0

ছোটগল্প - তপন চন্দ

Posted in


ছোটগল্প


মহালয়া
তপন চন্দ 


প্যান্ডেল’টার কাঠামো দাঁড়িয়ে গেছে... কাজ চলছে জোর কদমে... পুজো’র দিনগুলোতে এই পার্কটা’ই মিনি দেশপ্রিয় পার্ক হয়ে যাবে ...রঙ্গিন বেলুন, নাগরদোলা, ঘূর্ণি, রোলারকস্টার, টয় ট্রেন, ঘুগনি, ফুচকা, আলুরদম, এগ রোল, চিকেন রোল, আইস ক্রিম, ঢাকের বাদ্যি, ধুনুচি। পুজো’র বেশ কয়েকদিন আগেই পার্কটায় দুম করে ভিড় বেড়ে গেছে... হঠাৎ করে সবার ফিটনেসের ইচ্ছে চাগিয়ে উঠেছে... আশপাশের জিমগুলোও ভর্তি... ম্যাচো ফিগার বানাতে হবে রাতারাতি... পুজো আসছে যে। 

আজ মহালয়া। এখন সকাল সাতটা মত। পাঁচ নম্বর পাক’টা শেষ হবার পর আজকের মতন আমার মর্নিং ওয়াকের কোটা শেষ। অন্য বেঞ্চগুলো ভরতি ...একটা বেঞ্চই একটু খালি... বসে আছেন দুই সৌম্য দর্শন বয়স্ক পুরুষ ...দুজনেরই হাতে লাঠি ...দুজনেরই ধুতি পাঞ্জাবী ...ধব ধবে সাদা চুল ...প্রাজ্ঞ বিজ্ঞ চেহারা ...শিক্ষার শাইন আর কি! মশগুল হয়ে কি যেন আলোচনা করছেন দুজনে। আমি ওঁদের পাশটায় গিয়ে বসলাম ।

গোস্বামী, মজুমদার, সুরেশদা’রা কেউ আসেনি আজ ...কি জানি হয়ত মহালয়ার তর্পণ করতে গেছে।

প্রাণায়ামটা সেরেনিই এইবেলা ...প্রথমটায় পেটটাকে ভেতর দিকে টেনে ছেড়ে টেনে ছেড়ে নাক মুখ দিয়ে করাত চালানোর মত হ্যাস হ্যাস আওয়াজ বার করা বিশবার ...হোল... তারপর এ নাক দিয়ে সোঁ করে নিঃশ্বাস নিয়ে ও নাক দিয়ে ফোঁ করে বার করে দেওয়া... এও বিশবার... হোল। আজ আর ‘ভামর’টা করা উচিৎ হবে না ...বোমারু বিমানের মতন গোঁ গোঁ আওয়াজ বেরোবে ...পাশের দুই ভদ্রলোক একটা দারুণ ইন্টারেস্টিং বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন... আমি বরং জোড়াসনে ধ্যনস্থ হয়ে শুনি।

- না না, বিনয়, ব্যাপারটা অত সোজা নয় ...জাগতিক বিচার, বুদ্ধি, বিবেচনা যেখানে শেষ হয় সেখান থেকেই বিস্ময়ের শুরু, রহস্যের শুরু, হয়তো ঈশ্বর ভাবনারও শুরু... তবে বিস্ময় রহস্য ক্রমশ পিছু হটছে ...রোজ একটু একটু করে পিছু হটছে ঈশ্বর ...হটছে না? কয়েকশো বছর আগেও আমরা সূর্যগ্রহণে ঈশ্বরতত্ত্ব খাড়া করতুম... আর আজ একটা ক্লাস থ্রির পড়ুয়াও জানে সূর্যগ্রহণের আসল কারণটা কি... অজ্ঞানতা ঘুচছে তবে যে বিস্ময়, যে রহস্য ছড়িয়ে আছে সারা ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে, তা মাত্র কয়েক হাজার বছরের বিজ্ঞান চর্চায় সমাধান হয়ে যাবে ...খবরের কাগজ পড়ার মতন সহজ হয়ে যাবে। সেটা সম্ভব নয়... আরও সময় দিতে হবে। উত্তর বেরোবেই। আর বিজ্ঞানই সে উত্তর দেবে। তোমাদের সাহিত্য চর্চা, ইতিহাস চর্চা, ধর্ম চর্চা তার উত্তর দিতে পারবেনা কোনও দিনই।

- না অবিনাশ তোমার কথা মানতে পারছিনা। বিশেষ করে শেষেরটা। বিজ্ঞান সে উচ্চতায় কোনও দিনই পৌঁছুতে পারবে না, যে উচ্চতায় ধর্ম পৌঁছুতে পারে... কারণ ওখানে অনুভূতি উপলব্ধির রাস্তা আছে। আর সেই স্বরূপকে চেনার শেষ রাস্তা অন্তরের উপলব্ধি। কেন, তোমাদের আইন্সটাইন'ই তো বলে গেছেন... বিজ্ঞানের শেষ থেকে দর্শনের শুরু, দর্শনের শেষ থেকে ধর্মের শুরু।

- হ্যাঁ মানছি, বলেছিলেন। কিন্ত ওটাই যে শেষ কথা কে বলল? স্যার আইজাক নিউটনের একটা ঐতিহাসিক উক্তি বলি তোমাকে... “If I have been able to see a little farther than some others, it was because I stood on the shoulders of giants” হ্যাঁ, পিথেগরাস, ডেমোক্রিতাস, আরকেমিদিস, গ্যালিলিও, রাদারফোর্ড, কোপার্নিকাস, নিউটন, আইনস্টাইন, হকিংস, কার্ল সেগানরা - সবাই একের পিঠে আর একজন চেপে বিজ্ঞানকে আজ এই উচ্চতায় নিয়ে এসেছেন। বিজ্ঞান আজ রকেটের গতি ছেড়ে আলোর গতিতে ছুটছে। আগামী এক শতাব্দীর মধ্যেই বিজ্ঞান কোথায় পৌঁছে যাবে তা আমাদের ধারণার বাইরে। কিন্তু তোমাদের সাহিত্য, ইতিহাস, ধর্ম চর্চা, যে তিমিরে সেই তিমিরেই। সেই আদ্দিকালের ধ্যান ধারণার ক্লাসিক্যাল অ্যাপ্রচেই আটকে আছ। আর তোমাকে কে বলেছে, অনুভূতি উপলব্ধি শুধু তোমাদেরই এক চেটিয়া? ‘জুলে ভেরন’ শুধু অনুভূতি উপলব্ধি কল্পনার জোরে লিখেছিলেন A Journey To The Moon …হুবহু লিখেছিলেন এক মহাকাশচারীর অভিজ্ঞতা ...অথচ তার প্রায় পঞ্চাশ বছর পরে প্রথম মনুষ্যবাহী রকেট চাঁদে পৌঁছেছিল। লিখলেন কি করে? রাদারফোর্ড স্বপ্নে দেখেছিলেন Atomic Structure এর মডেল। তার কত্ত বছর পরে Electronic Microscope দিয়ে দেখা গেল ঠিক তাই। কি করে হোল? এ রকম ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে বিনয়... বলে শেষ করা যাবে না। আসলে সাইকিক ব্যাপার’টাই আলাদা। ওটা নির্ভর করে কে কতখানি ফোকাসড তার ওপর। ওটা তোমার আছে, আমার নেই। এ ভাবে কম্পারমেণ্টালাইজ করা যায় না, যাবে না। 

- সেকি অবিনাশ, তুমি যে ঝড় বইয়ে দিলে! 

- হ্যাঁ দিলাম। গোটা বিশ্বের দিকে তাকিয়ে দেখ, তোমার ধর্ম, তোমার ঈশ্বর-চেতনা, তোমার সাহিত্য চর্চা, কোনও পরিবর্তন আনতে পেরেছে কি? বরং বিরোধ বাড়ছে, সব কিছু আরও গুলিয়ে যাচ্ছে। বিষয় এক, তর্ক অনেক। তোমরা সব বুদ্ধিজীবীরা- কেউ ক্লাসিক্যাল, কেউ মার্কসবাদী তাত্বিক, কেউ অবিনির্মাণবাদী, কেউ উত্তর আধুনিক আঁতেল, কারও সঙ্গে কারও মিল নেই। হ্যাঁ, বিজ্ঞানেও তক্ক আছে। আইনস্টাইন-এর থিওরি বুঝতে, মানতে বাকি বিজ্ঞানীদের কত বছর সময় লেগেছিল, জান?

- তবুও বলছি অবিনাশ অন্তরদৃষ্টি ছাড়া, অধ্যাত্মবাদ ছাড়া, সত্য জানা যাবে না কিছুতেই। আর সত্য মানেই ঈশ্বর।

- তোমার এ কথাটার সঙ্গে আমার কোনও বিরোধ নেই তো! তবে একটা কথা তুমি এড়িয়ে গেলে... অনুভূতি।

- হ্যাঁ অনুভূতি- ওটা ছাড়া বিচার সম্ভব নয়, উপলব্ধিও সম্ভব নয়।

- Correct …কিন্তু বিনয়, কোন অনুভূতির বড়াই করছ তুমি? এই বিশ্বে আমরা শ্রেষ্ঠ। কিন্তু সম্পূর্ণ কি? অনেক পশু পাখী কীট পতঙ্গের যা অনুভব ক্ষমতা আছে তা আমাদের নেই। অনুভূতি, উপলব্ধি সম্পূর্ণ না হলে বিচারটা ঠিক হয় কি করে?

- বুঝলাম না…

- বুঝলে না? আচ্ছা ধরো, এই যে একটি মেয়ে তোমার সামনে দিয়ে জগিং করতে করতে চলে গেল, তুমি খুব মনোযোগ দিয়ে তার শরীরী আন্দোলন দেখলে, সামনের পেছনের কিচ্ছু বাদ দিলেনা… না না লজ্জা পেওনা... তুমি তো কবি-সাহিত্যিক... তুমি মেয়েটিকে নিয়ে কবিতা লিখলে হয়তো লিখবে

“পাগলি... তোর চিবুক ছুঁয়ে
নেমে আসা যে ঘামের ফোঁটাটা
তোর আন্দোলিত বুক ছুঁতে চাইছে
সেটাই আমি” 

- যাহ কি যে বলো!

- হ্যাঁ এটাই ঠিক কথা। তোমরা যে কখন ঈশ্বর ধরো, আর কখন নশ্বর ধরো, বোঝা মুশকিল। তবে তোমার অনুভব তোমাকে যে ভাবে দেখাবে, বোঝাবে তুমি তো সেই ভাবেই ভাববে, না কি? এবার মনে করো, তোমার চোখের রেটিনায় ভিবজিওর দেখার ক্ষমতা নেই। তুমি শুধু এক্সরেই দেখতে পাও... তখন তুমি কি দেখবে?

- কি দেখব?

- দেখবে মেয়েটি নয়, মেয়েটির কঙ্কাল তোমার সামনে দিয়ে খট খট খট খট করে দৌড়ে গেল... আর তখন তুমি লিখবে

“ওরে মেয়ে দাঁত ছরকুটি
তোর দাঁতে ধরেছে কেরিস
পোকায় খাওয়া ভেতরের দাঁত
চোখ দুটো যেন অতলের খাদ
প্রেমিক পাগল দাঁত ছরকুটে 
আমি লাশ বেওয়ারিশ

- যাহ কি যে বলো... বেশ অবিনাশ তোমার যুক্তি যদি মেনেও নিই... তবু তোমার বিজ্ঞানের কত দিন সময় লাগবে বলতো? তার থেকে অনেক ভাল নয় কি অধ্যাত্মবাদের পথ? 

- হ্যাঁ, সময় তো লাগবেই। আসলে বিজ্ঞান হাঁটে আগে আগে, টেকননজি হাঁটে তার পেছনে। বিজ্ঞান প্রথমে দেয় হাইপথেসিস আর অঙ্কের ফর্মুলা, টেকননজি দেয় যন্ত্র। যন্ত্র দেয় হাতে নাতে প্রমাণ... সময়তো লাগবেই। তবে চার কোটি বছর লাগবে না নিশ্চয়ই।

- বাপরে চা-আ-আ-র কোটি বছর, বলো কি? আর চার কোটিই বা বললে কেন?

- চমকালে যে! বিন্দুর মহা বিস্ফোরণ থেকে ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছিল সাড়ে চার বিলিয়ন বছর আগে। সেখানে চার মিলিওন বছর এমন কি সময়? আর চার কোটি বললাম এই কারণেই যে, ওটাই সূর্যের আয়ুস্কাল... এর পর সূর্য নিভে যাবে।

- সেকি তাহলে আমাদের কি হবে?

- তার আগেই আমরা অন্য কোথাও চলে যাব…

- কোথায়? কি করে?

- এই ধর এই গ্যালাক্সিতেই পৃথিবীর মতন অন্য কোনও গ্রহে... বা অন্য কোনও গ্যালাক্সিতে। তাও না হলে, এই ইউনিভার্স ছেড়ে মালটিভার্সের যে কোনও একটায়।

- হাসালে! এত মানুষ, এত দূর ...কত বড় রকেট তৈরি করবে? উড়তে পারবে?

- রকেট না তো! তখন তো Digital Transportation হবে।

- মানে?

- কি করে বোঝাই বলতো! আচ্ছা, আমার হাতের খবরের কাগজের এই খানটায় তুমি কি দেখছ?

- একটা লাল গোলাপের ছবি।

- আমি এই ছবিটা তোমায় দিতে চাইছি... কি ভাবে দেব?

- কেন? হাতে হাতে…

- সে তো তুমি আমার পাশে আছো বলে। কিন্তু যদি চারশো মাইল দূরে থাকতে, তবে?

- উঁ… কুরিয়ার সার্ভিসে

- না আরেক ভাবেও পাঠানো যায়। তোমার বাড়ীর কম্পিউটারে নেট কনেকশান আছে? ওয়াই ফাই? প্রিন্টার? স্ক্যানার?

- আছে

- আমারও আছে। আমি কি করব, গোলাপের ছবিটা স্ক্যানে চাপাব, স্ক্যানার লাইন বাই লাইন স্ক্যান করতে করতে বুঝে নেবে ছবিটায় গাঢ় লাল, হাল্কা লাল আর ধুসর পিক্সেল কোন জায়গায় কতটা আছে ... সেই ইনফরমেশান ও আমার কম্পিউটারে দেবে... আমার কম্পিউটার ইন্টারনেটে তোমার কম্পিউটারে লাল গোলাপের ডিজিটাল ইনফরমেশান পাঠাবে... এবার তুমি অতি সহজেই ডাউনলোড করে তোমার প্রিন্টার থেকে একটা লাল গোলাপের ছবি পেয়ে গেলে। আর এই ভাবে যদি একটা দ্বিমাত্রিক ইনফরমেশানকে ডিজিটালি ভেঙ্গে আবার রিকন্সট্রাকট করা যায়, তবে ত্রিমাত্রিক ইনফরমাশানকে করা যাবে না কেন? শুধু একটা খুব উন্নত মানের সুপার কম্পিউটার দরকার... ব্যাস!! 

- বেশ। আর তুমি মালটিভার্স না কি যেন একটা বলছিলে… 

- হ্যাঁ, এই ইউনিভার্স এর মতনই আরও অনেক ইউনিভার্স... কোএক্সিটিং ইউনিভার্স... এর প্রত্যেকটাতেই তুমি আছো, আমিও আছি... একটাতে তুমি আজ সকালে দাঁত মেজেছ, আর একটায় মাজনি... এক ইউনিভার্সে হিটলার হেরেছে, আরেকটায় হারেনি…

- বল কি? এ তো কল্পগল্প মনে হচ্ছে।

- তা তো মনে হবেই ... কারণ ব্যাপারটা আমাদের সাধারণ বোধগম্যতার নিরিখে খুব জটিল... এতই জটিল যে, যে বিজ্ঞানীরা এর অস্তিত্বের প্রমাণ পাচ্ছেন, তাঁরা নিজেরাই ব্যাপারটা মন থেকে মানতে চাইছেন না। ভীষণভাবে চাইছেন, এটা ভ্রান্ত প্রমাণ হোক।

- ব্যাপারটা আরেকটু খুলে বলো।

- Young Double Slit experiment… Classical Mechanics কে দারুণ ধাক্কা দিয়েছে। অনেক আগেই বোঝা গিয়েছিল বিশ্বের যে কোনও বস্তু Sub Atomic লেভেলে হয় কণা, নয় তরঙ্গ। কিন্তু কখনওই দু’টো এক সঙ্গে নয়। আর এও দেখা গেছে Sub Atomic লেভেলে Newtonian Theory কাজ করছে না... ধাঁধার রহস্য সমাধান করতে এগিয়ে এসেছে Quantum Mechanics . Double Slit experiment করা হয়েছে আলোক কনিকা Photon এর ওপর। এমনকি Electron বাCarbon Molecule এর ওপরও। সব ক্ষেত্রে একই ফল … Double Slit দিয়ে বেরিয়ে কণাগুলোর উলট দিকের প্লেটে যেখানে আছড়ে পরার কথা সেখানে পরছেনা ... কতগুলো কনাতো আবার হারিয়েই যাচ্ছে ... এর থেকেই বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন ... অন্য জগতের কণারা ভীষণ ভাবে প্রভাবিত করছে এই জগতের কনা’দের ... আর যে কনাগুলো এখানে হারিয়ে যাচ্ছে, তারা অন্য জগতে হাজির হচ্ছে... এবং সেখানে তারা নিজ ধর্মে, নিজ অস্তিত্ব নিয়ে বহাল তবিয়তে বিরাজ করছে। ব্যাপারটা অনেকটা কেমন জানো? যেমন আকাশের মেঘটাও জল, নদীর জলটাও জল, আবার পাহাড় চূড়োয় জমে থাকা বরফ’টাও জল... এক এক জায়গায় অবস্থান করলেও বেসিক্যালি H2O … এ সমস্ত পরীক্ষা থেকেই বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ইউনিভার্স যেমন সত্যি মালটিভার্স’ও তেমনি সত্যি। এ পর্যন্ত যত গাণিতিক ফর্মুলা এ ব্যাপারে আবিষ্কৃত হয়েছে, সে সবই মালটিভার্সের স্বপক্ষেই রায় দিচ্ছে।

- বুঝলাম অবিনাশ... কিন্তু ভাল লাগছে না।

- কেন?

- আমার ঈশ্বর আমার অন্তরের আলো ... মাঝে মাঝে উপলব্ধি করি তাঁকে... সে শেষ পর্যন্ত এক দুর্বোধ্য গাণিতিক ফর্মুলা?

- বুঝতে পারছি বিনয়, তুমি কবি তো -তাই ভীষণ ইমশানাল। নইলে এমন অদ্ভুত ইচ্ছে জাগে তোমার... কি না - ভোরের কোলকাতা দেখতে দেখতে, গঙ্গার পার ধরে যেতে যেতে, গাড়িতে বসে মহালয়া শুনবো... আর আমিও তোমার পাল্লায় পরে সেই কাশীপুর থেকে এই টলিগঞ্জ পর্যন্ত ড্রাইভ করে এলাম। তবে আমিও চাই, বিজ্ঞান তার ফর্মুলা নিয়ে, তার টেকনোলজিকে সঙ্গে নিয়ে পরমসত্যকে বহির্বিশ্বে খুঁজুক আর তোমরা খোঁজো অন্তরে। মানব মস্তিষ্কের মোটে দশ শতাংশ নিয়ে আমাদের যাবতীয় কাজ কারবার, বিচার... তোমরা বাকি নব্বই শতাংশকে জাগাও, কাজে লাগাও, অধ্যাত্মবাদের পথে খোঁজো সেই আল্টিমেটকে... চলো উঠি। অনেকটা পথ যেতে হবে।



ওঁরা উঠে পড়লেন। দুজনেই আমার দিকে তাকিয়ে হাসলেন একটু - এমন স্নাতক হাসি আমি বহুদিন দেখিনি। দেখলাম ধীর পায়ে এ ওর কাঁধে হাত রেখে চলে যাচ্ছেন দুই বন্ধু - যেন বিজ্ঞান আর অধ্যাত্মবাদ হেঁটে চলেছে পাশাপাশি। পার্কের গেট ঠেলে বেরিয়ে গেলেন ওঁরা।

আকাশের দিকে মুখ তুললাম। আশ্বিনের মেঘ ভেসে চলেছে নীল আকাশে। সোনা রঙা রোদ ঝরে পড়ছে বৃষ্টি ধোওয়া গাছগুলোর পাতায় পাতায়, পার্কের ঘাসে। পাশের গাছে শালিখ পাখীর বাসায় মা শালিখ কোত্থেকে খাবার খুঁটে নিয়ে এসে তার বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছে... বাচ্চাটার চিঁ চিঁ আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। কি মায়া কি প্রেম আমাকে ছুঁয়ে ছড়িয়ে পরছে চারদিকে... আমার এই ছোট ছোট অনুভূতি… ভালোলাগা... শেষ পর্যন্ত ʃʃʃall space p(x,y.z,t)dV = 1 এর মতন কোনও এক দুর্বোধ্য গাণিতিক ফর্মুলা হয়ে যাবে! না, এ আমি মেনে নিতে পারছিনা কিছুতেই। এ পৃথিবী আমার ঈশ্বর। জেগে থাকুক আমার চেতনায়, আমার অস্তিত্বে।

আজ মহালয়া... মা আসছেন... উৎসব জেগে উঠছে।

আমার ঈশ্বর খুব কাছাকাছিই থাকেন... এই পুজোয় মানুষের ভিড়েই খুঁজব তাঁকে।





যাঁদের কাছে ঋণী –

খানিকটা দেবাশিস লাহার কাছে, খানিকটা হিমাদ্রি মুখোপাধ্যায়ের কাছে, খানিকটা নারায়ণ দেবশর্মার কাছে, আর অনেকটাই Michael Crichton এর কাছে।

0 comments: