0

প্রবন্ধ - অম্লান রায় চৌধুরী

Posted in







যে জাতির তরুণ তরুণীর মেজরিটি অংশ পলিটিকাল ভিউতে লেখে—

"I hate politics" / "No interest" /"Firmly apolitical" /"Politics is dirty"

এসব শুনে মনে হয় বলি, হতভাগারা পলিটিক্সটাও বোঝে না। আরে পৃথিবীর সব চাইতে সহজ হলো রাজনীতি। সমাজ মানেই রাজনীতি।

তবে রাজনীতির প্রতি উদাসীনতার কথা ইদানীং খুব শোনা যায়। এর একাধিক চলিত কারণও আছে, যেমন, নেতারা সৎ নয়, গণপ্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্রমাগত ব্যর্থতা। জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গিকারসমূহ বারবার ভঙ্গ করা। ইত্যাদি নানান রকমের। এগুলোকে বড়ই ক্লীশে লাগে আজকাল ।

কারণ যে সমাজে বড় হওয়া, সেখানে খুব ছোট বেলা থেকেই দেখে আসা নানা প্রকারের অসাম্য, ক্ষমতার কেন্দ্রীভুত অবস্থা - পয়সা বেশী যার, তার হাতেই ক্ষমতার চাবিকাঠি ।

হ্যাঁ মেধা বা স্কীল জায়গা পায় ঠিকই – তবে প্রাধান্য সেভাবে আসে কী? এসব সকলেরই দেখা। এই অসম দিকগুলো সারা জীবন মেনে নেওয়াটা কষ্টকর, মানলে নিজেকে কেমন যেন হীন বলে মনে হয়- ব্যাক্তিত্ত্বহীন বলে মনে হয়- ক্ষমতা, দীক্ষা, শিক্ষাকে কেমন যেন অকেজো বলে মনে হয় ।

এই প্রশ্ন জাগাটাকেই বলে সমাজ সচেতনতা । যেটা সমাজবদ্ধ মানুষ মাত্রেরই থাকে । আমরা সমাজবদ্ধ, তবে এই প্রশ্ন মনে আসবেনা কেন । এর কথা ভাবা, একে নিয়ে না চলার বার্তা দেওয়া, অন্যকে বলা, সমাধান চাওয়া – সবটাই এক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া – অর্থাত রাজনীতি এই নিয়েই চলে – আলাদা কিছু নয় ।

বাবা মার মতানৈক্য, বাবা জ্যঠার মতানৈক্য, সুষ্ঠু সমাধান আলোচনার মাধ্যমে – সবাইকে সন্তুষ্ট করে, কাউকে ডিপ্রাইভ না করে – এটাই তো রাজনীতি । এটা তো চলছে আমাদের জীবনে । আমরা রাজনীতির বাইরে কোথায় । এর থেকেই উঠবে অসন্তুষ্টি, হবে প্রতিবাদ, আবার হবে আলোচনা- মীমাংসা – বলতেই পারি এ এক রাজনৈতিক প্রসেস।

এগুলো আমাদের দৈনন্দিন ঘটনা । আমরা প্রতিদিন এরকম কত সমস্যা সমাধান করি । কখনও আলোচনার মাধ্যমে, কখনও দাবিয়ে দেওয়ার ভঙ্গিতে, সবই রাজনৈতিক প্রসেস।

এটা বুঝতে হবে, উদাসীনতা মনে করার জায়গাই নেই – কেননা আমার সমাজ আমাকে জড়িয়ে নিয়েছে রাজনীতির নানান রসে। আমি বুঝি বা না বুঝি প্রতিনিয়তই আমি রাজনীতির বেড়াজালে জড়িয়ে চলেছি । এখানে বোঝা দরকার যে শুধু ঝান্ডা নিয়ে মিছিল মানেই রাজনীতি নয় বা রাজনীতির প্রতি আগ্রহ দেখান নয়, এর নানান অঙ্গ আছে – সমাজ সেটা বাতলে দেয় প্রতিনিয়ত। উপায় নেই এড়িয়ে যাবার – আসামাজিক মানুষ ছাড়া ।

নিয়ম মাফিক ঠেকে এসেই ভুতো দা’রও ঐ এক বিশাল আওয়াজ রাজনীতির কলকব্জা নিয়ে – অসীমকে চা দিতে বলেই শুরু করল রোজকার কীর্তন । তবে আজকে যেন বেশ প্রাণোচ্ছল , কথা বলতে ভাবতে হচ্ছেনা – রাজনীতির কথা যেন অবলীলায় বেড়িয়ে আসছে।

এসব দেখে , সন্তু বল্ল, আরে ভুতো দা , তুমি হঠাত রাজনীতির ব্যাপারটা নিয়ে পড়লে কেন ? তুমি তো সেই কবে থেকেই এই নাগপাশ থেকে মুক্ত ।

ভুতো দা বলে উঠল , আরে মুক্ত কীরে , আমি তো আরও জড়িয়ে ফেলেছি নিজেকে । বুঝিনি এভাবেও থাকা যায় । ভেবেছিলাম জীবনে কিছু লেখা পড়া করেছি , নিজের ক্ষমতায় চাকরী করেছি , সারা বিশ্বে ঘুরেছি নিজের নিজের এলেমে । এখন যে কাজগুলো করি সেখানেও নিজেরই ক্ষমতার প্রদর্শন ।

নির্ভরশীলতা কোথাও নেই , রাজনীতির বেড়াজালে আটকাবো কেন ।

হলো না রে , কিছুতেই পারলামনা। নিজের বিবেকটা বেশ বাঁধা পড়ে গেলো ।

বুঝলাম সদিচ্ছার পাল্লাটা বেশ ভারী হয়ে উঠেছে জীবনে। তারই ফলশ্রুতি এখনও তাদের কথাই মনে পড়ে , তাদের কথাই লিখি , তাদের সমস্যার সমাধানই খুঁজি , যারা বঞ্চিত ছিলো , এবং সত্যি বলতে কী এখনও আছে ।

খোকন বলে উঠল, আচ্ছা ভুতো দা তুমি তো মার্কা মারা রাজনীতিবিদ নয় - ঐ যেমন নটবর দা, স্বপন দা, যাদের পরিচিতিই রাজনীতির জলসাঘরে, তাদের চলন বলন কোনো কিছুর মধ্যেই তাদের নিজস্বতা খুঁজে পাওয়া যায়না, রাজনীতির রঙ্গীন আলোতে ঝলমল করছে । এই তফাতটা কেন ।

ভুতোদা, আর একটা চায়ের অর্ডার দিয়ে বলল, দেখ, রাজনৈতিক স্থানাঙ্ক,সামাজিক স্থানাঙ্ক আর ধর্মীয় স্থানাঙ্ক ছাড়া নিজের উপস্থিতির সঠিক বিচার কী হয় আমাদের এই সমাজ ব্যবস্থায় ।

ভুতো দা বুঝল স্থানাঙ্কটা বোধ হয় একটু কঠিন হয়ে গেল, তাই সহজ করে বলল, এই ধর, যদি বলি নিজের স্থানের উপর জোড়, দুপা দিয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা, সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা বা ইচ্ছা, এই সবই হলো গিয়ে নিজস্বতা, এগুলো হলেই নিজেকে অন্য কারুর কাজে লাগান যায় । না হলেই বিপদ, সব কিছুকেই মানতে হবে বলে মনে হবে, সব নীতিই আদর্শ নীতি মনে হবে, কারণ নিজের কাছে নিজের কিছু দেখে শেখার বা জেনে শেখার অবসর হয়নি – ফলে ভালো মন্দর তফাতটাই উঠে আসেনি ।

কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ওগুলো যে খাটেনা, তাই তো ভাবনা, কেন এ ভাবে জড়িয়ে পড়লাম ।

যত দোষ আমার শিক্ষার, তার থেকেও বেশী আমার দীক্ষার–সাথে অবশ্যই আমার বেড়ে ওঠার অঙ্গনটা – যেটা আমাকে এই অবস্থায় আনতে খুব সাহায্য করেছে । এরপরে আমার আচরণে যদি কিছু গলদ দেখিস, বুঝবি নিজের ইচ্ছাতেই, অথবা, কাউকে বোঝাতে, কিংবা বড় কিছু ভালোর উদ্যোগে । সবশেষে অবশ্যই থাকবে নিজের ফায়দার জন্য করা।

এটাই হলো গিয়ে তফাত । কিছু বোঝা গেলো কী । নাকি আরও ভেঙ্গে বলবো ।

জানিস, আমি পারতাম নিজেকে নিউট্রাল প্রমাণ করতে – যা এখন একটা স্টাইলে পরিণত হয়েছে । প্রায়ই বলতে শোনা যায়, আমি কোনও দলীয় রাজনীতি করিনা, তবে আমি চাই দেশের মানুষের ভালো হোক ।

এই ধরণের পলিটিকাল কারেক্টনেস ধরে রাখা, অন্যায়কে অন্যায় না বলতে পারা, নিজের অধিকার ভূলুন্ঠিত হবার সময়ে চুপ থাকা, ব্যাংকগুলা লুটপাট করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবার সময়ে না দেখার ভান করা, ধর্মের নামে বিভেদকে প্রকারান্তরে সমর্থন করা – সবই ঐ নিউট্রালেরই নমুনা।

আসলে প্রতিটা নিউট্রাল ব্যাক্তিই এক একটি দলের প্রতিভূ, পরোক্ষ ভাবে ।

কিছু করা যেমন প্রত্যক্ষ সাপোর্ট, তেমনিই কিছু না করাও। যেখানে কিছু করার প্রয়োজনীয়তা আছে, এক ধরণের পরোক্ষ সাপোর্ট – শাসকের কাছে থাকা । বিপ্লবের আঙ্গিনায় এদেরকেই প্রতিবিপ্লবী বলা হয় ।

এর সাথে সাথে এটাও বলা যায় যে প্রিভিলেজড ছাড়া আর কেউ নিউট্রাল হতে পারেনা ।

জানি প্রশ্ন করবি, কেমন ভাবে একটু দেখাই তোদের। ঐ সেই অমল বাবুর কথা দিয়েই শুরু করি । সেই লোকটা সারা জীবন একই অফিসে কাটিয়ে গেলো । বদলীর চাকরী কিন্তু বদলী হলোনা । ফলে মৌরসীপাট্টা, প্রচুর উপরি আয়ের ব্যবস্থা – সব বেশ পাকাপাকি বন্দোব্যস্ত । দায়িত্ব তার বাড়ল ঠিকই, অফিসের রাজনীতিটাকে সামলানোর দায়িত্ব আর নেতা মন্ত্রীদের নিজেদের পাওয়া সুযোগ সুবিধার বেশ কিছু অংশ ভাগ বটোয়ারাকে নিশ্চিত করা । মোটামুটি একটা স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে ।

লোকের কাছে, পাড়ায়, আত্মীয় স্বজনের কাছে সে একটি নিউট্রাল ছেলে, যার কোনও রাজনৈতিক পরিচিতি নেই, সবাই মানল, কারণ সে মিছিলে যায়না, সভা সমিতিতে উপস্থিত থাকতে হয়না, নিদেন পক্ষে পাড়ার কোনো সামাজিক সমস্যাকেও এড়িয়ে চলে – ভেড়েনা – এই যে প্রিভিলেজড মানুষটি, এরাই তো নিউট্রালের আসল ভাগীদার ।

এটা জানা । দেখা – ঘুরে বেড়াচ্ছে পাড়ায় পাড়ায় ।

খোকন বুঝে বলল, ভুতোদা তুমি একটা ব্যাপার বাদ দিয়ে গেছো ।

কোন ব্যাপার টা – ভুতো দা বলল,

আরে সেই ব্যাপার গুলো যে গুলো পাড়ার বেকার ছেলেগুলোকে আয়ের ব্যবস্থা করে দেয়, বিনিময়ে যা নয় তাই করিয়ে নেয় । শাসক সমর্থক বলে, ঝান্ডা তোলে, মিছিলে লোক জড়ো করে --একটা আলাদা শ্রেণী ।

বেশ কিছু মানুষ ঐ সিভিক ভলান্টিয়ারদের মতন দিন গুজরান করে এই ভাবেই ।

একটা বিষয়ে অবশ্য এখানে নিশ্চিন্ততা আছে সেটা হলো, প্রতিবাদহীন এক ব্যবস্থা, যেখানে কিছু মানুষের কাছ থেকে প্রতিবাদ উঠে আসেনা, নিশ্চিন্ত, প্রতিরোধহীন এক ব্যবস্থা, যেটা সব শাসকদেরই কাম্য ।

ভুতো দা এবারে ঘুরে বসলো, অসীমকে বলল একটা ডিমের অমলেট দেতো, সাথে চাও দিস ।

বেশ গুছিয়ে বসল । অনেক্ষুণ থাকার একটা ব্যবস্থা হলো বলে মনে হচ্ছে ।

শুরু করল, খোকন শোন তোর বলার প্রতিটা শব্দের সাথে আমি সহমত । কিন্তু আমার প্রশ্নটা হচ্ছে যে এই যে শাসকদের আচরণ, যেটা কে আমরা প্রায় চিনেই ফেলেছি কিন্তু পাশ কাটিয়ে বেড়িয়ে যেতে পারছিনা বা প্রলোভন এড়াতে পারছিনা কেন?

কারণগুলো বেশ সহজ । আসলে আমাদের দেশে চাহিদা প্রচুর, কিন্তু যোগানের অভাব প্রায় সব ক্ষেত্রেই । বাজারে চাহিদা বেশী, তাই দাম উর্ধমুখী । বাজারে চাকরীর চাহিদা বেশী, যোগানের অভাব, তাই এত দামী, দেখা পাওয়া দুস্কর।

এরকম একটা অবস্থাতে শাসকের কাছে মানুষকে আঁকরে রাখার মন্ত্রটা হতে হবে বেশ জনমোহিনী গোছের।

সেটা একমাত্র সম্ভব কিছু দলদাস তৈরি করা, অল্প অল্প করে টাকার যোগান দিয়ে একটা ক্যাডারকুল তৈরি করা-- যাদের কাছে সেই টাকাটাই বেশী কারণ এর বেশী পাওয়ার অউকাত তাদের নেই ।

এই ব্যবস্থাতেই আমরা অভ্যস্ত এখন । দেখছিও তাই ।

বর্তমানে দেশের মানুষের মধ্যে মধ্য মেধারই চলন বেশী । কাজেই তাদের যেটকু মেধা আছে সেগুলোকে সাময়িক ভাবে বন্ধ করার রাস্তাটাই শাসকের কাম্য। করছেও তাই ।

এছাড়া যে মানুষ গুলো কোনও সুবিধাও নেয়নি, আবার অবস্থাটাকে মানতেও পারছেনা, কিন্তু সরাসরি কিছু বলতেও পারছেনা, শারীরিক ভয় এবং অসম্মানের ভয় – দুটোই তাড়া করে বেড়াচ্ছে । তাদের কাছে জীবনটা বড়ই অসহায় অবস্থায় আছে। একটা বুদ্বুদের মধ্যে থাকা যেন— সমসময়ের ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে চুপ করে, কোনও যোগদান না করে থাকা। এ ভাবে থাকতে থাকতে তাদের মননের স্পর্শকাতরতা, অনুভবের ক্ষমতা কমে যায়, তখন আর মনে কোনও প্রভাব পড়ে না পারিপার্শ্বিকের।

দক্ষিণ আফ্রিকার বৈষম্যমূলক সমাজ প্রসঙ্গে প্রথম এই গবেষণা করেন জোসেফ ওলফে। এই ভাবে ছোঁয়া বাঁচিয়ে থাকতে ভারী আরাম— বালিতে মুখ গুঁজে থাকা উটপাখির মতোই।

শাসকের উদ্দেশ্যই কেবল মন থেকে রাজনীতির বোধ মুছে দেওয়া-- বস্তুত, সে বোধ কখনও তৈরিই হতে না দিয়ে— শেখানো, দিতে থাকা ঘৃণার সহজ পাঠ।

বিদ্বেষের বর্ণপরিচয়। শাসক যখন অভিভাবক হিসাবে, শিক্ষক হিসাবে, গুরুজন হিসাবে ক্রমাগত শিখিয়ে যায় ভাল-মন্দ নিয়ে মাথা ঘামিয়ে সময় নষ্ট না করে আত্মকেন্দ্রিক হওয়ার মন্ত্র।

এখন বুঝি, উদাসীন বালি ঢাকবে না পদরেখা।

শাসকের কাছে দুটোই মন্ত্র, আবার আসিব ফিরে এই জলসায়, কী ভাবে সেটাই বিবেচ্য। যাদের দাপট প্রতিষ্ঠিত তারা পড়োয়া করেনা কোনও কিছুকেই, তাদের ঐ ক্যাডার তৈরি করারও তেমন ভাবে প্রয়োজন হয়না । আর যারা খুব বেশী নিশ্চিত নয়, তাদের কাছে উপরের সমস্ত পথগুলোই কাম্য।

কাজেই বিরোধীতার যে রুপ, যে আবহ দরকার, মানুষের রাজনৈতিক বোধ যে কতটা জরুরী, সেটার উপলব্ধ হয় যখন পাশের বাড়ির খোকন দা কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হয়, যে কি না স্কুলের গন্ডীও পার হয়নি । দেখতে হয় এ সমস্ত, সইতে হয় এসব । তখনও কী মুখ গুঁজে রাখব বালীতে ।

কাজেই এই ধ্বংসের দায়ভাগে আমরা সবাই সমান অংশীদার যদি না এখনও নিজেদেরকে একটু দেখি – সমাজ নিয়ে একটু না ভাবি ।

অন্য পন্থায় বলতে হয় ,রাজনীতিটা বোঝো , অ্যাদ্দিন গায়ে আঁচড়টি লাগেনি, সরকারি হাসপাতালে যেতে হয়নি বলে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে কবিতা লিখেছো ফুল- পাখি- লতা- পাতা নিয়ে, স্বার্থপর ।

তোমাকে গড অলমাইটি মেধা দিয়েছে মানুষের অধিকার নিয়ে দু’চার লাইন হলেও লিখতে। তুমি লিখেছ বলদা মার্কা উপন্যাস...

রাজনীতি টা ঠিকঠাক বুঝতে পারলে, হাসপাতালের আইসিইউ বেডও পেতে, অক্সিজেনও পেতে।

এখনো সময় আছে। পড়াশোনা করো। রাজনীতি বোঝ। অর্থনীতি বোঝ। পুরুত-ইমাম-জ্যোতিষ দিয়ে দেশ চলেনা । দেশ চলে রাজনৈতিক সিস্টেমে।

ভেন্টিলেটর বা অক্সিজেন , সব ব্যবস্থাও রাজনৈতিক সিস্টেমই করে। বাস্তবটা হলো ডাক্তার তোমাকে অক্সিজেন যোগাতে পারেনা। হাসপাতালে বেড দিতে পারেনা। কেবলমাত্র রাজনীতিই এটা ইচ্ছে করলে পারে বা ইচ্ছে করেই করে না!

বুঝতে শেখো তোমার জীবন রাজনীতি আর রাজনীতিবিদদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত । রাজনীতিই ঠিক করে দেয় যে তুমি সরকারি হাসপাতালেই জীবনের নিশ্চয়তা পাবে , নাকি নিশ্চয়তার স্বপ্ন দেখানো বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে, পরিবারকে অসহায় করে দিয়ে চিরঘুমে যাবার পথ প্রশস্ত করবে। তাদেরকে প্রশ্ন করো, তোমার অক্সিজেন নেই কেন? হাসপাতালের বেড নেই কেন?

ফলে প্রশ্ন তোলার সাহস কর ।

না হলে রাজা তুমি ল্যাংটা বলতেও দ্বিধা করোনা ।

0 comments: