সম্পাদকীয়
Posted in সম্পাদকীয়
এই মাসটি বাঙালির জীবনে অতি গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬১ সালে, এই মে মাসের ১৯ তারিখে আসামের বরাক উপত্যকায় 'বাংলা ভাষা আন্দোলনে'র শহীদ হয়েছিলেন এগারোজন বাঙালি আর তার ঠিক একশ বছর আগে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন এমন একজন যুগপুরুষ, যিনি পরবর্তীকালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অবিসংবাদী সম্রাটরূপে প্রতিষ্ঠা পাওয়া ছাড়াও তাঁর সমগ্র বেঁচে থাকা জুড়ে লড়াই করেছিলেন বাঙালির জাতিসত্তার দীপটি সদা-প্রজ্জ্বলিত রাখার জন্য।
পৃথিবীর ইতিহাসে এমন তুলনা বিরল নয়, যেখানে একজন সাহিত্যিক শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠেন সাংস্কৃতিক পথদ্রষ্টা। রবীন্দ্রনাথের পরিসরটি সম্ভবত অনন্য এবং তাঁর যাত্রাপথে তিনি প্রায় একাকী। সাহিত্যকৃতির ক্ষেত্রে তাঁর নিজস্ব রাজসিংহাসন থেকে তিনি নেমে এসেছেন বারংবার। কোনও কিছুর বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করেই আর এই কারণেই বাঙালির সবচেয়ে ভালোবাসার পাত্র মনে হয় তিনিই। আজও।
১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন প্রনয়ণ করেন বঙ্গভঙ্গ নীতি। প্রশাসনিক সুবিধার মোড়কে আসলে তিনি যা করতে চেয়েছিলেন, তা হল ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক বিভাজন। রবীন্দ্রনাথ এর তীব্র বিরোধিতা করে পথে নামেন। যে দিনটি থেকে এই বিশেষ আইন কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, সেই ১৬ অক্টোবর সারা বাংলা জুড়ে তিনি ডাক দেন অরন্ধনের। উদ্যাপন করেন 'রাখিবন্ধন' উৎসবের। হিন্দু এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরকে রাখি পরিয়ে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সৌহার্দ্যের বার্তা। শেষ পর্যন্ত এই আন্দোলন এমন এক গণ প্রতিরোধের চেহারা নেয় যে ১৯১১ সালে তৎকালীন ভারত সরকার এই সম্পূর্ণ অনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।
এই বিশেষ সময়টিতে যখন তাঁর ১৬৫ তম জন্মদিনটি নানারূপে পালিত হয়ে চলেছে মাসব্যাপী, ঠিক একই মুহূর্তে বাংলা এবং বাঙালি জাতিসত্তা একাধিক কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি।
আবারও কি আমরা তাঁর সামনে নতজানু হয়ে বসব, তাঁর অঙ্গুলি কোন ভবিষ্যত নির্দেশ করে দেখার জন্য?
সুস্থ থাকুন। সচেতন থাকুন।
শুভেচ্ছা নিরন্তর।



0 comments: