undefined
undefined
undefined
বইপোকার বইঘর - অনিন্দিতা মণ্ডল
Posted in বইপোকার বইঘর
বইপোকার বইঘর
অনিন্দিতা মণ্ডল
ভাস্বতী বন্দ্যোপাধ্যায় কাব্য লেখেন, গল্পও লেখেন। পেশায় উচ্চপদস্থ সরকারী আমলা হলেও তাঁর মনোজগৎ সমৃদ্ধ। কারণ শিক্ষার নিক্তিতে তিনি সাহিত্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। দেশ বিদেশের নানা সাহিত্যের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। জীবন ছেঁচে তিনি তুলে আনেন অমূল্য কিছু পল। তাঁর দেখার চোখ তাঁর বোধের মন, সেই সব পলকে কখনও কবিতা করে তোলে, কখনও বা গল্প। সুতরাং কোনও কঠিন সীমানা দিয়ে তাঁকে ঘিরে ফেলা সম্ভব নয়।
আলোচ্য গ্রন্থটি প্রতিভাসের প্রকাশনায় একটি কাব্যগ্রন্থ। নাম - কিছু দাহ কিছু জল। মোট ছাপ্পান্নটি কবিতা আছে বইটিতে। প্রতিটি কবিতাই কবির এক স্বতন্ত্র স্বরকে জাগিয়ে দেয়। প্রথম যে কবিতাটি, নাম - ফেরা। কোথায় যে ফিরতে চাই, কেন যে চাই, তাই আমাদের কাছে অজ্ঞাত। অথচ দিনশেষে ফিরতে হয়, অভ্যাসে, কর্তব্যে, আর আপোষে। কোথাও কি নারীর বিষাদকণ্ঠ বেজে উঠছে? সন্ধ্যেবেলার শঙ্খধ্বনির মতন? কবি যে নারী ! কত কত অভিমান যে ভিড় করে! ভুল কবিতায়। "আমাকে আজন্ম তুমি পড়ে গেলে ভুল উচ্চারণে"। সত্যিই! পুরুষ কি কখনও নারীকে ঠিক উচ্চারণে পড়তে পেরেছে? না, পড়তে চায়? অথচ তার কাছে নারীর বাড়ে ঋণ। সে বলে ওঠে, "এখনই যেওনা। থাকো।/ এ জীবন, প্রতিধ্বনিহীন।/ তোমার অপ্রেম দিয়ে তবু ঘিরে রাখো।" কেন এই ঋণ? কারণ, একদিন যত জ্বালা যত দাহ গান হবে। তাই "বেদনা তোমার কাছে ঋণী"। কিন্তু শুধুই কি এমন ছবি? কবি বিজয়িনীও। কখন? মনখারাপের একলা ঘরে সে তার মুকুটখানি খুলে রাখে। দর্পহারা মানবী অন্তরালে বিজয়িনী। তার একলা ঘরের অন্ধকারে অহঙ্কার নামিয়ে রেখে সে বিজয়িনী।
এ বইয়ের প্রতিটি কবিতা কবির স্বগত উচ্চারণ। কোথাও বৈপ্লবিক উচ্চকিত স্বর নেই। অথচ ফল্গুর ধারার মতো বয়ে যায় এক উত্তরাধিকার সুত্রে পাওয়া অভিমান অনাদর আর বেদনার সম্পদ। নারীর যা একান্ত নিজের ধন। এই সম্পদি তাকে অন্তরে ধনী করে। চেতনায় ঊর্ধ্বমুখী করে। সে নিজের সঙ্গে অনবরত কথা বলে। নিজেকে আদর করে। নিজের অভিমানের সঙ্গে খেলে চলে কাব্যখেলা।
শাদা কালো আর লাল, এই তিনটি প্রাথমিক রঙে আঁকা প্রচ্ছদটি সুদীপ্ত দত্তর। কালোর মধ্যে লালের উন্মোচন যেন অন্তরের অন্ধকারে নিরন্তর রক্তপাতের খবর দেয়। শাদা পাতায় তাই লিখে চলেন কবি।
যারা নিজের মনে কবিতার সঙ্গে একলা বসত করতে ভালোবাসেন, তাদের কাছে এ বই সঙ্গী হবে। সখী হবে।
0 comments: