0

মুক্তগদ্য - সায়ন্ন্যা

Posted in


মুক্তগদ্য


যাতায়াত 
সায়ন্ন্যা



বহুদিন হলো এবাড়ির দরজা খোলেনা কেউ। এক আধবার ঝড় উঠলে দু একটা পাতাপত্র ধুলোবালি পাক খেয়ে যায় সকাল বিকেল। দেওয়াল পেরিয়ে যেটুকু যা রোদ্দুরের গন্ধ ছুঁয়ে যায় সেসব এখন বাহুল্য। এইসব ঘাসজমি… ফুলফল… ইকিরমিকির… নোনা চিংড়ির খোলস বাসর আর কয়েকটা চরিত্র স্নেহরং জলফরিঙের ডানায় ভাসে ইচ্ছেমতন। কেউ কখনও বলেনা, "এসেছো? থাকবে? খুব কষ্ট পেয়েছি, জানো?" 

এযাবৎ যেটুকু যা ঘুম, ইত্যাদির সুযোগ এসেছে সেসব ছুঁড়ে ফেলেছি তুমি ফিরবে বলে একদিন। গতমাসে বড্ড বৃষ্টি হলো। পথঘাট... পীরের থান... আমতলার কল... সব ভাসছে। চাদ্দিকে শুধু জল আর জল। আমি দেখছি বাদলা পোকা পাক খাচ্ছে খুব। মানে, আরও হবে। এইবার বৃষ্টি নামলে ভাসিয়ে দেবো খাতাপত্তর। একজোড়া নৌকো নামাবো কাদাজলে। টাল খেয়ে এগিয়ে যাবে একটা ভালবাসা রং উপচে পড়া নালায়। এই যে এতগুলো দিন পেরিয়ে যাচ্ছে। এই যে একবারও আটকে রাখছিনা। তুমি... তোমার শব্দ... তোমার আলুথালু জামাকাপড়... দু তিনটে পুরনো কলম... আমাদের সব অংক, ভূগোল, ব্যাকরণ... রুনিদের কালো কুকুর... তোমাদের ছাদের শিবমন্দির... এত্তসব ফেলে রেখে কেমন করে ভালো আছো গো? রাতের পর রাত এবাড়িতে কেবল একটা চাঁদ জেগে থাকে একলা। কালো আকাশটা বুকের মধ্যে জমিয়ে রেখে একটা চাঁদ শুধু অতীতজ্বরে বাঁচে। তোমাদের পশ্চিম বারান্দায় ঊষর কিছু ভাঙ্গাচোরা টব আজও দিন গুনছে ফুল ফুটবে বলে। এই যে এতসবের পরেও একজন চলে গেছে; ফিরবেনা কোনওদিন... এই যে এতকিছু ভেবে দিন থেকে রাত আর রাত থেকে দিন গড়িয়ে যাচ্ছে... আর ঠিক কতটা না পেরে উঠলে চাঁদ একদিন কেঁদে উঠতে পারবে... অবসরে বলে যেও কখনও।


0 comments: