1

মুক্ত গদ্য : শমীক জয় সেনগুপ্ত

Posted in


মুক্ত গদ্য 




নষ্ট গদ্য - আশ্রয় 
শমীক জয় সেনগুপ্ত 




ঘুম থেকে উঠতেই মায়ের কথা -"বাবাই স্নান সার, জল পাবি না।" 

এই এক ঝামেলা শুরু হয়েছে আমাদের এখানে...থেকে থেকে জল চলে যাচ্ছে। 

ঘুমের মধ্যে কঁকিয়ে উঠি, গরমের নিঃশ্বাস পড়ছে ঘাড়ে। বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে। 

আমার ঘরটা ছোট। বুক শেলফেই একটা তাক জুড়ে আমার ঠাকুর দেবতারা, আমার পূর্বজেরা অ্যাডজাস্ট করে চলেছে। মা বলেন আর বই কিনিস না... এত অবহেলায় বইগুলো থাকছে শুধুমাত্র আমরা ওদের গুছিয়ে রাখতে পারছি না বলে, যে এতে ওদের অপমান হয়। অপ নয় আমার মনে হয় উপসর্গটা বোধহয় অভি হবে। 

ছেলেবেলা থেকেই জেনে এসেছি ঐ কাগজে বাঁধানো বস্তুগুলোই আমাদের প্রকৃত বন্ধু। ঠিকই জেনেছি কারণ  জীবনের সব বাঁকেই বন্ধুরা আমার যাত্রাপথ যত বন্ধুর করেছে, বিশ্বাসকে শতখন্ড করা থেকে শুরু করে অপরাপর কত অভিযোগ কত আণুসাঙ্গিক ফাটল... সবই আমার টার্মিনোলজিতে এক একটা ফেটাল এরর। কিন্তু বইগুলো ঠকাতে পারেনা ... তাই ঠকায়নি। আমার করা অযত্ন মেনে নিয়েছে। 

তাই তারা অভিমান করতেই পারে। এ অধিকার তাদের আছে। 

আমার আকাশে কাল বৃষ্টি-ঝড় হয়নি। 

কিন্তু রবিবার অতীতকে পাশাপাশি দেখলাম। অনুভব করতে পারিনি। ভিজতে চেয়েছি তাও সব নির্যাস সোঁদা গন্ধ হতে পারেনি। 

বাসে উঠলে কত লোকের সাথে গায়ে গা ঠেকে। এমন সব জায়গাও ঠেকে যায় যা ঠেকাবার দরকার থাকেনা, কিন্তু ভিড়ে সে প্রতিরোধ ব্যর্থ। 

তারা কি তাই বলে আমার নিজের নাকি??? তাদের দেখলে মুখে তৃপ্তি জাগেনা, মনে স্ফূর্তি আসেনা। তারা সহযাত্রী। যাত্রাপথে কায়াসঙ্গী। সবাই ত আর বন্ধু নয়। 

অতীতের কিছু পাতা তাহলে আজ আর প্রিয় নয়। তাই কি?? 

না তারা ত খুবই কাছের। 

তবু কেন যে আজ সেই স্মৃতিগুলো শুধু সহযাত্রীর ভিড় মনে হল সেটা বুঝতেই পারলাম না। 



আজ মনে মনে অনেকটা রাস্তা হাঁটলাম। কোন রাস্তার চোরাবাঁকে এক আঁজলা জল ভরে স্মৃতি বলছে জিরিয়ে নাও। 

কোথাও বা তারা হুটোপুটি লাগিয়ে দিল। বলছে "সময় নেই...যেতে হবে। ভিড় বাড়ালে চলবে কেন?" 

সত্যি সময় বড় কম, আর সামর্থের মুঠি তার থেকেও বেশী দুর্বল। সবে ত জংগুলো সরিয়ে এনে শাণ দেওয়া শুরু করলাম মনটাকে, তাও সে ভীষণভাবে জব্দ হয়ে আছে। 

বাস ছুটছে আর পাল্লা দিয়ে হাওয়াও। 

মন ছুটছে মেঘের মত আর ঢিমে আঁচে ফোটানো লিকার চায়ের মত অনুভূতিগুলি আরেকটু উষ্ণতা খোঁজে। 

মনে আছে ছেলেবেলায় কারুর সাথে ভাব জমাতে হলে আর কোন উপায় না দেখলে লোক ডেকে ঝগড়া করতাম। তবু কথা ত হত'! 

তাতে কি হবে? 

কিছুই না। শুধু ভাবে অভাবে বুঝিয়ে দেওয়া "একা নই"। 

যেখানে আসল সত্যিটা সবাই মন থেকেই জানি। আর নিঃসঙ্গ মন বৃষ্টির ছাঁটের মতই ভিজিয়ে দিয়ে যায়। ভাগ্যিস চোখের পাতাগুলো বর্ষাতি হয়ে ছিল, না হলে আয়লা সুনামি বা অপরাপর মনের উচ্ছাস ও স্ফিতীদের রাশ টানা দায় হত। 

আসলে সব বৃষ্টি ত আর রেনকোটে বাঁধ মানে না। 

তাতে ভিজতে হয়, নেহাতই অকারণে  পুড়তেও হয়- নয় ত মেঘ-পিওনের ডাকে সারা দেওয়া যায় না, আর চিঠির মতই গোপন হরফগুলো ডুব সাঁতারে আলোকবর্ষ পার করে যায়। 

মন তার নাগাল পায় না।

1 comment: