0

গল্প - দীপারুণ ভট্টাচার্য

Posted in








মেট্রো স্টেশন থেকে বেরিয়ে হাঁটছিল দিবাকর। কী যেন কিনতে হবে ভেবে দাঁড়িয়ে পড়ল। দোকানে রবি একা বসে হিসাব লিখছে। আগে বিকেল হলেই এখানে আড্ডা বসত। সন্ধ্যাবেলা রবির বাবা দোকানে আসতেই বন্ধুরা উঠে যেত। কাকু রেগে বলতেন, দোকান এবার লাটে উঠবে! না দোকান ওঠেনি। বন্ধুরা চাকরি পেতেই আড্ডা উঠে গেছে। ঘোর সংসারীদের আড্ডা জমে না।
সিগারেটে টান দিয়ে দিবাকর বলল, দুটো প্রোটিন বার দে। রবি ভ্রু কুঁচকে বলল, রোজ নিস কেন, এসব বেশি খাওয়া ভালো না! বিরক্ত মুখে দিবাকর বলল, তোকে দিতে বলেছি, দে। চোখে ফাজিল ইঙ্গিত করে রবি বলল, একটু আগেই তো তোর বউ নিয়ে গেল। ব্যাপার কী? দিবাকর ঘনঘন সিগারেট টানছে। রবির সঙ্গে তার কথা বাড়ানোর ইচ্ছা নেই। তাছাড়া কীভাবে বলবে, মা তার বউকে পেট ভরে খেতে দেয় না! মাঝরাতে সোনালির খিদে পায়। এসব বাইরে বলা যায় না।
জিনিসটা পকেটে রাখল সে। বিয়ের আগে পর্যন্ত মায়ের অনেক কিছুই তার জানা ছিল না। আচ্ছা, মা ছেলেকে ভালবাসতে পারে কিন্তু ছেলের বউকে পারে না কেন? অনেক ভেবেও উত্তর পায়নি। প্রেমের বিয়ে বলেই কি এমনটা হয়েছে? নাকি সোনালির চাকরি মায়ের পছন্দ নয়? কিংবা মা বহুদিন আগে নিজের শাশুড়ির থেকে পাওয়া খারাপ ব্যাবহারের ঝাল সোনালির উপর ঝাড়ছে! আগে চোখে পড়ত না। এখন দিবাকর সব বুঝতে পারে। সন্দেহ না করলে প্রিয়জনের খারাপ নজরে আসে না।
সকালে ছেলে-বউ পাশাপাশি বসে। মা তাড়াহুড়ো করে রান্না করে। ডাল, ভাত, তরকারি। সোনালি অনেক বলেও কাজের লোক রাখতে পারেনি। এটাও তাকে কষ্ট দেওয়ারই ফাঁদ, দিবাকর বোঝে। এক একদিন তার পাতে ভাজা মাছ পড়ে। প্রশ্ন করলে মা বলে, একটাই ভেজেছি! একটা কেন? উত্তর মেলে না। ভেঙে দিলে সোনালি খায় না। বলে, আমার খাওয়া হয়ে গেছে। প্রায় প্রতি রাতে ভাত কম পড়ে। মা বলে, আমার আর লাগবে না। সোনালি নিজের ভাত শাশুড়িকে তুলে দেয়। দিবাকর চিৎকার করে, বাজার দোকান কি কম করেছি? তাহলে রোজরোজ কম পড়বে কেন? উত্তর আসে না। সে আলাদা হওয়ার কথা ভেবেছে। তিন জনের দুটো সংসার! মন সায় দেয় না।
কিরে চুপ মেরে গেলি কেন? বাড়িতে সমস্যা হচ্ছে নাকি? সব সংসারেই শালা এক ব্যাপার। আমাকেই দেখ না! রবির কথার মাঝেই দিবাকর উঠে পড়ে। বলে, কাল তাড়াতাড়ি অফিস যেতে হবে। হাঁটতে হাঁটতে পকেটে হাত দিয়ে প্রোটিন বার দুটোকে ছুঁয়ে দেখে। সোনালিও একদিন মা হবে। তাদের সন্তানও কি কোনোদিন নতুন পরিচয়ে তার মা কে আবিষ্কার করবে! ঠাণ্ডা হাওয়া দিচ্ছে। মনে হচ্ছে আজ বৃষ্টি হবে।

0 comments: