0

ধারাবাহিক - সোমঙ্কর লাহিড়ী

Posted in


ধারাবাহিক


পায়ের শব্দ 
সোমঙ্কর লাহিড়ী



চুম্বকঃ- অ্যান্ডির ঘর থেকে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের কিছু ছবি ও ভিডিও মোবাইলে নিয়ে চলে যাওয়ার সময় ধরা পরে যায় এক বয়স্কা কলগার্ল। অ্যান্ডি ও তার ব্যান্ডের বন্ধুরা ও অন্যান্য বন্ধুরা যায় দ্য টি ভ্যালী নামের এক রিসর্টে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে। সেখানে নেশার ঝোঁকে রিসর্টের মালিকের স্ত্রীকে রুম সার্ভিসের মহিলা মনে করে তার সঙ্গে খানেক দুর্ব্যবহার করে অ্যান্ডি। 



৫ 

বাঙ্কোয়েটে ঢুকে তার সাইজ আর ডেকরেশান দেখে মোটামুটি চোখ গোল হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো আর্মাডিলোর সকলের। যাদের মাচা থেকে শুরুকরে অনেক রাস্তা পেরিয়ে এখানে আসতে পেরেছে তাদের সব ব্যাপারে স্বাভাবিক থাকাটাই বাঞ্ছনিয়, যেটা শুধু মাত্র অ্যান্ডির হাবেভাবে প্রকাশ পেয়েছিল বাকিদের নয়। 

প্রথমে খানেকক্ষণ স্ট্যান্ড আপ কমেডি হল। পার্ফমার মোটামুটি হলের উপস্থিত সকলকে পেটে ব্যথা ধরিয়ে দিয়ে প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট বাদে। এই সময়টা গোটা আর্মাডিলো একটা বড়ো ঘরে নিজেদের তৈরী করে নিলো। শেলী আর মুকেশ একবার এসে ওদের সাথে দেখা করল। শেলী বলে গেল পুরো প্রোগ্রামের মধ্যে সবথেকে বেশী সময় পাচ্ছে আর্মাডিলো। কিন্তু “বর্ষা”টা করা যাবে না? 


কেন? অ্যান্ডির ক্ষিপ্ত প্রশ্ন। 

ডিপি পার্সোনালি আমাকে রিকোয়েস্ট করেছে? শেলী জবাব দিলো। 

বাবা একেবারে ডিপি? অ্যান্ডির গলায় তিক্ত প্রশ্ন? 

কি করব বল? উনি নিজেই আমাকে বললেন এই নামে ডাকতে। 

তা তুই কি ওর হুকুমের বাঁদী? 

দেখ অ্যান্ডি টাকা দিচ্ছে, কিছু নির্দেশ তো আমাকে মানতেই হবে তাই না? 

তোকে তোর পার্ফমেনস থেকে আটকে দিলেও তুই সেটা মেনে নিবি? 

মুকেশ মাঝখানে ঢুকে অ্যান্ডির মেজাজটাকে সামলানর জন্য বলল, 

বস, প্রোগ্রামে কনসেনট্রেট করলে ভালো হয় না? 

শেলীকে বলল, তু প্লীজ যা স্টেজ কো সামাল। 

শেলী প্রায় পালিয়ে বাঁচল। 

চলে যাওয়ার পরে মুকেশ অ্যান্ডিকে বলল, শায়েদ যব অফার কিয়া ইসিলিয়ে পার্ফরমেনস করনে মে মানা কিয়া। 

অ্যান্ডি হেসে বলল, রাত তো ঠোকেগা, ইসি লিয়ে তাগড়া মাংতা হ্যায় শালা তেরা ডিপি। 

তু আপনে কাম পে মতলব রাখনা ইয়ার। 

অ্যান্ডিদের দল যখন স্টেজ পেলো তখন রাত দশটা। পুরো টিম সাদা, আর অ্যান্ডি একা মাথা থেকে পা অবধি কালো। 

শুরু করল এল্টন জনের একটা গান “ডোন্ট লেট দ্য সান গো ডাউন অন মি” 

দর্শক নড়ে বসল। তারপরে একের পর এক বব মার্লে, জিমি হেন্ড্রিক্স, মিক জ্যাগার, মাইকেল জ্যাকসন, ইত্যাদি আর্টিস্টের গান দিয়ে দর্শকদের রক্ত গরম করে তুলতে লাগল। একটা সময় এলো যখন দেখা গেল, গোটা হলে কম বয়েসই থেকে বেশী বয়েসই সবাই অ্যান্ডির হাত ধরে একটা ট্রান্সে চলে গেছে। গানের আর নাচের উন্মাদনা গোটা হলকে গ্রাস করেছে অ্যান্ডি শুরু করল, আভি তো পার্টি শুরু হুই হ্যায়। হলে বসার সমস্ত ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড করে শুরু হয়ে গেল অভ্যাগতদের নাচ। সেখান থেকে শুরু হয়ে গেল হিন্দি ডান্স নাম্বারস। প্রায় আড়াই ঘন্টা একা গোটা হলকে যখন তুরীয় অবস্থায় নিয়ে চলেগেছে অ্যান্ডি, ঠিক সেই সময় দেখতে পেলো শেলী আর ডিপি প্রায় একসাথে হলের দুটো আলাদা দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল। অ্যান্ডি দুহাত তুলে শ্রোতা, দর্শক অভ্যাগত সবাইকে একটু থামতে ইশারা করল, সবাই থমকে গেল, অ্যান্ডি সম্পূর্ণ ভিন্ন জঁরের গান শুরু করল, ‘ঘরের পাশে আরশি নগর, পড়শি বসত করে।’ 

এ যেন চলন্ত মেল ট্রেনকে আচমকা থামিয়ে দেওয়া। অনেকেই প্রথমে নাচ বন্ধ হওয়ার জন্যে বিরক্ত হল বটে। কিন্তু এক একটা দিন গায়কের হয়। কিছুক্ষনের মধ্যেই দেখা গেল, সবাই আবার অদ্ভুত শান্ত হয়ে বসে গেল অ্যান্ডির গলায় ফোক শুনতে। একটা সম্পূর্ণ বিপরীত পরিবেশ, একদল ভিন্ন বয়েসের ভিন্ন রুচির মানুষকে একটা যুবক তার গলার জাদু দিয়ে বেঁধে ফেলেছে। গানটা যখন শেষ হলো, কিচ্ছুক্ষণ গোটা হল স্তব্ধ। তারপরে ফেটে পড়ল আওয়াজে। লোকে যে আনন্দ চায়, আজ অ্যান্ডি সেই আনন্দ তাদের দু হাতে বিতরণ করে দিয়েছে। সবাই ছুঁতে চাইছে অ্যান্ডিকে, তাদের আনন্দকে। 

অ্যান্ডি স্টেজ ছাড়াল প্রথম, নিজেদের ড্রেসিং রুমে যাওয়ার পথে অ্যান্ডি দেখল শুব্বু তারদিকে তাকিয়ে আছে একদৃষ্টে। অ্যান্ডি হাত তুলে হাই জানাল। ঘরে ঢুকে ড্রেস ছাড়ার সময় মুকেশ ঢুকল। অ্যান্ডি কে জড়িয়ে ধরল, আনন্দে। 

তু ইয়ার, গলা বুজে এলো মুকেশেরও। 

অ্যান্ডি বলল, 

মাল দে, গলা শুকিয়ে গেছে। 

মুকেশের পিছনের পকেটের ফ্লাক্সটা অ্যান্ডি একাই শেষ করে দিল একটানে। তারপরে ওর হাতে ফ্লাক্সটা ফেরত দিতে দিতে বলল, 

আই ক্যান, বিকজ আয়াম দ্য বেস্ট। নাও হোয়াট? তোদের ডিপি তো শেলীকে ঠুকতে নিয়ে গেল। কোথায় গেল শালা কে জানে, এত বড়ো রিসর্ট। এবারে বল তো ভাই তোর গুঁড়োর নেশাটার ব্যবস্থা আছে না কি খালি লিকুইড? 

মুকেশ হেসে বলল, 

চেঞ্জ করে নে বস, সব ব্যবস্থা আছে। তোর জন্য স্পেশাল। 

কোথায়? 

তু চেঞ্জ তো কর। মুকেশ আস্বস্ত করে। 

দলের বাকীদের উদ্দেশ্যে অ্যান্ডি বলে, 

বাচ্ছারা তাড়াতাড়ি খেয়ে দেয়ে ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ো কেমন? কাল সকালে আবার আমাদের ফিরতে হবে। বলেই মুকেশের হাত ধরে বলে, চল। 

বিশাল বাঙ্কোয়েটের পাশে বেশ কিছু ছোটো ঘর, যে রকম ঘরে অ্যান্ডিরা তাদের গ্রীন রুম পেয়েছিল, সেই রকম একটা ঘরের দরজা খুলে মুকেশ আর অ্যান্ডি ঢুকল। সেখানেও একজন ডিজে তার ছোট্টো যন্ত্রপাতি নিয়ে বসে তাদের নিজের মিক্স চালাচ্ছে। তবে আওয়াজ বেশ নীচু স্কেলে। তারপাশের বেশ অনেকগুলো টেবিলে রয়েছে রুপোর থালায় সাজানো নিশিদ্ধ মাদক। যার যেটা ইচ্ছে সে সেটার কাছে আসছে আবার ফিরে যাচ্ছে। নিজের টেবিলে। দেখে অ্যান্ডির মৌমাছির কথা মনে হলো। ফুলের কাছে যাচ্ছে আর ফিরে আসছে নিজের মৌচাকে। 

মুকেশ ইশারা করল, একটি ছেলে এসে অ্যান্ডির জন্য সাদা গুঁড়োর লাইন সাজিয়ে দিল একটা কালো কাঁচের উপরে। অ্যান্ডি হাসি মুখে সেটা হাতে নিয়ে তারপরে নিজের নাকটা সেই সাদা গুঁড়োর লাইনে রেখে শ্বাস টানল বুক ভরে। ঝটকাটা ভালো লাগল, মাথাটা হঠাৎ বেশ হালকা লাগল। পেটের ভেতরে কেমন যেন একটা ফাঁকা ভাব, নাগরদোলা নীচে নামার সময় যেমন হয়। অ্যান্ডি চেয়ারের হেলান দেওয়ার জায়গাটার উপরে মাথার পিছন দিকটা রেখে সেই বিষাক্ত আরামটা উপভোগ করতে লাগল। 

মুকেশ হেসে বলল, অনলি ওয়ান লাইন? হাম শালা ক্যায়া ক্যায়া সোচা ওর তু এক লাইন লেনেকে বাদহি আউট? 

অ্যান্ডি মাথাটা তুলল, চোখে একটা অদ্ভুত দৃষ্টি। ভালো করে দেখলে বোঝা যেত চোখের মনির ভেতরের কালো গোলটা আরো বড়ো। মুখে একটা হাসি এনে বলল, চুপ কর। এঞ্জয় করতে দে। 

তারপরে খানেক বাদে মাথা তুলে আরো দুটো লাইন নিজের ভেতরে নিয়ে নিল অ্যান্ডি। তারপরে আরো একটা। নাসারন্ধ্রের পাশে সাদা গুঁড়োর বেশ মোটা দাগ। থুতনি, কালো জামার উপরেও বেশ খানেকটা সাদা গুড়ো এদিকে ওদিকে ছড়িয়ে রয়েছে। অ্যান্ডি আগের অবস্থায় মাথাটা নিয়ে গিয়ে আবার চুপ করে নেশার কামড়টা উপভোগ করতে লাগল। 

মুকেশ এসে বলল, 

আর নিবি? বস্‌? 

অ্যান্ডি চুপ করে বসে রইল। 

মুকেশ এরপরে পরামর্শ দিলো, 

থোড়া হাওয়ামে ঘুমকে আ। মস্তি ওর জ্যাদা ফীল করেগা তু। 

অ্যান্ডি কোনও উত্তর না দিয়ে উঠে দাঁড়ালো, তারপরে এগিয়ে গিয়ে বন্ধ দরজা খুলে বাইরের করিডরে পা রাখল। বাইরের ঠান্ডা হাওয়া, রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে দূর থেকে আসা ড্রামের শব্দ। সব মিলিয়ে অ্যান্ডির শরীরটাকে আরো নেশাতুর করে তুলল। তল্পেটের চাপ কমানর জন্য অ্যান্ডি ওয়াসরুমের খোঁজে এগিয়ে গেল করিডর ধরে মেন বাঙ্কোয়েটের দিকে। 

চোখের দোষ নয় চোখটাকে যে চালায় অর্থাৎ ব্রেনে যে পরিমাণ হাঙ্গামা বাধিয়েছিল অ্যান্ডি সেই চোখকে ভুল দিশা দেখিয়েছিল। কার্ড রুমের দরজার উপরে একটা বড়ো তাসের রাজার ছবি আঁকাছিল। অ্যান্ডি তার গন্তব্য পেয়ে গেছে মনে করে সেটা খুলে ভেতরে ঢুকেই শকটা খেল, আবছায়া ঘরে দূরতম প্রান্তে একটা কার্ড টেবিলের উপরে শুয়ে শীলা, আর মেঝেতে দাঁড়িয়ে ডিপি। বাকীটা বোঝার জন্য আর না দাঁড়ালেও চলে, মাথাটায় একটা ঝটকা লেগে যাওয়ার জন্য, বাইরে এসে অ্যান্ডি আবার দাঁড়াল চুপ করে। 

হোয়াট দ্য হেল আর ইয়ু ডুইং হিয়ার? গলাটা খুব চেনা। অ্যান্ডি ফিরে তাকিয়ে যাকে আশা করেছিল তিনিই, শুব্বু। ড্রেস এথেনিক, লুক রাইপ এন্ড গর্জাস, গলায় একটা সরু হার তাতে মাঝারি পেন্ডেন্টের ভেতরে কিছু একটা দামি পাথর। হাতে ক্লাচ। পায়ে? বোঝা যাচ্ছে না, আর অ্যান্ডির চোখও সাথ দিচ্ছে না। 

একটু তেতো গলায় বলল, 

ইউ গাইস ইউসড টু হায়ার এভ্রি নেসিসিটিস, নো? 

শুব্বু একটু অবাক হলো, সামনে দাঁড়িয়ে সেই ছেলেটা যে কিছুক্ষণ আগে বহুলোকের সব কিছু ভুলিয়ে দিয়েছিল তার গানে। সেই এখন গায়ে উপর কিছু সাদা পাউডার ছড়িয়ে এখানে দাঁড়িয়ে তাকে এই অদ্ভুত প্রশ্ন করছে, কি ব্যাপার? 

দ্যাট ইস নীড বেসড, ইউ নো। শুব্বুর জবাব, কিছুটা দ্বীধাগ্রস্থ ভাবেই। 

দেন গো ইনসাইড এন্ড সি, হোয়াট ইয়োর হায়ার্ড অ্যাঙ্কার ডুইং ইনসাইড। অ্যান্ডি কথাটা বলে দরজার দিকে বুড়ো আঙুল তুলে ইঙ্গিত করল। 

শুব্বু দরজাটা খুলে ঢুকেই বেরিয়ে এলো। 

অ্যান্ডি ফুট কাটল, 

পিপল শুড হায়ার প্রপার পার্সন ফর প্রপার জব, ইসন্ট? 

শুব্বু হতবম্বের মতো দাঁড়িয়ে, কি করবে? কোথায় কিভাবে লুকোবে তার এই লজ্জা ঠিক করে উঠতে পারছে না। এতদিনের বিশ্বাস তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়ল, তাও আবার বাইরের একটা ছেলের সামনে? শুব্বুর নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছে হচ্ছিল। চোখ থেকে কখন যে দু ফোঁটা জল নেমে আসতে শুরু করেছে সেটা তার নিজের ও খেয়ালে রইল না। 

পার্টিতে মহিলাদের আকৃষ্ট করাটাই তো শুধু কাজ নয়, তাদের নিজের কাছে টেনে এনে নিজেদের ইচ্ছা চরিতার্থ করতে পারাটা একটা আর্ট। বহু পার্টি ও তার পরের আসঙ্গ পিপাসা দূর করতে সমর্থকরতেপারা অ্যান্ডি বুঝল, বাকীটা একটু সময়ের অপেক্ষা। যদি শুব্বু চিৎকার চ্যাঁচামিচি জুড়ে দিত তাহলে বোঝা যেত ইনি সিংহী প্রকৃতির। দূরে থাকা বাঞ্ছনীয়। ইনি চোখের জলে ভাসলেন। আহা রে! কি দুঃখ দেখো দেখি। এখন তো একটা ফাঁকা ঘর দরকার এই দুঃখ দূর করার জন্য। 

অ্যান্ডি খুব নরম গলায় বলল, 

ভেরী সরি শুব্বু। শুডন্ট হ্যাভ ডান দ্যাট। রেয়েলি সরি। বলে খুব ধীরে তার হাতটা দিয়ে শুব্বুর ডান হাতটা ধরে শুব্বুকে ওখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল। 

একটু বাধা এল বটে, ওটুকু আসতই। অ্যান্ডি টানটা বজায় রাখল। শুব্বু অ্যান্ডির সাথে ওই করিডর ধরে চলতে শুরু করল। পিছনে উদ্দাম তালে বেজে চলতে শোনা গেল একটা মিশরিয় সুর। বোধহয় বেলী ড্যান্স। অ্যান্ডির ভাবার সময় নেই। নেফারটিটি এখন তার হাত ধরে। 

উড য়ু লাইক টু গো টু ইয়োর স্যুট? বলে অ্যান্ডি শুব্বুর দিকে তাকাল। সেই সরল কীলার চাউনি, যেটাকে শুধু উপযুক্ত সময়ে অ্যান্ডি ব্যভার করে। 

শুব্বু মাথা নাড়ল। করিডরের শেষ লিফট। লিফটের দরজা খুলে শুব্বুকে এগিয়ে যেতে দিল অ্যান্ডি। তারপরে নিজেও ঢুকল। বাব্বা, মাত্র তিন তলার জন্যেও লিফট। 

লিফটে ঢুকে অ্যান্ডিকে আবার দেখল শুব্বু। 

হোয়াট ইস দ্য হোয়াইট ডাস্ট অন ইয়োর ফেস, নসট্রেলস এন্ড ড্রেস? সরল প্রশ্ন। অ্যান্ডির লাইফ লাইন হয়ে গেল। 

হেসে বলল, 

দুঃখ ভোলার ওষুধ। আজ তুমি যে দুঃখটা পেয়েছ, আমিও সেটাই পেয়েছে। মাই ফার্স্ট লাভ। কিন্তু দেখ আমি কাঁদছি? তোমার মতো? 

হোয়াটস দ্যাট? কী ওটা? 

লাইক সাম? অ্যান্ডি হেসে জিজ্ঞাসা করল। লিফট তিন তলায় থামল। 

ইস ইট সাম শর্ট অফ ড্রাগস? শুব্বু কাতর ভাবে জিজ্ঞাসা করল। 

ইফ ইউ লাইক টু ফরগেট ইয়োর গ্রীফ দেন আই ক্যান হেল্প। আদারওয়াইস টেল মি হোয়্যার ইস ইয়োর রুম, আই মাস্ট টেক ইঊ দেয়ার এন্ড লীভ। এভার ব্রুডিং লেডীস। যত্তোসব আমার কপালেই জোটে। 

অ্যান্ডি আর শুব্বু গিয়ে পৌঁছাল শুব্বুর স্যুটে। 

শুব্বু দরজা খুলে পিছন ফিরে বলল, 

ইউ ডিডন্ট টেল মি হোয়াট ইস দ্যাট। 

অ্যান্ডি একটু দূরে দাঁড়িয়ে হেসে বলল, 

দ্যাটস ফর গ্রোন আপস, নট ফর কীডস লাইক ইউ। 

আয়্যাম নট অ্যা কীড। 

প্রুভ ইট। 

হাতে হ্যাঁচকা টানটা অ্যান্ডির দারুন লাগল। 

দরজাটা বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে সিকিউরিটি রুম থেকে সিসিটিভি ফুটেজ কপি হয়ে পেন ড্রাইভে করে হাত বদল হয়ে গেল। 

0 comments: