গল্প - মনোজ কর
Posted in গল্প১৭ পর্ব
বিকালবেলায় সুন্দরী এসে খবর দিল যে ছোটকালী এসেছে দেখা করতে। পানু রায় জিজ্ঞাসা করলেন,’ রেগে আছে দেখলে?’
-রেগে আছে বৈকি। রাগে ফুঁসছে। মনে হচ্ছে একটা কিছু ঘটাবে।
-তাহলে আর দেরি না করে ওনাকে ভেতরে নিয়ে এস।
-জগাইকে বলি কিছু লোকজন নিয়ে কাছাকাছি অপেক্ষা করতে?
-না,না, ওসব কিছু দরকার নেই।
-দাদু, ছোটকালী কিন্তু বেশ ষন্ডামার্কা। গায়ে খুব জোর। তোমার বয়সের কথা মাথায় রেখো। যদি হাত চালিয়ে দেয় বিপদ হয়ে যাবে।
-সেটা ঠিক কিন্তু ও যদি দেখে আমি লোকজন জড়ো করছি তাহলে ভাববে আমি ভয় পেয়েছি। সেটা একদম ভালো হবে না। মুখোমুখি হলে অত রাগ থাকবে না। আমি আশা করি ওকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলতে পারব। অত ভয় করার কিছু নেই। দেখাই যাক না কী হয়। ওকে পাঠিয়ে দাও।
-ঠিক আছে। তুমি যখন বলছো আমি পাঠাচ্ছি কিন্তু ব্যাপারটা আমার মোটেই ভালো লাগছেনা।
কিছুক্ষণ পরে দড়াম করে দরজা খুলে ছোটকালী ঢুকল। মুখে চোখে রাগ ফেটে বেরোচ্ছে। পানু রায়ের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলল,’ আপনি এসব কী করছেন, মিঃ রায়?’
পানু রায় বললেন,’ আগে একটু বসুন শান্ত হয়ে। আমাকে বলুন আমার প্রতি আপনার এই রাগের কারণ কী? ‘
-আমি জানতে চাই আপনি এই সব খুনখারাপির মধ্যে আমার স্ত্রীকে কেন টেনে আনার চেষ্টা করছেন?
-আমি জানিনা আপনি একথা আমাকে কেন বলছেন? আমি বুঝতে পারছিনা আমি কী ভাবে আপনার স্ত্রীকে এই ব্যাপারে টেনে আনলাম।
-দুনিয়াশুদ্ধু লোক জানে আপনি এসব করেছেন শুধু আপনি নিজেই জানেননা।
-কিন্তু আগে বলুন আমি কী করেছি?
-আপনি ওকে শিবুলাল হত্যার মূল আসামি বলে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন।
-কিন্তু কী ভাবে?
-আপনি আমাকে রেবার কাছে বন্দুক নিয়ে যেতে বলেছিলেন। এই ব্যাপারে আমার জড়িয়ে পড়ার জন্য আপনিই দায়ী। আপনি যদি আমাকে এর সন্তোষজনক কোনও ব্যাখ্যা না দিতে পারেন তাহলে আমি আপনাকে ছাড়বোনা। মেরে চোয়াল ভেঙে দেব তারপরে এখান থেকে যাবো।
- তাতে আপনার কি কোনও লাভ হবে?
-অন্তত আমার মনের জ্বালা মিটবে।
-এমনও হতে পারে যে আপনি ফেরার সময় ভাঙা চোয়াল নিয়ে ফিরলেন। যাই হোক আমি বলতে চাইছি তাতে আপনার বা আপনার স্ত্রীর কোনও লাভ হবেনা। উল্টে কালকের কাগজের জন্য আপনি একটা গল্প তৈরি করবেন। আমার এবং আপনার এই মারপিটের খবর বাজারে ভালোই কাটবে।
-গল্পতো আপনি তৈরি করেই দিয়েছেন। গল্পের আর কী বাকি আছে?
-না, কোনও গল্প তৈরি হয়নি। কোনও গল্প তৈরি হবেনা যদিনা আপনি বোকার মত ওদের গল্পের জন্য কিছু মশলা ইতিমধ্যেই দিয়ে থাকেন। এখন চুপ করে বসুন এবং আমাকে বলুন কী হয়েছে। আর তা না হলে আপনি এখন আসতে পারেন। আমি ব্যাপারটা বুঝে নেব।
ছোটকালী পানু রায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে টেবিলের দিকে এগিয়ে গিয়ে কিছুটা বাঁদিকে সরে ধারে গিয়ে টেবিলের ওপর ভর দিয়ে আধবসা হয়ে বললো,’ হেনা কাঠমান্ডুতে কাজ করতো এবং শিবুলাল ওকে চিনতো।‘
-ধরে নিতে পারি হেনা আপনার স্ত্রীর নাম।
-হ্যাঁ। হেনা পান্ডে আমার স্ত্রীর নাম। হেনা যে ক্যাসিনোতে কাজ করতো সেখানে শিবুলালের যাতায়াত ছিল। ঐ ধরণের কাজে মেয়েদের সবাই অন্যভাবে দেখে। হেনার কোনও সত্যিকারের বন্ধু ছিলনা। সবাই আসত, আলাপ করত কিন্তু স্বার্থসিদ্ধি না হলে চলে যেত। শিবুলাল ছিল স্থানীয় লোক ওর বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার হেনার ভালো লেগেছিল।
-এবং ওরা মাঝে মধ্যে কাজের বাইরে মেলামেশা করতো?
-হ্যাঁ। ওরা প্রায়ই নিজেদের মধ্যে দেখা করতো।
-হেনা জানতো যে শিবুলাল এখানে এসেছিল?
-কাগজে আমাদের বিয়ের খবরটা ছাপার পর শিবুলাল ওকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছিল।
-তাতে অন্যায়ের কিছু নেই।
-আলবত আছে। শিবুলালের অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাসি চালানোর সময় পুলিশ একটা নোটবুকের সন্ধান পায় যাতে হেনার ফোন নম্বর লেখা ছিল। আর হেনার ফোনের ডিরেক্টরিতে পুলিশ শিবুলালের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর পায়।
-আর কিছু বলবেন?
-সেদিন রাত্রে যেদিন শিবুলাল খুন হয় আমি ব্যবসার কাজে একজন ডিলারের কাছে যাই। ঐ ডিলারের গোটা কুড়ি গাড়ি বিক্রি হচ্ছিল না। বিক্রি না হলে নতুন মাল তুলতে পারবে না। আমি ভাবলাম এটা একটা ভালো সুযোগ। কমদামে যদি কিছু গাড়ি পাওয়া যায় তাহলে ভালোই হয়।
-আপনি ঐ ডিলারকে আগে জানিয়েছিলেন যে আপনি যাবেন?
-হ্যাঁ, আমি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েই গিয়েছিলাম।
-কটার সময় ছিল অ্যাপয়ন্টমেন্ট?
-ঐ নিয়ে চিন্তা করবেন না। আমি সেই সময় কোথায় ছিলাম তার প্রতিটি মিনিটের হিসাব এবং প্রমাণ আমি দিতে পারি।
-আপনি কি সঙ্গে করে বন্দুক নিয়ে গিয়েছিলেন?
-না, আমি বন্দুক টেবিলের ড্রয়ারে রেখে গিয়েছিলাম।
-আপনার স্ত্রী তখন কোথায় ছিলেন?
-কোথায় আবার থাকবে? বাড়িতেই ছিল। আমার জন্যই অপেক্ষা করছিল। আমার ওপর একটু রেগে ছিল কারণ হনিমুনের সময় ওকে রেখে আমি ব্যবসার কাজে বাইরে বেরিয়েছিলাম।
-আপনি যখন বাড়ি ফিরলেন তখন হেনাদেবী বাড়িতে ছিলেন?
-হ্যাঁ, অবশ্যই। থাকবে না তো কোথায় যাবে?
-আপনি ক’টার সময় ফিরেছিলেন?
-সাড়ে ন’টা-দশটা হবে।
- ততক্ষণ আপনার বন্দুকটা আপনার অফিসের ড্রয়ারেই ছিল?
- হ্যাঁ, ফিরে এসে আমি বন্দুকটা অফিস থেকে নিয়ে তারপর বাড়ি যাই।
-আপনার স্ত্রীর কাছে নিশ্চয়ই আপনার অফিসের চাবি ছিলনা?
-না, মানে হ্যাঁ ছিল। কিন্তু সেটা কোনওদিন হেনা ব্যবহার করেনি। মিঃ রায়, আমি বলছি হেনা সেই সময় বাড়ি ছিল।
-ঠিক আছে, ছিল।
-কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যে এটা হেনা প্রমাণ করতে পারবে না। হেনা একা বাড়িতে ছিল এবং আমি ছিলাম ডিলারের অফিসে। হেনার কাছে প্রমাণ করার কোনও রাস্তা নেই যে সে বাড়িতেই ছিল।
-হেনার প্রমাণ করার কোনও দরকার নেই। যদি অন্য কেউ বলতে চায় যে ঐ সময় হেনা বাড়ি ছিলনা তবে প্রমাণের দায়িত্ব তার।
-কিন্তু একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছিল।
-কী ঘটেছিল?
-আমি হেনাকে ফোন করার চেষ্টা করছিলাম কিন্তু ভুলবশত অন্য নাম্বার ডায়াল করায় হেনা ফোন ধরতে পারেনি।
-এ ব্যাপারে কাউকে কিছু বলার দরকার নেই।
-একটা ব্যবসাসংক্রান্ত ব্যাপারে আমি ঐ ডিলারের সঙ্গে কথা বলছিলাম এবং দেনা-পাওনা সংক্রান্ত কিছু তথ্য দেবার জন্য আমার ছোট নোটবুকটা পকেট থেকে বের করতে গিয়ে বুঝলাম ওটা আমি বাড়ির আলমারিতে ফেলে এসেছি।
-এবং আপনি আপনার স্ত্রীকে ফোন করলেন?
-ঠিক তাই
-কিন্তু ফোনটা বেজে গেল এবং কেউ ধরলো না। তাই তো?
-আমি সম্ভবত ভুল নাম্বার ডায়াল করেছিলাম।
-একবার ফোন করেই আপনি ছেড়ে দিলেন।
-না, আমি আবার ফোন করেছিলাম।
-দ্বিতীয়বারেও ফোন বেজে গেল।
-হ্যাঁ, দ্বিতীয়বারেও কেউ ধরলো না।
-দ্বিতীয় ফোনটা কতক্ষণ পরে করেছিলেন?
-পাঁচ-দশ মিনিট হবে। আমরা মাত্র দু’সপ্তাহ আগে ঐ অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছি। নাম্বারগুলো আমার লেখা হয়নি। আমি নিশ্চয়ই ভুল নাম্বার ডায়াল করেছিলাম। হেনা বাড়িতেই ছিল। হেনার সবচেয়ে বড় গুণ যে ও মিথ্যেকথা বলেনা। যা বলার সোজাসুজি বলে।
-যে ডিলারের সঙ্গে আপনি ছিলেন সে কি জানত যে আপনি ফোন করেছিলেন?
-সেটাই তো সমস্যা। ঐ ডিলারের পক্ষে বোঝা সম্ভব ছিলনা যে আমি ভুল নাম্বার ডায়াল করেছিলাম। আমি নিজেই জানতাম না যে আমি ভুল নাম্বার ডায়াল করছি।
-কিন্তু আপনি ফোন করেছিলেন এবং কোনও উত্তর পাননি?
-ঠিক
-কিন্তু আপনার সামনে যে বসেছিল সে বুঝেছিল যে আপনি ঠিক নাম্বারই ডায়াল করছিলেন কিন্তু কোনও উত্তর পাচ্ছিলেন না?
-ঠিক বলেছেন।
-কারণ আপনি আশা করছিলেন যে আপনার স্ত্রী বাড়িতেই আছেন তবুও ফোন ধরছেন না দেখে কিছু মন্তব্য করেছিলেন।
-হ্যাঁ, আমার মনে হয় আমি সেরকম কিছু বলেছিলাম।
-তখন সময় কত ছিল?
-ন’টা হবে খুব সম্ভবত।
-আপনি কটার সময় বাড়ির জন্য রওনা হলেন?
-আমার পক্ষে সেদিন সন্ধ্যেবেলা বাড়ি যাওয়া সম্ভব হয়নি। কাজের অসম্ভব চাপ ছিল। সেদিন ডিলারের কাছ থেকে ফেরার সময় একটা মাত্র স্যান্ডুইচ ছাড়া আর কিছু খাওয়া হয়নি। আমি ভেবেছিলাম তাড়াতাড়ি ফিরে হেনাকে নিয়ে ডিনারে যাব।
-কিন্তু আপনার ফিরতে অনেক দেরি হয়ে গেল?
-হ্যাঁ, খুব দেরি হয়ে গেল।
-একটা স্যান্ডুইচ ছাড়া আর কিছুই খাওয়া হলোনা?
-একেবারে ঠিক।
-আপনি আপনার স্ত্রীকে বললেন রেডি হয়ে বাইরে বেরোতে?
-হ্যাঁ, ওকে বললাম তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিতে।
-তারপর কী হলো?
-হেনা খুব রেগে গেল কারণ আমি কথা দিয়ে কথা রাখতে পারিনি এবং বিয়ের এই ক’দিনের মধ্যেই এত কাজের চাপ যে আমাকে রাত করে বাড়ি ফিরতে হলো। আমাদের মধ্যে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছিল।
-আপনার আর কিছু বলার আছে?
-না আমার এখন আর কিছু বলার নেই। শুধু একটা ব্যাপার আমার জানার আছে। সেটা হচ্ছে কেন আপনি আমার বন্দুক থেকে আমারই টেবিলে গুলি ছুঁড়ে একটা কেলেঙ্কারি ঘটালেন? এখন পুলিশ বলছে আমার বন্দুকটাই খুনী বন্দুক। এটা হাস্যকর এবং অসম্ভব! কিন্তু ওরা যদি এ ব্যাপারে হেনাকে জড়িয়ে দেয় এবং কাগজে হেনার নামে কিছু ছাপা হয় তখন কিন্তু আমি …
- এসব কিছুই হবেনা যদিনা আপনি কিছু উল্টোপাল্টা করেন। পুলিশ ভাবছে আমার কাছে খুনী বন্দুকটা ছিল। আমি সেটা নিয়ে আপনার অফিসে যাই। সেটা থেকে আপনার টেবিলে একটা গুলি ছুঁড়ি। তারপর গন্ডগোলের মধ্যে আমি আপনার বন্দুকের সঙ্গে আমার খুনী বন্দুকটা পাল্টে দিই। আমারটা আপনাকে দিয়ে দিই আর আপনারটা আমার কোটের পকেটে ঢুকিয়ে নিই।
-আপনি বলছেন পুলিশ একথা বলছে? কিন্তু কেন? তাহলে ওরা কেন বলছে যে হেনা অফিসে গিয়েছিল এবং সেখান থেকে বন্দুক নিয়ে শিবুলালের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে ওকে মেরেছে কারণ সে নাকি হেনাকে ব্ল্যাকমেল করছিল? আপনি কী করে জানলেন পুলিশ কী ভাবছে?
-ওরা এখানে এসেছিল। আমাকে শাসিয়ে গেছে যে প্রমাণলোপের চেষ্টার অভিযোগে ওরা আমাকে অ্যারেস্ট করবে।
ছোটকালী আস্তে আস্তে টেবিল থেকে একটু দূরে সরে গিয়ে খুব শান্ত গলায় বললো,’ এটা কেন আমার মাথায় আসেনি? এটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আমি যেন কিছুর গন্ধ পাচ্ছি মনে হচ্ছে। আপনি তো এতটা বোকা বা অসাবধাণী নন যে বিনা কারণে একটা বন্দুক থেকে গুলি ছুঁড়ে দেবেন।‘পানু রায় বললেন,’ যদি খুনী বন্দুকটা আমার কাছেই থাকত, যদি আমি আপনার কাছে গিয়ে আপনার বন্দুকটা আমাকে দিতে বলতাম, যদি আমি আপনার বন্দুক থেকে আপনার টেবিলে একটা গুলি ছুঁড়ে এমন একটা গন্ডগোলের সৃষ্টি করতাম যে সবার অজান্তে আপনার বন্দুকটার সঙ্গে আমার খুনী বন্দুকটা পাল্টে দিতাম…
-আপনি সেটাই করেছিলেন, মিঃ রায়।
-কোন বন্দুক থেকে গুলি ছুঁড়েছিলাম? আপনার বন্দুক থেকে না আমার কাছে যে খুনী বন্দুকটা ছিল সেটা থেকে?
-আমার বন্দুকটা থেকে।
-আপনি একেবারে নিশ্চিত যে আমি আপনার বন্দুকটা থেকেই গুলিটা ছুঁড়েছিলাম?
-একশোভাগ নিশ্চিত। আপনার প্রতিটি মুহূর্ত আমার মনে আছে। আপনি আমার হাত থেকে বন্দুকটা নিলেন। দু-তিনবার বন্দুকটাকে ওপর নীচ করে ব্যালান্স পরীক্ষা করলেন তারপর তৃতীয় বা চতুর্থবার বন্দুকটা টেবিলের দিকে নামিয়ে ট্রিগার টেনে দিলেন।
-যে বন্দুকটা আপনি আমার হাতে দিয়েছিলেন সেই বন্দুকটার কথাই বলছেন তো?
-হ্যাঁ, সেটাই। আপনি তারপর বন্দুক বদল করে দিয়েছিলেন। সবাই যখন ভয়ে এদিক ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছে আপনি তখন এই কাণ্ডটা ঘটিয়েছেন। এটা কী করলেন আপনি?
-পুলিশও সেটাই মনে করছে।
ছোটকালী একগাল হেসে বললো,’ যাক বাঁচা গেল। এখন কেসটা পুরো অন্যদিকে ঘুরে গেল। যদি এই ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে তাহলে ওরা কী ভাবে হেনাকে দোষী সাব্যস্ত করবে? মিঃ রায়, যুদ্ধ এবং ভালোবাসায় সবই সম্ভব। আমি কিন্তু বন্দুক বদলের তত্ত্বে পুলিশের সঙ্গে আছি।‘ পানু রায় হেসে বললেন,’ আপনার কেন মনে হয় আমি আপনাকে পুলিশের এই বন্দুক বদলের তত্ত্ব জানালাম?’ ছোটকালী বেশ কিছুক্ষণ ভেবে পানু রায়ের দিকে এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো,’ আপনি একজন সত্যিকারের ভদ্রলোক। একটু অপেক্ষা করুন। আমি ততক্ষণে হেনাকে সমস্ত ব্যাপারটা জানাই।‘ পানু রায়ের সঙ্গে করমর্দন করে চলে যাবার সময় দরজা থেকে হঠাৎ ফিরে এসে ছোটকালী বললো,’ আপনার যদি কোনও গাড়ি লাগে বলবেন। আপনার জন্য স্পেশাল ডিসকাউণ্ট থাকবে সবসময়।‘
-আমার এখন কোনও গাড়ির দরকার নেই।
-এখন না হলেও যখনই লাগবে তখনই আপনার জন্য সবচেয়ে কম দামে সবচেয়ে ভালো গাড়ি।
-এক সেকেন্ড, আপনি আমায় বলতে পারবেন কার কার কাছে আপনার অফিসের চাবি থাকে?
-একটা সাফাইওয়ালার কাছে থাকে। আমার স্ত্রী এবং আমার সেক্রেটারির কাছেও একটা করে থাকে।
-আপনার বাবার কাছে?
-হ্যাঁ, বাবার অফিসের একটা চাবি আমার কাছে আর আমার অফিসের একটা চাবি বাবার কাছে থাকে। কিন্তু আমাদের ব্যবহার করার দরকার পড়েনি কখনও।
-এমনিই জিজ্ঞাসা করছিলাম। জানা রইল।
-তাহলে এখন গাড়ি কিনছেন না। ঠিক আছে যখন কিনবেন অবশ্যই বলবেন।
ছোটকালী অফিস থেকে বেরিয়ে গেল। সুন্দরী একগাল হেসে পানু রায়কে বললো,’ দাদু, তুমি পারও বটে। লোকটার সব রাগ গলে জল হয়ে গেল।
পানু রায় সুন্দরীর কথার উত্তর না দিয়ে বললেন,’ জগাই কে ডাক। হেনা পান্ডের সমস্ত খবর আমার চাই। ওকে বলো কাঠমান্ডুর সমস্ত পরিচিত লোককে কাজে লাগাতে। সময় খুব কম।



0 comments: