0

প্রাচীন কথা - ঋতুপর্ণা চক্রবর্তী

Posted in


প্রাচীন কথা


মিথ-কথন
ঋতুপর্ণা চক্রবর্তী



গ্রীক পুরাণের বিভিন্ন গল্পে নানা জনপ্রিয় এবং তুলনামূলক কম জনপ্রিয় কিছু চরিত্র বারবার উঠে এসেছে। এই গল্পগুলি জানার জন্য এই চরিত্রগুলির সম্পর্কে একটু ধারণা থাকা দরকারী। আগামী কিছু পর্বে আমরা গ্রীক পুরাণ নিয়ে কথা বলব। এখানে মূলতঃ পুরাণের বিভিন্ন চরিত্রের পরিচয় এবং তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে একটু আলোচনা করা হল।

অন্যান্য অপ্রধান দেবদেবীরা 

এই পর্বে কিছু দেবদেবীকে নিয়ে আলোচনা করা হলো যারা অলিম্পাসের প্রধান বারোর মতো শক্তিশালী না হলেও বিভিন্ন মিথে বহুল চর্চিত। এঁরা সকলেই যে অলিম্পাসে থাকেন তা নয়, এঁরা অন্যান্য অনেক জায়গাতেই থাকেন। কেউ কেউ আবার জিউস এবং হেরার সন্তান হয়েও অলিম্পাসের প্রধান বারোর মতো বিখ্যাত নন। সেইরকমই কিছু দেবদেবীকে নিয়ে এবারের পর্বটি। 

ইরিস (Eris) - ইনি জিউস এবং হেরার কন্যা, এরিসের বোন এবং খুব প্রিয় বন্ধু। ইনি ঝগড়াঝাঁটি, রাগারাগি, কথাকাটাকাটি, মতের অমিল ইত্যাদির দেবী। এরিস যদি যুদ্ধের দেবতা হন, ইনি তাহলে সেই যুদ্ধের কারণ। কারণ যুদ্ধের কারণ হিসাবে যে মতের অমিল হয়, সেই মতের অমিল এঁর জন্যেই হয়ে থাকে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, এজিনার (Aegina) রাজা ইয়াকাসের (Aeacus) সুপুত্র মহাবীর পেলেউস (Peleus) আর সমুদ্রের পরী থেটিসের (Thetis) বিবাহ অনুষ্ঠানে (এই থেটিস এবং পেলেউস হলেন মহাবীর আকিলিসের মাতা ও পিতা) সকল দেবদেবীকে নিমন্ত্রণ জানানো হলেও এঁকে জানানো হয়নি। ইরিস নিজেই সেই অনুষ্ঠানে হাজির হন বিনা নিমন্ত্রণেই। তাঁকে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে তিনি এক সোনার আপেল ছুঁড়ে ফেলে বলেন, সবথেকে সুন্দরী এই আপেল পাবে। তিনজন দেবী সেই আপেল নিয়ে মতান্তর শুরু করেন, এথেনা, অ্যাফ্রোদিতি এবং হেরা। এই মতান্তর থেকেই বিখ্যাত ট্রয়ের যুদ্ধের কার্যকারণ শুরু হয়। 

হেবে (Hebe) - হেবে বা হেবি জিউস এবং হেরার কন্যা ছিলেন, কিন্তু সেরকম বিশেষ কোনো দেবী ছিলেন না। এক মতে তিনি যৌবনের দেবী। তিনি অলিম্পাস দেবতাদের আমব্রোসিয়া (Ambrosia) নামক খাদ্য এবং নেকটর (Nectar) নামক স্বর্গীয় পানীয় পরিবেশন করেন। এছাড়াও তিনি অ্যাফ্রোদিতির সহচরী ছিলেন। বিখ্যাত গ্রীক হিরো হারকিউলিস এঁকে স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করেন, এবং সেইজন্যেই সম্ভবত এঁর মা হেরা এবং হারকিউলিসের আবার সুসম্পর্ক স্থাপিত হয়। 

নাইকি বা নাইক (Nike) - এখন একটি বিশেষ স্পোর্টসু হিসাবে পরিচিতি পেলেও আদতে ইনি গ্রীসের জয়ের দেবী। সাধারণ খেলাধুলা বা যুদ্ধ যাই হোক না কেন নাইকি যে দলে থাকবেন সেই দলই জিতবে। এঁর মা হলেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের নদী স্টিকস (Styx)। কথিত আছে, স্টিকস যখন টাইট্যানোম্যাকির সময়ে জিউসের দলে যোগ দেন, তখন তিনি তাঁর চার পুত্রকন্যাকেও নিয়ে আসেন। তাঁরা চারজনেও জিউসের হয়েই যুদ্ধ করেন। তাঁরা হলেন, নাইকি অর্থাৎ জয়, যেলোস অর্থাৎ প্রতিযোগিতা (Zelus) , ক্র্যাটোস (Cratus) অর্থাৎ শক্তি আর বায়া (Bia) অর্থাৎ বলপ্রয়োগ। নাইকি জিউসের সারথি এবং চারজন ভাইবোন একত্রে হলেন জিউসের প্রধান রক্ষী। 

আইরিস (Iris) - আইরিস হলেন রামধনুর দেবী এবং দেবতাদের সংবাদপ্রেরক। তিনি মূলতঃ হেরার সাহায্যকারিনী এবং ব্যক্তিগত সংবাদপ্রেরিকা। তাঁর পিতা থোমাস (Thaumas) একজন সমুদ্রদেবতা ছিলেন, এবং মা একজন মেঘপরী। সেইজন্যেই সকল রামধনুকে মেঘ থেকে সমুদ্র অবধি বিস্তারিত হতে দেখা যায়। এঁকে নিয়ে আলাদা করে কোনো মিথোলজির গল্প নেই। তবে অনেক গল্পেই এঁকে বিভিন্ন সংবাদ বহনকারী হিসাবে দেখা যায়। এঁর সাথে পশ্চিমের বায়ুর দেবতা যেফাইরাসের (Zephyrus) বিবাহ হয়েছে। 

ফেমে (Pheme) - কথাটা চেনা চেনা লাগছে না? এই দেবীর থেকেই আমরা পেয়েছি সেই বিখ্যাত শব্দ ফেম বা খ্যাতি, যার নেশায় চিরকালই অনেক মানুষ মেতে উঠেছেন। ইনি স্বাভাবিক ভাবেই খ্যাতির দেবী। আর তার সাথে যে দুটো জিনিস খুব সহজেলভ্য সেই গুজব (Gossip) এবং উচ্চাশার দেবীও ইনি। ইনি গায়া (মতান্তরে আশা) -র সন্তান। ইনি নাকি সমস্ত ঘটনাকে ততক্ষণ অবধি পরচর্চা পরনিন্দা করতে থাকেন, যতক্ষণ না সেই ঘটনাটা সবাই শুনে ফেলে আলোচনা শুরু করছেন। বর্তমানে থাকলে কোনো না কোনো সংবাদমাধ্যমে এঁর চাকরি পাকা ছিল। ইনি কিন্তু অলিম্পাসে থাকেন না, পৃথিবী এঁর বাসভুমি। 

এসক্লেপিয়াস (Asclepius) - ইনি অ্যাপোলোর একজন সন্তান এবং হিরো বা অর্ধদেব অর্ধমানুষ হলেও পরে প্রোমোশন পেয়ে ইনি হলেন চিকিৎসার দেবতা। ওদের ধন্বন্তরি বলা যায়। এঁর সাপ জড়ানো দন্ডটি এখনকার ডাক্তারদের চিহ্ন। এঁকে যারা সাহায্য করে, তাদের থেরাপিউটি (Therapeutae) বলা হয়। এঁর অনেকগুলি সন্তান আছে, যেমন হাইজিয়া, আইয়াসো, অ্যাসেসো, এগলিয়া এবং প্যানাকিয়া। হাইজিয়া (Hygieia) হলেন পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার দেবী। আইয়াসো (Iaso) হলেন স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের দেবী। অ্যাসেসো (Aceso) নিরাময় পদ্ধতির দেবী। এগলিয়া (Aglæa) সুস্বাস্থ্যের দেবী। প্যানাকিয়া (Panacea) হলেন ওষুধের দেবী।

তবে গ্রীসে যখন সবকিছুরই দেবতা আছে তখন এদেরও বিপ্রতীপ অপদেবতাও বর্তমান থাকবেন। তাঁরা হলেন নোসোই(Nosoi), অর্থাৎ অসুখের অপদেবীরা। এঁরা সংখ্যায় অনেক ছিলেন। 


প্যানের মতো গুরুত্বপুর্ণ দেবতার কথা এখানে বলতেই হয়। প্যান (Pan) হলেন পশুপালক, রাখাল এবং শিকারীদের দেবতা। খোলা মাঠ, বনজঙ্গল, পার্বত্য উপত্যকা হলো এঁর চারণক্ষেত্র। এঁর অনুপস্থিতিতে রাখাল আর শিকারীদের মধ্যে কি সৃষ্টি হতো বলুন তো? ঠিকই ধরেছেন! প্যানিক শব্দটি এখান থেকেই এসেছে। আর্কেডিয়া প্রদেশে বিরাট মাঠ ছিল, সেখানেই প্যান ঘুরে বেড়াতেন। আর্কেডিয়া (Arkadia) শব্দটি থেকেই একর কথাটি এসেছে। প্যান জঙ্গুলে পরী বা নিম্ফদের খুব পছন্দ করতেন এবং তাঁদের ধরার জন্য তাড়া করে বেড়াতেন। এরকম একজন নিম্ফ পিটিস (Pitis) কে তিনি খুব প্রণয় নিবেদন করেছিলেন, কিন্তু সে অস্বীকার করায় তাকে শাস্তিস্বরূপ পাইনগাছে পরিণত করেন। আরেকজন নিম্ফ, তার নাম সাইরিঙ্গস (Syrinx) সেও তাঁকে প্রত্যাখ্যান করায় রিড (Reed) বা নলখাগড়া জাতীয় গাছে পরিণত করেছিলেন। সেই রিড থেকে অবশ্য তিনি এক বাঁশি তৈরি করেন, সেই বাঁশিকে প্যানপাইপ (Panpipe) বলা হয়। মন খারাপ হলে তিনি একা একা সেই বাঁশি বাজিয়ে বেড়ান। আরেকজন নিম্ফ, তাঁর নাম ইকো (Echo)। সেও তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছিল তাই তিনি শুধুমাত্র তার আওয়াজ ছাড়া বাকি সবকিছু মিলিয়ে যেতে আদেশ দেন। সেই থেকে ইকো বা প্রতিধ্বনি শুধুমাত্র আওয়াজ হয়েই রয়ে গেছে। 
এইসব বিবরণ পড়লে প্যানকে বেশ খারাপ বলে মনে হয়, কিন্তু প্যান আদতে খারাপ নন, তাঁর প্রণয় নিবেদনের ধারাটাই অমনতর । অন্যান্য দেবতাদের থেকে প্যানকে বেশ অন্যরকম দেখতে। তাঁর মাথায় শিং আছে, তাঁর পা ছাগলের মতো এবং একটি লেজও আছে। শুধু তাই নয় তাঁর নাকও জীবজন্তুদের মতো চ্যাপ্টা এবং কান কৌণিক। তাঁকে অনেক সময়ই ডায়নিউসের সাথে দেখা যায়। প্যান হারমিস এবং পেনেলোপির সন্তান। 

ইয়স (Eos) - ইয়স হলেন ভোরের দেবী। প্রাচীন সুর্য্যদেবতা হেলিওস এবং চন্দ্রদেবী সেলেন হলেন এঁর ভাইবোন। ইনি প্রাচীন দেবী হলেও পরবর্তী যুগেও চলে এসেছেন। ইয়সের নাকি গোলাপফুলের মতো সুন্দর আঙুল আছে। তিনি এক সময়ে যুদ্ধদেবতা এরিসের প্রেমে পড়েছিলেন এবং তাঁর অঙ্কশায়িনী হন। সেইজন্য এরিসের প্রেমিকা অ্যাফ্রোদিতি তাঁকে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে তিনি সর্বদা সুদর্শন যুবকদের প্রেমে পড়বেন, কিন্তু কোনো সম্পর্কেই টিকে থাকতে পারবেন না। তাঁর প্রেমিকপ্রবরদের মধ্যে অনেকেই আছেন, ওরিওন (Orion) নামে এক সুদর্শন দৈত্য ছিলেন, তিনি তাঁর পিতা পোসেইডনের আশির্বাদে জলের উপরে চলার ক্ষমতা পান। ইয়স তাঁকে দেখেই প্রেমে পড়েন, কিন্তু অভিশাপের ফলে এই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আরেকজন ছিলেন ফেথন (Phaethon)। এক মতে তিনি তারাদের একজন ছোটখাট দেবতা। আরেক মতে তিনি সূর্যদেবতা হেলিওসের পুত্র। একদিন হেলিওসের কাছে বায়না ধরে তিনি সূর্যের রথ চালানোর অনুমতি যোগাড় করেন। তিনি এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে পারেননি খুব একটা সেইজন্যই এক এক সময়ে তিনি মাটির খুব কাছাকাছি নেমে এসেছিলেন। এমনকি আফ্রিকায় তিনি নাকি মাটির এত কাছে এসে পড়েছিলেন যে সূর্যের তাপে সব পুড়ে গিয়ে সাহারা মরুভুমির সৃষ্টি হয়, সেই মরুভুমি এখনো বর্তমান। এইসব দেখে ধরিত্রীমাতা গায়া জিউসকে নালিশ করেন। জিউস এক বজ্রের আঘাতে ফেথনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এই ফেথনও ইয়সের প্রেমিক ছিলেন কিছু সময়ের জন্য। এরপর টিথোনোস (Tithonus) নামে একজন ট্রোজান রাজপুত্রকে ইয়সের পছন্দ হয়। তাঁর সাথেই সারা জীবন কাটাবেন বলে মনস্থির করেন। কিন্তু ইয়স অনন্ত যৌবনের অধিকারী হলেও টিথোনোস তা নন। তাই দেবরাজ জিউসের কাছে তিনি টিথোনোসের অমরত্বের জন্য দরবার করেন। কিন্তু দেবী ভুলে গেছিলেন অমরত্ব আর অনন্ত যৌবন এক জিনিস নয়। ফলে টিথোনোস অমরত্ব পেলেও অনন্ত যৌবন পাননি। অতিবৃদ্ধ হওয়ার পর তিনি একটি ফড়িংএ রূপান্তরিত হন। 

ইয়সের সন্তানরাই হলেন বিভিন্ন বায়ুর দেবতা। চারজন গ্রীক বায়ুদেবতার হদিশ পাওয়া যায়। এঁদের একত্রে অ্যানেমোই (Anemoi) বলে। এঁরা হলেন বোরিয়াস (Boreas), উত্তুরে বাতাস ও শীতের দেবতা; নোটাস (Notus), দক্ষিণের বাতাসের দেবতা; যেফাইরাস (Zephyrus) পশ্চিমা বায়ুর দেবতা আর ইউরস (Euros), পূর্বের হাওয়া দেবতা, যাকে অপয়া মনে করা হতো।

হারমোনি (Harmonia) - অ্যাফ্রোদিতি অর্থাৎ প্রেমের দেবী এবং যুদ্ধের দেবতা এরিসের সন্তান হলেন হারমোনি। ইনি হলেন আগে বর্ণিত ইরিসের বিপ্রতীপরূপ। ইনি সব ঝগড়া ভুলে আবার মিলেমিশে এক হওয়ার দেবী। ইরিসের ঠিক উল্টোটি। থিবস নগরীর প্রতিষ্ঠাতা এবং রাজা ক্যাডমাসের (Kadmos) সাথে তাঁর বিবাহ হয়। এই বিবাহে তিনি একটি নেকলেস উপহার পান। কে যে এই নেকলেস উপহার দিয়েছিলেন সেটা নিয়ে প্রচুর মতান্তর আছেন, কেউ বলেন জিউস, কেউ ইউরোপা ( Europa, ক্রীটের রানী) কেউ বলেছেন হেপাস্টাস এবং কেউ বলেন এফ্রোদিতি, কেউ হেরা। বহুল প্রচলিত মতটি হল, হারমোনি যেহেতু এরিস এবং অ্যাফ্রোদিতির প্রেমের প্রমাণ, সেইজন্য হেপাস্টাস তাঁর স্ত্রী এর উপর রাগ করেই এই নেকলেসটি উপহার দিয়েছিলেন। দুইখানি সাপ যেন একে অপরের লেজ খেয়ে ফেলছে এইরকমই দেখতে ছিল এই নেকলেসটি। এই নেকলেসটি ছিল অপয়া। যে এই নেকলেসটি ধারণ করেছেন তিনিই নানারকম দুর্ভোগে পড়েছেন। হারমোনির (আরেক নাম অবশ্য হারমায়নি, চেনা লাগছে?) আর ক্যাডমাস দুজনেই সাপ বা ড্রাগনে পরিণত হন পরে, তখন নেকলেসটি তাঁদের কন্যার হাতে এসে পড়ে। এরপরে বিভিন্ন হাত ঘুরে এই নেকলেস এসে পড়ে আকারনান (Acarnan) এঁর হাতে, তিনিও এর দুর্ভোগ কিছু ভোগার পর নেকলেসটি ডেলফির এথেনার মন্দিরে দান করে নিশ্চিন্ত হন। কিন্তু তারপরেই এথেনার মন্দিরে ডাকাতি হয়। ফ্যালাস (Phayllus) নামে এক স্বৈরাচারী মন্দির থেকে নেকলেসটি নিয়ে তাঁর প্রেমাস্পদাকে দেন। সেই প্রেমাস্পদা কয়েকদিন এই নেকলেসটি পরে ছিলেন। অবশেষে তাঁর কনিষ্ঠ সন্তানটি পাগল হয়ে যায় এবং বাড়িতে আগুনে লাগিয়ে দেয়, সেই আগুনে ওই নারী এবং তাঁর পরিবারের সকলেই নেকলেস এবং অন্যান্য সম্পত্তিশুদ্ধ পুড়ে ছাই হয়ে যান। 

এম্ফেট্রিট (Amphitrite) - জিউসের ভ্রাতা সমুদ্রের দেবতা পোসেইডনের স্ত্রী হলেন এম্ফেট্রিট। তিনিও সমুদ্রের দেবী। তিনি পঞ্চাশজন নার্নিয়াড বা সমুদ্রপরীদের সবথেকে বড় বোন এবং মাছ, ডলফিন এবং সীলমাছদের জননী। কথিত আছে পোসেইডন যখন তাঁকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, তিনি ভেবেছিলেন এই গুরুদায়িত্ব তাঁর পক্ষে পালন করা কঠিন হতে পারে, তাই তিনি পালিয়ে গিয়ে পৃথিবীর শেষপ্রান্তে এটলাসের কাছে গিয়ে লুকিয়ে ছিলেন। ডলফিনদের দেবতা ডেলফিন গিয়ে তাঁকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে রাজী করে ফেরত নিয়ে আসেন। গ্রীক সাহিত্যে এবং আঁকায় একে অল্পবয়সী নারী হিসাবে দেখানো হয়েছে। কখনো কখনো তিনি হাতে মাছ ধরে আছেন। হিপ্পোকম্পোই বা সমুদ্রঘোড়া যাদের লেজ মাছের মতো তাঁদের টানা রথে চেপে তিনি পোসেইডনের সাথে ভ্রমণ করেন। 
ট্রাইটন (Triton) - পোসেইডন এবং এম্ফেট্রিট অর্থাৎ সমুদ্রের দেবতা এবং দেবীর সন্তান হলেন ট্রাইটন। একজন মারম্যানের মতো দেখতে তাঁকে, অর্থাৎ তাঁর উর্ধাঙ্গ মানুষের মতো হলেও অর্ধাঙ্গ মাছের মতো। আমরা যাকে মৎস্যকন্যা বলি তারই পুরুষরূপ আর কি। তাঁর কাঁধের উপর সমুদ্রঝিনুক থাকে অনেক। পোসেইডনের মতো তাঁরও একটা ত্রিশূল আছে। আর আছে এক বিরাট শঙ্খ। সেই শঙ্খ দিয়ে তিনি সমুদ্রের উত্তাল ঢেউগুলিকে শান্ত করেন, বা দরকারে শান্ত সমুদ্রে উত্তাল ঢেউয়ের সৃষ্টি করেন। এছাড়াও শঙ্খটিকে তিনি যখন অত্যন্ত জোরে বাজান তখন নাকি দৈত্যরাও আওয়াজে ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়। 

অলিম্পাসের প্রধান বারো ছাড়াও এই দেবদেবীরাও প্রচুর গল্পে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন। 



মিথকথনের প্রথম পর্ব এখানেই শেষ হলো।

0 comments: