0

মুক্তগদ্য - পৃথা রায় চৌধুরী

Posted in


মুক্তগদ্য


ফাইনাল ভার্ডিক্ট... জন্মান্তর 
পৃথা রায় চৌধুরী 



অল ইজ ফেয়ার ইন লাভ এন্ড ওয়ার

আঘাটায় বসে তুমি কুক্কুরীর বহুগামীতা দেখছো। তাদের আদিম আওয়াজে প্রার্থনা করছো, অভিশাপে অক্ষম তোমার পুরুষাঙ্গ আবার জেগে উঠুক পৃথিবীর নারীভাগে প্রলয় ডেকে আনতে।

হায়, শত্রুজিৎ! তুমি বসে আছো সে কোন গঙ্গার তীরে। সেখান থেকে সুদূরপ্রসারী দৃষ্টি মেলে ধরেছো হোটেল ওরিয়েন্টের এক বিকিকিনির কামরায়। সেই যে শাল্মলী পরিবহনের বিপরীতে ওরিয়েন্ট! সীমিতা দেহপসারিণীর বিকৃতি তুমি ধারণ করছো নিজের শ্রবণেন্দ্রিয়ে। তবু, হায় বেনুবল্লভ, ফিরে এলো না তোমার বিনষ্ট পৌরুষ। বড়ো আক্ষেপে বলেছো, সময়ে কেন নেত্রাকে নিক্ষেপ করোনি এমনই কোনো বিকিকিনির বাজারে! সে তুমি পারতে না শত্রুজিৎ, আমার কোমরের খাঁজে যেখানে বাড়তি মেদ, ঠিক সেখানেই তুমি নেশাবন্দী ছিলে। তখন আমায় নিক্ষেপ করলে বুঝি সেও আসতো না, যাকে অক্লান্ত চেষ্টা করছো আমার থেকে কেড়ে নেবার। তুমি চেষ্টা চালিয়ে যাও। একে একে তোমার সব ঘৃণ্য গৌরব কেড়েছি, কেড়েছি তোমার যুগল ঘেয়ো কুত্তার বীরত্ব। অহল্যা এবার নষ্টার নষ্টামির দিকে এগিয়ে দিয়েছে তার বিচারদণ্ড। দক্ষিণ তিলে আগুন লেগেছে অহল্যার কপালে।

অচেনা অদেখা সেই আগন্তুকের সুলুক পেয়েছো? এ সেই তোমার চিরশত্রু প্রসন্নজিৎ। তবে তোমার বুদ্ধির তারিফ কিভাবে করি বলো দেখি? নিজের শতসহস্র মৃত্যুবাণ তুমি স্বহস্তে তুলে দিয়েছো তার হাতে। তার বর্ম আর মুখ ঢাকা শিরস্ত্রাণের আড়ালে প্রথমে ভেবেছিলে, কোনো স্থূলবুদ্ধি, এরপর ভাবলে দাঁড়িয়ে আছে ত্রিনেত্রা অথবা তার গর্ভাশীর্বাদ! আর কতোবার, তোমার দুঃখে হায় বলে বিলাপ করি? আসল চেহারা বুঝতে বড়ো দেরি হয়ে গেল...

ক্রমাগত ডেকে চলেছো সেই সন্তানকে, যার মাতৃগর্ভের পরিচয় জেনে ভেবে নিয়েছো, এ তোমার জন্মজন্মান্তরের ঔরস। দুটি বটফল হাতে চেনার চেষ্টা করো, সে কোন জন! তোমার পচে যাওয়া বাম বৃক্কের দোহাই পেড়ে আমারই সন্তানকে বলছো, তার ভ্রষ্টা মাকে পদাঘাত করে তোমার কাছে চলে যেতে। তোমার শরীর থেকে নিত্য নিঃসরণ হয় যে বদরক্তের, তার দোহাই পাড়ছো। কি করে ভেবে নিলে, পাপাত্মার ডাকে মা'র কোল ছেড়ে যাবে সে? কি মনে করেছো, সন্তান দ্বারা অহল্যার পুণ্য তোমাকে মৃত্যুগহ্বর থেকে টেনে আনবে, তুমি জয়োল্লাসে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেবে অন্ধকারের পরাগ? হায়, বেনু... হায়!

একমাত্র মা জানে সন্তানের পিতৃপরিচয়। তুমি তবে জেনে রাখো, পিতা হয়েছো কেবল বীর্যে। সন্তানদ্বয় ফিরে ফিরে আসে সেই ওমের আদরে, যাকে তারা বলে পিতা। সেই পিতৃস্নেহ, পিতৃদায় নিজেদের অস্তিত্বের অংশ করে পৃথিবীর বুকে ফিরে ফিরে আসে তারা। সন্তানসুখ কেবল আমার, কেড়ে নিয়েছি তোমার সে অধিকার পুরাকালের কোন বিস্মৃত লগ্নে।

রাজপথ, পাখালি ভোর, বটের ফল
বাছতে বসো, খুঁজতে বসো, গড়ালো জল।



ইট'স অল ইন দ্য গেম

প্রথম কিস্তিতে, বন্ধ হোক আগুন কলম আশায় আশায় ছিঁড়ে আসা মুখোশেরা শরণাপন্ন শেষ আশ্রয়ের। সামাল সামাল, মুখোশ বুঝি ওই দামাল দাবানলে খাক হয়ে যায়। বেরিয়ে পড়ে বুঝি বসনহীন বিক্রম অভেদ শত্রুজিতের দল। শেষ আশ্রয় হোক নেত্রার আদরের সেই ডাক, "দাদা", যে বোঝে না, ছলনায় তাকে মুখোমুখি করেছে দুরাত্মারা, প্রিয় সহোদরার। সরল দাদা, জটিল বোন... Mission aborted, beep beep beep!

দ্বিতীয় কিস্তিতে, দালাল তুমি দালাল নও? পরিমার্জিত শ্রুতিমধুর করে, এজেন্ট? দালাল বললে ফোঁস করো সীমিতা-সুচন্দন সুবাসের ওপর? You are a bloody pimp, বেনুবল্লভ!

তৃতীয় কিস্তিতে, আমার সন্তানকে দেখাবে আমার ব্যাভিচারের দাগ? সন্তান কোলে অহল্যা তোমাকে বেঁধেছে তার নশ্বর ঝাঁঝালো মাদক দেহের বাঁকে, তোমার ঘৃণ্য পাপী কবল থেকে সন্তানকেই বাঁচাতে। আঁচলচাপা ক্রোড়স্থ সন্তানসাক্ষী। পুত্রকন্যা মাতৃদেহের কালশিটেফুলে বুলিয়েছে অমৃতপরশ, অহর্নিশ।

চতুর্থ কিস্তিতে, তুমি নিজের ফাঁপানো পৌরুষের যে ডঙ্কা বাজাতে, আসলে অহল্যা ভালোবেসে কখনো তোমার দুর্বল পৌরুষের ব্যঙ্গ করেনি! চিরকাল অহল্যার পৌরুষে ডুবে মিছেই ভেবেছো অসম ভাবে তুমি ভোগ করেছো। আত্মঘাতী হবে, যদি বলি ভোগ হয়েছো ভোগী, তোমার অপ্রেমে?

নেত্রা তোমাকে জানায়নি, পবিত্র গর্ভদান করেছিলো পবিত্র বীর্যবান। খেলতে খেলতে নিজের বুদ্ধির ওপর চরম আস্থায় ভুলে গেছিলে, অহল্যা ছিল পাশায় দক্ষ... নেত্রা তোমাকে মনে মনে বলেছিলো, তুমি কোনাকুনি এসো, আড়াই ঘরের চাল দেবো।

সাদায় কালোয় জিতের হার, বোড়ের চলন এই
বিনি সুতোর বাঁধন যার, মুছতে পারে সেই।



দ্য পাওয়ার বিহাইন্ড

ছেলেটার পিতৃপরিচয় নিয়ে খিল্লি করছো, করো। নিজের পিতৃপরিচয় কি, তা জানাতে পারবে তো, পৃথিবীকে? বলতে পারবে তো, তুমি তোমার মা'র স্বেচ্ছা অজাচারের ফসল? সেই অজাচারের দুই ভাগিদারের একজন, তোমার গর্ভধারিণী, আরেকজন তোমার মাতামহ। সামাজিক পিতার বীর্যে অন্ধকারের বীজমন্ত্র তুমি, কখনোই দেখতে না ইহলোক। এসো বেনুবল্লভ, একে একে সকল সংহার শেষে এখন তোমার মুখোমুখি অহল্যাপ্রভা। দশভূজার থেকে জাত গণপতিকে প্রশ্ন করো, তার পিতা কে? তুমি যাকে উচ্চস্বরে নিজের হেরে যাওয়া চাপা দিতে, "খানকির ছেলে" বলছো, তাকে জন্ম দিয়েছে ত্রিনেত্রা নিজের কষ্টকে তিলতিল আদর দিয়ে। প্রয়োজন হয়নি তার কোনো বীর্যবানের। অশালীন ভাষা বড়ো, আমি বলেছি বলে? তুমি এই ভাষায় চেঁচিয়ে উঠলে পৌরুষ!

তোমার শাস্তিকালে আমাকে শুষে জীবনধারণ করতে বলেছে যে নষ্টা, তাকে জানিও, অজ্ঞাতে নয়, জ্ঞাতে সয়েছি সব... যদি অন্তত এবার তোমায় বিনাশে হাত থেকে... পারিনি। তুমি, আর আমার আগুন। ব্যাস, এই ভবিতব্য। তোমার অজ্ঞাতে বরং যতোবার রক্তপায়ীকে আক্রমণ করতে বলেছো আমার পুত্রকন্যাদের, ততোবার আমার গরল পাঠিয়েছি তার সাথে। নিষ্ঠুর খেলা খেলেছি, বড়ো দুঃখে।

তুমি যা ভাবছো, আমিও ঠিক তাই ভাবছি, জানো? তুমি আমার কষ্টজাতককে বোঝাতে চাও, প্রয়োজনে আমি তাকে মেরে ফেলতে পারি। পারিই তো। ছলনায় যে পিশাচবিন্দু তুমি তার ভেতরে দিয়েছো, তাকে তিলতিল করে মেরে ফেলে সংহার করবো সেই পিশাচের। উল্লাস! তাকে তিলতিল করে মেরে ফেলবো যখন জানিয়েছি এক সমুদ্র কান্নায়, সে জড়িয়ে বলেছে, তোর ত্রিনয়নের মণি মরতেও রাজী। এবার, শত্রুজিৎ?

তবে চলো, আমার স্তনের অমৃতকলস আর তরবারির একত্র চলন দেখো। দেখো, a filicide stands before you now... তার আগে আরো একবার তারকেশ্বরের পথে পুণ্যার্থী হবে নাকি? আবার এসে পৌঁছবে না তোমার নরমাংসের কারবারির দল। এতো খেউড় করতে নেই জিৎ, কাকেই বা করছো? অহল্যাকে? তার জন্মদাতা বা জন্মদাত্রীকে?

দুধপুকুর কাঁধের বাঁক উপচে পড়ে জয়োল্লাস
দূরের পথে আটকে থাকে পচতে থাকা ঘৃণ্য লাশ!



মাদার ইজ অল আই নো

অহল্যাপ্রভার ছেলে বলছি। জিতমন্যু। আমি মা'র কষ্ট সন্তান। তোমাদের বোধের শেষ যেখানে, সেখানে আমার জন্ম। আমাকে মা'র থেকে কেড়ে নিতে পিশাচেরা ব্যবহার করেছিলো মার পবিত্র শরীর। মা'র তেজে তারা আজ মৃত। মা'র সতীত্ব নষ্ট করতে না পেরে, পিশাচ তার সর্বশেষ ছোবল দিলো। ছোবলের নাম পৃথ্বীরাজ। গ্রাস করলো সে, ত্রিনেত্রাপুত্রকে। নরপিশাচেরা পাপের ভারে ভরিয়ে দেয় তাকে আর জয়োল্লাস করে। মা'র যে তৃতীয় নয়ন, তার থেকে বেরিয়ে আসে প্রলয়ের রশ্মি।

এমন গ্রাস, পৃথ্বিরাজের মৃত্যু হলে, জিতমন্যুর জীবনসংশয়! তাহলে? তাহলেও চলুক মা'র বিনাশানলের তাণ্ডব। তোমরা দেখো, ওই আমার ক্রোধান্ধ মমতাময়ী মা। ওই দেখো, সাথে আমার সহোদরা, বিদ্যা। আগুনের ওপর নিক্ষিপ্ত আমি পুড়ছি, ছুটে বেরিয়ে আসছি ওদেরই টানে। আমি মৃতপ্রায় দেখছে ওরা। রুক্ষস্বরে মা'র আদেশ, পৃথ্বিরাজকে ত্যাগ না করলে, আমাকেই পুড়িয়ে দেবে আগুন। পরজীবি পিশাচনন্দন আমার সঙ্গে পুড়তে পারেনি, পালিয়ে গেছে চিরতরে। মার আগুনে আমি জখম, পিশাচবীজ বন্দী অতলে। মৃতবৎসার কান্না শোনো, সে তার পাপফসল। সম্পূর্ণ নষ্টপৌরুষ তার পাপাত্মা পিতার হাহাকার শোনো, হেরে গেছে আমার মা'র কাছে।

গন্ধরাজ গাছ ঝেঁপে ফুল ফুটেছে, মার আঁচলে গন্ধরাজ ফুল হয়ে আমি আর বোন। মার আঁচলের শক্ত গিঁট। মা হাসছে। আঁচলের শক্ত গিঁটে মার হাসি। তোমরা আমার মার বুক দেখেছো, সত্যি সুন্দর... তোমাদের লালসার স্থানে মা ধরে রেখেছে পুত্রকন্যার সঞ্জীবনী।

ময়লা শরীর পোড়ার দাগে মায়ার পরশ অহর্নিশ
জ্বলছে ধিকি রাজার টীকা, পাপের মরণ পুণ্যবিষ।



দ্য আনহোলি পায়ার

কাঠকুটো সুখা পাতার ওপর শায়িত তোমার জাত অজাত পুত্রের শব, কাঁদছো চরম হাহাকারে। শব নয়, সে শবের প্রতিকৃতি মাত্র। তোমার স্বহস্ত নির্মিত। পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বিকারগ্রস্তা তোমার কলুষসঙ্গিনীরা,শোকাকুলা। হুতাশে অগ্নিসংযোগ করেছো চিতায়, আর ধিক্কারে খুনি নামে ভূষিত করেছো ত্রিনেত্রাকে। শতেক কুশব্দ বলে চলেছো চাঁড়ালরূপী অহল্যাপ্রভাকে, তুমি আর তোমরা।

দেহে বন্দী করেছি সন্তানদ্বয়, সন্তানদ্বয়ের মাঝে গেঁথেছি নিজেকে। সাদা থান পরিহিত পরাজিত বেনুবল্লভ উঠে এসো গঙ্গাবক্ষ থেকে, পুত্রহারা পিতা! শ্রাদ্ধাদি সুসম্পন্ন করো আগামীতে। তবু, মুক্তিহীন হবে তোমাদের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ। ফিরে ফিরে আসি, শুধু তোমার সংহারে, নষ্ট পুরুষ।

কে বলে আমায় খুনি? যে কালো মৃত, তার আঠালো রক্তে আসলে মাখামাখি তোমরা। সাদার মাঝে অন্ধকারের শুধু মরণ ভবিতব্য, অজ্ঞাত ছিলো কি? প্রতিহিংসায় মৃত্যু দিতে চাও আমায়, আগে বার করো গেঁথে থাকা ত্রিনেত্রাকে তার সন্তানের ভেতর থেকে। সন্তানকে ছুঁতে গেলে তোমাকে পেরিয়ে যেতে হবে নেত্রাকেই। তোমার বোধী কি বলে, শত্রুজিৎ? It's a deadlock!

ছিনিয়ে নিয়েছি তিলতিল হাসি, তোমার থেকে ধর্ষকামী,
আঁচলচাপা গন্ধরাজের বর্মে মোড়া আমার আমি।


দ্য সেন্ট্রিফিউজ

বিষাদ ছড়িয়ে পড়ছে না কিছুতেই, চাইছি একটু বিষণ্ণতা। আমি এখন দুসরা চেহারা কুড়োতে ব্যস্ত। পৃথিবীময় রূপটান। একেক সময় অহল্যাপ্রভার অস্তিত্বরক্ষার যুদ্ধ ভাবি, ভাবি বেনুবল্লভের পৌনঃপুনিক বিনাশ;মনে করি কেন যেন দাবানলেও চুপ গাছেরা তাকিয়ে থাকে অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুর দিকে। তবু বিষণ্ণতা অমিল!

গুনে গুনে ঠিক বত্রিশের আড়াল থেকে শব্দরা ছিটকে বেরিয়ে কখনো আশীর্বাদ বা শাপ; সমস্ত সত্যির পথে বেপথু চলন। তবু কেন উল্লাস? তোমার উদ্যত মিথ্যার জালে ত্রিনেত্রা বিপর্যস্ত, এগিয়ে আসে প্রচুর নখদাঁত... ছিঁড়ে ফেলে ষড়কারী জাল। তুমি পালিয়ে যাচ্ছো; যাচ্ছে তোমার সাথে তোমার রাক্ষুসে পেইন্টব্রাশ। গান গাইতে পারি, পারি কিছু অক্ষর সাজাতে। তবু তুমি হেরে গেলে চিত্রকর! ছবি আঁকা এতো সহজ,আগে বোঝেনি ত্রিনেত্রা। উল্লাস আর ক্রোধের রঙে মাখিয়ে নেয় আনন্দাশ্রু, সে এক অপার্থিব ফল। তুমি সত্রাসে চেয়ে দেখো, পুড়ে যাচ্ছে বাড়বানলে পৃথিবীর আদি অন্ত।

চারের ফের, মনে করিয়ে দিই এসো। বাইশতম প্রবঞ্চনার মাসে তুমি বুঝে নাও, সাদা আঁকড়ে থেকে কোনোদিন অন্ধকারের বশবর্তী থাকিনি। প্রেম বড়ো সরল, বড়ো স্পর্শকাতর। সপ্রেমে হত্যা করেছি অপ্রেমের নগর। যাদের যাদের সাথে সওদা করেছো আমার ব্যাভিচারী শীৎকারের, my foot rests on their Adam's apple!

কিনারা খোঁজো, পিতাপুত্রহীন অমেরুদণ্ডী। সহায় করো আরো আরো বুক ঘষটে চলা প্রাণীকে। প্রত্যেকের জন্য তৈরি রেখেছি অমৃতবাণ, মৃত্যু আসন্ন। বিষণ্ণতা ঠেলে ঠেলে এগিয়ে আসে সক্রোধ উল্লাস।


দ্য বুচার অ্যান্ড দ্য হোলি ট্রি

তুমি বরং একটু ঘুমিয়ে নাও, ততক্ষণ এদিকের শোরগোল শুনে নিই। ডালপালা শেকড় থেকে আলাদা হয়ে মাটিতে নেমে আসার কাহনে হইহই রবে ছুটে এসেছে কিছু না-মানুষ। আপ্রাণ ক্ষতসম্বল আমার প্রশাখা দেখাই তাদের। তারা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়, রক্তঝোরায় কি ছিলো... কিছু স্বস্তিক অথবা চাঁদতারা? উত্তর দিতে পারিনি অ্যাল্পাইন ফরেস্ট, উত্তর দিতে পারিনি প্রাচীন সিবিলা। এসব ভাবতে ভাবতে দেখি রাস্তা জুড়ে মরুভূমি।

রোমান মিথক হতে রাজী আছি। আমায় প্রশ্ন কোরো না, কার উপাসক আমি। আমার স্বার্থে ঘা লেগেছে বলেই ছুটে আশ্রয় নিই মাজারমধ্যের গন্ধরাজে, আর ওরা সযত্নে আমায় নাম দেয় সাদা পরী। তখন আমি কি ইসলাম? আবার শুক্রবারের চাঁদ পেয়ে উঠে শনিমঙ্গলের কোলে মন্দিরের চাতালে মাথা কুটে বলি, হে দেবী, আমায় কোলেই রেখো। অপর হাতে উদ্যত খড়্গ নিয়ে সংহারে নামো দুরাত্মার... সে কাফের, অথচ সেজে আছে স্বজাতি; কার জুরিসডিকশনে পড়বে বেনুবল্লভের কুকর্ম? তোমার, না আল্লাহর?

সেই যে ক্রসের ছায়ায় দাঁড়িয়ে শিখেছিলাম, সর্বশ্রেষ্ঠ যিশু, তাকে নস্যাৎ করেছিলাম। শাদাব বানোর সাথে, নিলোফারের সাথে একাত্ম ত্রিনেত্রাকে এখনো দলবদ্ধ রক্ষার দায় নেয় মন্দির মসজিদ গির্জা। সমাজচ্যুত করবে তাকে? তার আগে বলো তো, আমার সবুজ লাল আঁচল পীরের সমাধিতে, আমার হলুদ লাল আঁচল কামাক্ষ্যায়, ঠিক কোনটা অপবিত্র নামধারী?

হাইওয়ে জুড়ে দুদল মানুষ, একদল জড়িয়ে রেখেছে গাছেদের... "যেতে নাহি দিব"; আরেকদল ধেয়ে যায় পরস্পরের প্রতি বীভৎসতায়, হাতে খাপ খোলা অস্ত্র। হাতে মারণাস্ত্র, শত্রুজিতের সংহার শেষে চারাসন্তানদ্বয় কোলে, গাছ জড়াতে যাবো... মেলে দেবো ধর্মহীন ছায়া। The shadow that pronounces your death.

আখের খোঁজো হলফনামায় খোদাই করা লুঠতরাজ
নীলের পানি গঙ্গাজলে বেহাল তোমার কলুষতাজ! 



মি, দ্য রিপার

অদ্ভুত ভাবে তুমি মিল খুঁজতে থাকো বারো আর একুশের মাঝে, ভাবতে থাকো এ শুধুই এক আর দুইয়ের খেলা? ওদিকে বদলে যায় বিচারকের আসন, এদিকে তুমি আলোচনায় বসো, তোমার তস্করবৃত্তি কোন কোন স্থান থেকে বিতাড়িত করেছে তোমায়।

জানালার কপাটে মুখ রাখি, গরাদে বেঁধে দিই দৃষ্টি। দৃষ্টিতে মেঘ এলেই তুমি সজোরে বন্ধ করতে থাকো প্রতিটা জানালা, পাছে তুঁতবর্ণ হয়ে যায় সব! সেদিন সারা রাত ধরে নিজেদের প্রতিটা স্নানপাত্র লুকিয়ে ফেললে; লুকোতে লুকোতে নিজেকেও লুকোলে ঘুমের তলায়, সমানে বলে চললে, "আমার রক্তে স্নান না করে এ থামবে না, লুকিয়ে পড়ি।" তাহলে চিনেছো আমায় শতকরা একশো ভাগ...

তুমি একপা বেরোও আমার আলপনা অহল্যাগণ্ডীর বাইরে, তাড়া করে আসে মারমুখী যানচালকের দল। তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ শক্তির কাছে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চাইবে না? চাও, প্রাণ ভরে চাও। এই তো সেদিন, লক্ষ্মীর ঝাঁপি থেকে আবার আলটপকা উথলে উঠেছিলো হাজার চল্লিশ। ভাগ্যলক্ষ্মী, তুমি কার? তার, যে বুকে আগলায়, তার।

আমার বিশালাক্ষীর ভারে চাকা ঘুরিয়ে দিই। তুমি খোঁজো তাকে, যে আমার প্রতি ফোঁটা চোখের হিসেব রাখে। তোমার প্রতি পদক্ষেপে লাঙ্গলের ফলা ধরেছি। পৃথিবী আসছে আগ্রাসী।



ল্যান্ডমাইন ইন দ্য গ্রীন

রাতব্যাপী যজ্ঞ হোমাগ্নি সব দেখেছি, দেখেছি তোমাদের কি আকুল প্রচেষ্টা আমাকে তুষ্ট করার। চাও আমার তুষ্টির হাসি মেখে আমার সন্তান তোমাদের উদ্ধারে যাক। এখন হাসি না, বারুদ কাঁদি অবিশ্রান্ত।

ত্রিনেত্রাকে সস্তা গুঁড়োর দোহাই দাও, অহল্যাপ্রভার পুত্রকে নিজের পুত্র বলো... কোন সাহসে? আমার কষ্টবীজ কোলে রুখেছি তোমাদের শস্ত্র। বারবধূ আখ্যা দিয়েছো, বারবার ফিরে এসো মাটিভিক্ষায়, আমারই উঠোনে।

পলাশসারি ধরে হাঁটতে হাঁটতে বিষবৃক্ষের জ্বালা ধরেছি বছর চার। তুমি ভরে দিয়েছো গরল। এবার নিলিয়ে দিই, এসো বেনুবল্লভ। শুধু তুমি নয়, গোগ্রাসে গিলবো সব। বড়ো তেষ্টা পায় আজকাল, মেয়েমানুষের তেষ্টা পেতেও বারণ? Fresh black blood is my fav now, you know!

চোখ বাঁধা, চীৎকার করছে ছেলের পেইন্টিংটা সদ্য ভেঙ্গেছি... বলেছি, মৃত্যু দিলাম, সাথে মুক্তি না হবার শাপ। তবে আমি ভিখিরিকে খালি হাতে ফেরাই না। কষ্টবীজ পাঠিয়েছি... হাসি নয়, বারুদ মাখিয়ে।



পেন উইথ দ্য ব্রোকেন নিব

আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছি মোহনা, অসীম আমার বুকেও ফসফরাস থাকে জ্বলে ওঠার। জেলেডিঙি নিয়ে যারা যায়, সাবধানে তাদের ঝড় নিজে নিয়ে বসি। অনুমতি না নিয়েই বলে দিলে, তোমার বীজমন্ত্রের আয়ুবৃদ্ধি আমার দায়। বাধ্যতামূলক যেকোনো কিছু আমার নাপসন্দ, জন্মান্তরেও তা একই।

প্রতি শ্বাসে, ঠিক দুটি মোমের শিখার তালে নিজেকে জীবন দিচ্ছি। তোমার পিশাচ ঔরসের থালা ছিটকে গেছে... I laugh wildly at your heinous intentions, O Satan! 
পরাজিত করো আমায়।

সকালের রোদে যে ছেলেটার হাতে প্রসাদী ফল তুলে দিলো পুজারী, তার কপালের টীকায় মিশিয়ে দিয়েছি আমার তৃতীয় চোখ। খুঁজে বেড়ালে তাকে আপ্রাণ, যে তোমার ছায়ায় লেপটে... তার মাতৃঋণ শোধে।

বিচারপতি চুপ করে আছেন, তুমি দুশ্চিন্তায় ছটফট। ছুটে যাও দিশাহীন স্বপক্ষের রায়ের আশে। এসো অ-নাথ, সপ্রেমে স্বহস্তে তোমার গলায় দিই বিনাশমাল্য। সামান্য হাতে ধরেছি বিচারকলম।

0 comments: