনে করতে—
তিথিকা, সেই পাপপুণ্যের মর্মে,
প্রশ্নগুলো নিয়ে বুকের মধ্যে
হাসির ডানা মেলে—
আমাকে বোঝাতে আপত্তি করতে না
পরাজিত পৃথিবীতে আমি তমস্বান হয়ে
ছুটে এসেছি—
আমি জংশন বারে বসে যাবতীয়
পার্থিব প্রশ্নের উত্তরগুলো দিয়েছি
স্রোতহীন বাতাসে—
আর উত্তরগুলো
ইলেশে গুঁড়ি বৃষ্টির মতো উড়ে যায়—
চঞ্চল হাওয়ায়,
সময়ে ও সময়ের মর্মে মুখোমুখি
দাঁড়ালে—
চার দশকের
তোমার লোভহীন পৃথিবীতে,
তোমারই আঙ্গুলের ছোঁয়ায়
বিস্ময়ের টিপ,
তোমার কপালে তিথিকা—
তা আমি দেখতে পেয়েছিলাম
নির্দিষ্ট ঠিকানায় দাঁড়িয়ে...
কবিতা - ইন্দ্রাণী সরকার
Posted in কবিতাভালো লাগে খুব ভালো লাগে
তোর ঠোঁটের মিঠে চুমু,
চুমুকে চুমুকে শুষে নিই
সব রঙ ওই করমচা ঠোঁটের ।
ভালোবাসার প্রদীপ জ্বেলে দিয়েছি
সারে সারে অলিন্দে অলিন্দে
দেওয়ালী রাতে তোকে জড়িয়ে নিই
আমার মিহি আঁচলে ।
মোমবাতি ছেড়ে জ্বেলেছি ঘিয়ের প্রদীপ,
তোকে দেখি চেয়ে চেয়ে অবাক হয়ে
নিভু নিভু প্রদীপের আলোয় ।
যদি হাওয়াতে নিভে যায় আলো
জড়িয়ে নেবো এই দু' হাতে
তোর চন্দন মাখা মুখ
কানে কানে চুপিচুপি
ফিসফিসিয়ে বলব,
"ভালোবাসি, ভালোবাসি
শুধু তোকেই ।"
কবিতা - কোহিনুর মিত্র
Posted in কবিতাসে শুধু ফাটল ছিল
উত্তরে দক্ষিণে পুবে পশ্চিমে
সুযোগ মতো চওড়া হয়ে
গভীর হয়েছে ক্রমে
সবাই চেনে, দেখে
চায় না কেউ-ই
অপেক্ষায় থাকে
ও বাড়ি গিয়ে উঠবে
নতুন ভাবে ছড়াবে
ফাটলের ডালপালা
কবিতা - সিয়ামুল হায়াত সৈকত
Posted in কবিতাআদরের হিসেবে নাক কাছাকাছি ছুঁয়ে
ঠোঁটের স্তুতি করে বেহুলা সময়।
তোমাকে নিয়ে পাড়ি দেয়— সমুদ্রজল ও ফিনিক্স পাখির দল;
ভুল ভাবতে ভাবতে নিঃসঙ্গ দেউলিয়া
আমার এ মন— আমি তোমাকে হারাতে বসি!
ডার্টবোর্ড গেম খেলে ব্যায়াম করে মন,
সম্বন্ধ ভুলে লেপ্টে থাকে তীরের চোখ।
আর ভুল মনে নিজেকে রাখি—
বেহুঁশ হতে হতে অদৃশ্য ককপিটে।
কবিতা - ইন্দ্রাণী সরকার
Posted in কবিতানির্জনতার কোন নিখুঁত প্রহরে
জোছনা প্লাবিত এক রাতের গায়ে
লিখে দেব তোমার নাম মৃদু ভালোবাসায় ।
চাঁদের মুগ্ধ রূপালি আলোয় একরাশ
শুভ্র ফুলের পাপড়িতে গেঁথে নেব
মনের যত ভাবনার সমাহারের আলেখ্য
এক অনবদ্য সুরেলা মূর্ছনার গভীরতায় ।
মোহিত যত তারা, অবসাদগ্রস্থ মেঘেরা
অবাক হয়ে দেখে নেবে এ সমাহিত প্রেম,
পৃথিবীর মানুষ স্বর্নাক্ষরে লিখে রাখবে
সে অমর প্রেমের কথা স্বরলিপির ব্যঞ্জনায় ।
কবিতা - অমিতাভ মুখার্জি
Posted in কবিতারামরায়ের বিমূর্ত ছবি দশফুট দেয়ালে,
হেঁটে হেঁটে সারা রাত
শহর কোলকাতায়—
আরেক পরীক্ষার অপেক্ষায়,
তারা
বৌবাজারের মোড়ে—
পসার সাজাচ্ছে খান্নার সামনে,
ভোর থেকে কেনাকাটায়,
পেট কাপড়ে ধার না থাকে—
চাকা কাঁপে রাস্তার ফাটলে,
লুকিয়ে থাকে কোলকাতার দেমাক
যানজটের কোলাহলে—
ভেতরে ভেতরে ইচ্ছেতে
ভোরতে, হিঙের কচুরি-ডালে,
চামচ মুখেতে—
বিষ পিঁপড়ে চোখে পড়ে
সকালের আকাশে—
নাচছে ওই নীল আকাশ
অবাধ জ্যামিতিতে—
মেঘ ভেসে বেড়ায়
সজাগ বারান্দা ছেড়ে—
ওই লোকগুলো সোজাসুজি
বাঁকা রাস্তায় নিত্য কাজে,
ওদের দেখা পাবে না
আর কোনদিনে—
নরম হাঁটু ভেঙে
কাত হয়ে যাবে নিজেদের ডেস্কে—
সকালের সঙ্গ ছেড়ে ওই মেয়ে
রাস্তা পেরিয়ে ঝুঁকে পড়ে
অন্য মেয়েদের সাথে—
দিনের কাজ ভাগ করে
দেমাক বেড়ালের ডাকে—
গোপন ফুর্তিতে শালিক
লাফিয়ে বেড়ায়
শান বাঁধানো ঠাকুর বাড়িতে—
সঙ্গিনীর দুই আঙুলের মাঝে
জ্বলছে সিগারেট
ধোঁয়ার ঘূর্ণি আপন ইচ্ছেতে—
পোড়া পেট্রোলের দুঃখমোচনে,
রামরায় প্রহরী
ভেজা রাস্তায়।
কবিতা - ব্যাঞ্জামিন দিতি
Posted in কবিতাআমাদের
দেখা হয়েছিল বছর সংক্রান্তিতে
ভাঙাচোরা জীবনের গল্পে গল্পে
পরিচয় হলো বীভৎস অতীতের
আঙুলের খাঁজে হিসেব কষলাম
কত বছর কত যুগ বিয়োগ হয়ে গেলো
জীবন থেকে।
স্বাভাবিক মানুষের থেকে তোমার আঙুলে
খাঁজ একটি বেশি
ঠিক আমার দুঃখগুলোর মত
হিসেবে বাড়ে বেহিসেবীর মত।
তুমি চড়ুই পাখির মত আমার বারান্দায়
বাসা বেঁধে নিলে
যেন আবারও ফিরে এলো কৈশোর
প্রথম প্রেমের অনুভূতি,
নববর্ষের রঙ নিয়ে ঢেলে দিলে
সমস্ত আবির ,,,
যেন স্বপ্নের জীবন
প্রেমিকের বাহুডোরে বন্ধী হওয়ার লোভ ।
কবিতার মত কথা, হাজারো প্রতিশ্রুতি
বারবার শুনে শুনে মুখস্থ হয়ে যাওয়া
তোমার পাঠানো কণ্ঠস্বর, অঙ্গীকারনামা
এত কিছুর কিছুই আর অবশিষ্ট রইলো না
না প্রেম, না অঙ্গীকার না তুমি ।
আমাদের পৃথক করে দিলো কে?
সময়ের কাঁটাতার?
দায়িত্বের বেড়াজাল? নাকি
স্বার্থের মায়াজাল ?
কবিতা - সিয়ামুল হায়াত সৈকত
Posted in কবিতাআকুলতা ও সময়ের মিথ্যে দিনগুলো নিয়ে,
বিস্তর আলাপে বসে ক্লান্ত ব্ল্যাকবোর্ড। পায়ের কাছে পরে থাকে চোখ।
আড়াল হতে দেখে বয়সের ভাঁজ, ঠোঁটের চিবুক-
প্রেম এখানে দোটানায় বড় হয়
আমরা মেখে চলি চক্রব্যূহর পরিত্যক্ত দিন।
এসো মন নিয়ে বেড়াতে, নদী হয়ে সমুদ্রর কাছাকাছি
হাওয়ার মতো উড়ে চোখ বন্ধ করে
কবিতা - ইন্দ্রাণী সরকার
Posted in কবিতাতাকিয়ে থাকতে থাকতে
হাসনুহানার সুবাস মাখা রাত পার হয়ে যায়
দক্ষিণের বারান্দায় ঝুমকোলতা
ঘাড়ের ওপর ঝুঁকে পড়েছে
চাঁদের আলোয় রাস্তার আলো মৃদু হয়ে আসে
ঘুম যেন আসে না তাও চোখের পাতা জড়ায়
ঘরে ফিরে চোখ বুজে তোমার
শান্ত মুখখানি ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ি
আলোছায়ার নিভৃতে তোমার নাম ।
কবিতা - আর্যা ভট্টাচার্য
Posted in কবিতা১)
তথাপি তেমন জ্যোৎস্না ছুঁলে
লাভাস্রোত বয়ে যায় কাশবন জুড়ে।
পথে নামে বাঘ ও হরিণী বেড়া ভেঙে।।
তুমি তো তেমন যুবা নও
আমাকেও বয়স ছুঁয়েছে...
২)
বিচ্ছেদ হয়েছে কবে! যেন কতো সৌরবর্ষ আগে! কলঙ্ক চিহ্নের মতো তাহার অস্তিত্ব টুকরো আমার অন্দরে তবু আছে।
৩)
৩)
চকমকি পাথর ছড়ানো,আগাছা জংগল।
অপেক্ষায় পথ হয়ে যাবে,জ্যোৎস্না তুমি ছুঁলে।
৪)
অপেক্ষায় পথ হয়ে যাবে,জ্যোৎস্না তুমি ছুঁলে।
৪)
ভালো যে বাসোনি তাও বলেছো নিশ্চিত অনাদরে,
মান্দাস ভেলায় যায় সর্পদ্রংস্ট্রা গাঙুরের জলে।
৫)
মান্দাস ভেলায় যায় সর্পদ্রংস্ট্রা গাঙুরের জলে।
৫)
আকাশের দিকে চেয়ে প্রদীপ নিজেকে মেলে ধরে,
তেমনই বাঁধনে আছি তুমি আমি, একই শহরে।
৬)
তেমনই বাঁধনে আছি তুমি আমি, একই শহরে।
৬)
পাতা ছিল রিক্ত দুটি হাত। তোমার দু’হাতে ছিল ভাণ্ডপূর্ণ অযুত অমৃত।
স্বভাব কৃপণ তুমি, ভুলেছিল এ কাঙাল মন।।
৭)
স্বভাব কৃপণ তুমি, ভুলেছিল এ কাঙাল মন।।
৭)
কিছু ঠিক ভালোবাসা, ঠিক মানুষের সাথে; বেঠিক সময়ে আসে বেঠিক বয়সে।
৮)
৮)
এই রাত, এই বৃষ্টি, ঘন অন্ধকার ; আবার আনছে ডেকে প্রথম দেখার স্মৃতি তোমার আমার।
৯)
৯)
ভিড়ে ঠাসা এ শহরে, এতো মানুষের ভিড়ে, বসা তো দূরের কথা দাঁড়ানোই দায়;
তবু্ও শূন্য ফাঁকা, যখন শহর ছেড়ে তার ট্রেন ধীরে ধীরে হাওড়া পেরোয়।
১০)
তবু্ও শূন্য ফাঁকা, যখন শহর ছেড়ে তার ট্রেন ধীরে ধীরে হাওড়া পেরোয়।
১০)
নিঃশব্দ অন্ধ শূন্যতায়
প্রেমের অলীক বুদ্বুদ,
সময়ের ঠ্যালাগাড়ি বয়ে
নিয়ে যাবে কতদূর!!
১১)
প্রেমের অলীক বুদ্বুদ,
সময়ের ঠ্যালাগাড়ি বয়ে
নিয়ে যাবে কতদূর!!
১১)
আজ্ঞাচক্রে মৃদু মৃদু অমৃত ক্ষরণ। অন্ধকারে আজও জানি জেগে ভালোবাসা।।
কবিতা - অমিতাভ মুখার্জী
Posted in কবিতাড্রামে কাঠি দেওয়া মাত্র,
শাড়ির সরু পাড়ের মতো
সকাল—
রিভিকা টোস্টটারের কাছে,
টোস্ট পুড়েছে—
ড্রামে কাঠির দ্বিতীয় স্ট্রোকে,
রিভিকা গাড়িতে—
ড্রামে কাঠির স্ট্রোকে স্ট্রোকে,
ভালো-মন্দের বাঁধনে,
কাজের নাচনে সারাদিন—
সন্ধেতে বাতাসের নরম ফিতেয়,
মোমবাতি জ্বলে নিজে নিজে,
আগুনের উজ্জ্বল বাদামী রঙ
রিভিকার লম্বা চুল জুড়ে,
নীলাভ ঝর্না নন্দন চত্বরে—
অ্যাপ্রিকট ও জলের সাথে
মিশে আছে সিগারেট,
বালি, পাথরের চত্বর ছেড়ে,
রিভিকা সহজেই হাত ধরেছিল—
পৃথিবীর ইটভাটার পাশে,
পিছু হাঁটা সন্ধে সাক্সোর আওয়াজে,
থেমে যায় সন্ধে দ্বিতীয় হুগলী ব্রিজে—
বাসগুলোর কামনা
ও গাড়িগুলোর কোমল কম্পনে,
ড্রামের বীটগুলো আবেগ,
নিঠুর ও মায়াবী—
কী-বোর্ডের তিক্ততায়,
লাল রিসিভারের বিচ্ছন্নতায়,
মান ভাঙাতে মিশুকে বেড়াল --
রিভিকা নেই, ফিরে যায় গাড়ি
থিয়েটার রোড পেরিয়ে—
নীলাভ ঝর্নায় সন্ধে একাই ট্রাম্পেট।
কবিতা - অমিতাভ মুখার্জী
Posted in কবিতা(১)
বিপিনের ভাবনার ভেতরে
হাত ছুঁয়ে স্পষ্ট বোঝা যায়
তার বিশ্বাস
তা নিয়ে সে অপেক্ষা করে—
ওই শিশু জন্মানোর পরে
তাকিয়ে থাকে উপরের দিকে
বিশ্বাসে বা অবিশ্বাসে—
বিপিন জেগে থাকে
ঘরেতে সব সময়ই
বা রাতে অযথা জেগে থাকে
লাগুল উপত্যকার কোন এক ঘরেতে—
বাইরে বরফ পড়ে
জানলার কাঁচের ওদিকে
চাঁদ
চিরহরিৎ ডালের জালে—
নিরবিচ্ছন্ন উজ্জ্বল আলো
আর বরফের ঠাণ্ডায়
পরিষ্কার রাত লাগুলে।
(২)
বিপিনের চলাফেরা
রাতের তরল অন্ধকারে
সমতল পাথর রাতের জলে
ডুবে থাকে—
তলের দিকে টলমল করে
সকালের জন্য
অপেক্ষা না করে—
সূর্যকে দেখতে পায় বিপিন
জলের মধ্য দিয়ে
আরেকটি হিমবাহ না আসা পর্যন্ত
জমাট বরফ লাগুলের পাহাড়ে।
(৩)
বিপিনের ঘরে মুখোশটি
নিজেই ধাঁধাঁয় পরিণত
হয়েছে—
চোখের ছিদ্র দিয়ে মুখোশের
ভিতরের উত্তাপ
বের হয়—
বিপিনের শ্বাসের শব্দ শোনা
যায়
বিপিনের মুখের চারপাশের
প্লাস্টারে ভিজে থাকে অন্ধকার—
আর চেষ্টা করে না বাইরের আলো
নেবার জন্য
গভীর অন্ধকারের বিরুদ্ধে
আর এক অন্ধকার—
মুখোশটি পরে যায়
বিপিনের মুখের ভিজে প্লাস্টার
হিমবাহে নরম হয়ে যায়
লাগুলের উপত্যকায়—
এক সংগীত ভয়ের পর্যায়ে
নেমে আসে
প্লাস্টারের দাগ রয়ে যায়
বিপিনের মুখে —
মুখোশটি আলাদা হয়ে
রয়ে যায়
লাগুলের এই বাড়িতে।
কবিতা - সুজিত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
Posted in কবিতাবিপ্লব,ও বিপ্লব বাড়িতে কি আছো?
মাটির ওপর কাটছে মানুষ দিন।
রাত কাটাবে গাছের তলায় বসে।
তোমার কথাই ভাবছে জেগে রাত।
আসবে কখন পেটের খিদে নিয়ে!
সেইজন্যেই চুলোয় জ্বলে আগুন,
তাত্ লাগে তার ঘুমন্ত বুক মাঝে।
সেই তাতে-ই পেটের ক্ষিধে বাড়ে,
ডাকছে তোমায়,"বিপ্লব কি এলে"?
উত্তর দাও, কিছু একটা বলো।
নইলে ওদের রাতগুলো কাটবে না।
দিন কাটাতে আবার পিষ্ট হবে,
মানুষ, সে ত' মানুষই থাকবে না।
কবিতা - ইন্দ্রাণী সরকার
Posted in কবিতাঅসামান্য যে সকল প্রাকৃতিক আভরণ
তার থেকেই কবিতার উৎপত্তি
বসন্ত ও রোদ থেকে তাদের গ্রন্থনা
একটি নদীর বাঁক আমায় ভাসিয়ে নেয়
জলের আয়নায় মুখ দেখা সারস
আমার কবিতার সত্ত্বাকে জাগিয়ে তোলে
হওয়ার ফিসফিসানি আমায়
বারবার ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়
পদ্মপাতায় টলমলে জল আর শিশিরকণা
মাঝে ভ্রমরের আনাগোনা আমায় উদাস করে
অনন্ত আকাশের বুক জুড়ে শুধু একটি চাঁদ
আর বহুদূরে মিটমিট জ্বলে কতিপয় তারা
যে কটি চোখে পড়ে, তাই আমি মন্ত্রমুগ্ধের মত দেখি
এরই মধ্যে থাকে হাজার কবিতা।
কবিতা - সুজিত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
Posted in কবিতাসেইদিন পৃথিবী ছিল সবুজ।
সেইদিন সুখের রঙ ছিল নীলাভ।
সূর্য্য ছিল রক্তিম আভায়।
রোদ ছিল পৃথিবীর আনাচে-কানাচে।
মানুষের খাদ্য ছিল পৃথিবীর
আদাড়ে-বাদাড়ে।
আজও পৃথিবীতে আছে রোদ, হাওয়া,জল,
বাদাড়ের ঝাড়ে গাছ আছে,
ডাল আছে গাছের বিস্তারে।
তবে ফল নয়, নয় কোন ফুল,
গাছের পাতার ফাঁকে ঝোলে পোড়া দেহ,
আদাড়ে মানুষ আর
খোঁজে নাকো বাঁচার রসদ।
কাটা হয়ে গেছে আদাড়ের ঝাড়।
শূন্য সে’ স্থানে গড়ে ওঠা সাজানো
সভ্যতার মুখোশ পড়ে আধুনিক মানুষ
সেখানে জ্বালায় দ্বেষের আগুন।
কবিতা - তীর্থঙ্কর সুমিত
Posted in কবিতাকিছু বলার থেকে
চুপ থাকাটাই শ্রেয়
মতামতের পেন্ডুলামে সময় আটকে আছে
ইতিহাসের চোরাস্রোতে
তাই এখনও জোয়ার কিম্বা ---
মনে পরে যায় ফেলে আসা অতীত
মুখে - চোখে
বিবর্ণতায় ঢেকে যায় শহর
তোমার কথায় জেগে থাকা রাত
অন্ধকারে মাখামাখি বারুদ এখন !
তারা খসার আলোয় নিজেকে দেখি।
কবিতা - অমিতাভ মুখার্জী
Posted in কবিতাহে বৃক্ষ,
শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে
হাওয়ার মাদলে পাতাগুলো
নেচে উঠলেই
মৃত্যুর জন্য দিন গুণতে শুরু করো
অর্জুনের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য
কর্ণের যে রথ তৈরি হয়েছিল
তা তোমাকে দিয়েই
আর অর্জুন যে ধনুক ও তীর দিয়ে
কর্ণকে বধ করেছিল
তা তৈরি হয়েছিল তোমাকে চীরেই
যে গীটার নিয়ে গান গেয়ে
জোন বায়েজর জগত জোড়া নাম
ওই গীটারও তোমা থেকেই
ডাইনিং রুমে খাবার সাজানো
থাকে
টেবিলের উপরে
তুমিই নানা রকমফেরে
ওই বাহারি টেবিলগুলো
সরু করাতের
সোহাগ ছোঁয়ায়, চীরে
নানা মাপে সাজিয়ে রাখে
নানাজনের জন্য
নিজেকে মেলে রাখাই তোমার কাজ
নানা আকারের গুঁড়ি হয়ে
নিতে থাকবে দরকারে
ঠিক মাপে কেটে নিয়ে
নানা মাপের সারি
হওয়ার আগে কথাগুলো
মুখে থেকে
আলজিভতেই আটকে থাকে
সেই কথা বেরিয়ে আসেনি
সবার সামনে
মরণ ছোঁয়ার আগে
ওই পাতাগুলো
নজরে আসে
যাওয়া-আসার সময়ে
বা
সোহাগে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে
কিন্তু ওদের কোন পরিচয় নেই
হে বৃক্ষ,
রোদ্দুরের রূপালি চেহারায় বা
অমাব্যসার অন্ধকারে
দিক দিগন্তের বাতাসে
আশ্বাস পাই
দিনে বা রাতে
গোল টেবিলে বসার জন্য
শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে
সারি সারি
নজরবন্দী কাঠ ছাড়া
সহজে আর কিছু মনে
করতে পারি না
তোমার নিজের মতো করে
দাঁড়িয়ে থাকাকেও
মনে করতে পারি না
শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে
হাওয়ার মাদলে পাতাগুলো
নেচে উঠলেই
হে বৃক্ষ,
মৃত্যুর জন্য দিন গুণতে শুরু করো
সারি সারি নজরবন্দী লাশ হবে, অবশেষে।
Subscribe to:
Posts (Atom)
বিধিসম্মত বিজ্ঞপ্তি
দর্শকসংখ্যা
ঋতবাক পরিচালনায়
প্রধান উপদেষ্টা - নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী ও স্বপন দেব
উপদেষ্টামণ্ডলী – সুদিন চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ রায়, চিন্ময় গুহ, ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়, শুভ্র ভট্টাচার্য, পল্লববরন পাল
সম্পাদনা – সুস্মিতা বসু সিংহ
কার্যনির্বাহী সম্পাদনা – শিশির রায়, সৌম্য ব্যানার্জী
কারিগরী সহায়তা – সুমিত রঞ্জন দাস
উপদেষ্টামণ্ডলী – সুদিন চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ রায়, চিন্ময় গুহ, ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়, শুভ্র ভট্টাচার্য, পল্লববরন পাল
সম্পাদনা – সুস্মিতা বসু সিংহ
কার্যনির্বাহী সম্পাদনা – শিশির রায়, সৌম্য ব্যানার্জী
কারিগরী সহায়তা – সুমিত রঞ্জন দাস
ব্লগ সংরক্ষণাগার
-
▼
2026
(97)
-
▼
July
(15)
- সম্পাদকীয়
- প্রচ্ছদ নিবন্ধ - রঞ্জন রায়
- প্রবন্ধ - অম্লান রায় চৌধুরী
- প্রবন্ধ - দিলীপ মজুমদার
- প্রবন্ধ - মনোজিৎকুমার দাস
- ধারাবাহিক - রঞ্জন রায়
- ধারাবাহিক - শৌনক দত্ত
- ধারাবাহিক - নন্দিনী সেনগুপ্ত
- গল্প - মনোজ কর
- গল্প - সমরেন্দ্র বিশ্বাস
- গল্প - বিশ্বজিৎ দত্ত
- কবিতা - ইন্দ্রাণী সরকার
- কবিতা - অমিতাভ মুখার্জী
- কবিতা - কুমকুম বৈদ্য
- ঋতু ম্যাডামের রান্নাঘর থেকে - মৈত্রেয়ী চক্রবর্তী
-
▼
July
(15)
জনপ্রিয় লেখাগুলি
পরবর্তী সংখ্যা প্রসঙ্গে
পরবর্তী সংখ্যা প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ২১/০৮/২০২৬, লেখা পাঠান অভ্রতে টাইপ করে, লেখা সম্পূর্ণরূপে অপ্রকাশিত হওয়া চাই। লেখা পাঠানোর ঠিকানা - RRITOBAKB@gmail.com.






















.jpeg)


.jpeg)

