0

প্রচ্ছদ নিবন্ধ - সব্যসাচী মজুমদার

Posted in







আমরা নিশ্চিত ছিলাম এ আই, চ্যাট জিপিটি, হোয়াটসঅ্যাপ, ঘিবলি ইত্যাদি দেখে আমাদের ধারণা হয়েছিল এ আই অন্তত মানুষের শিল্পের ওপর ইতর বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারবে না। বিশেষত আমরা পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা আর‌ও নিশ্চিত ছিলাম যেই, এই প্রান্তিক ভাষার দিকে কতটাই বা আগ্রহ দেখাবে এ আই ! অন্তত যা নমুনা দেখছিলাম আমরা চতুর্দিকে। তাতে, আমাদের ধারণা দৃঢ় বদ্ধ হচ্ছিল যে, এ আই নিখুঁত হতে চায় বলেই সে শিল্পিত নয়। কিন্তু, আমাদের ধারণা ছিল না যে, এ আই বিবিধ রূপেই আমাদের চতুর্মাত্রিক পৃথিবীকে ঘিরে ধরছে। 

আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের ফোনে বা অনলাইন সংক্রান্ত যা কিছু করে চলেছি , বস্তুত এ আইয়ের নজরদারিতে। আর নজরদারিটা এমন‌ই যে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ, আমাদের প্রতিটি কথা ও চিন্তা পরিণত হচ্ছে প্রাইম নম্বরের বিবিধ অ্যালগোরিদমে। ব্যাখ্যাত হচ্ছে, আবিস্কৃত হচ্ছে এবং তথ্য হিসেবে ধরা থাকছে এ আইয়ের বিশাল পরিসরে। কেবল ধরাই থাকছে না, ব্যবহৃত হচ্ছে আমাদের পূনর্নির্মাণের প্রকল্পে অথবা আমাদের‌ই বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে। কিরকম অস্ত্র! সেই অস্ত্রের স্বরূপ বোঝা যাবে যদি আমরা কবিতার দিকে তাকাই। 

কবিতা সবসময় প্রযুক্তির সঙ্গে দ্বিরালাপ করেছে। প্রযুক্তি মানুষের জীবনযাপনে যখনই অবকাশ, নিশ্চিন্ত অবকাশ তৈরি করেছে, মানুষ উদ্ভাবক হয়ে উঠেছে। উদ্ভাবনায় যোগ করেছে বিবিধ মাত্রা। এতো সরলীকরণ। কিন্তু, আমরা অস্বীকার করতে পারি না, যে, বিজ্ঞান কিংবা প্রযুক্তিগত জ্ঞান মানুষের যাপন ও যাপন সংক্রান্ত মনস্তত্ত্বকে নিয়ন্ত্রণ ও প্ররোচিত করেছে। এবং এই প্ররোচনার অন্যতম উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে আমরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে যদি সাব্যস্ত করি, তবে দেখব দৃষ্টি ভঙ্গির মাত্রা বদলের জন্য‌ও এই বৈজ্ঞানিক দর্শন কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে তা আমরা তো বুঝতে পারি জীবনানন্দের কবিতা অনুসরণ করলে। 

আমরা যখন তাঁর সুররিয়ালিজমের ওপর আলো ফেলি, দেখি, উদ্ভট - অতিলৌকিক অনতিক্রম্য জগৎ অতিক্রম করে খুব বেশি করে প্রতিভাত হয় ডারুইনের জগৎ। পশু সেখানে মনুষ্যেতর নয়, মানুষেরই সমান্তরাল একটি সত্তা, একটি সমান্তরাল জগতের অধিবাসী হিসেবে উপস্থাপিত হয় ( এ বিষয়ে 'শতবছরে সুররিয়ালিজম' সংকলনে 'জীবনানন্দের সুররিয়ালিজম : মানুষের সমান্তরাল জগতের এক স্বতঃবিনির্মাণ' শীর্ষক নিবন্ধে বিশদ আলোচনা করা গেছে)। 'আটবছর আগের একদিন', 'বিড়াল', 'ঘোড়া' বিবিধ কবিতা যার সাক্ষ্য বহন করে। যখন,

'রক্ত ক্লেদ বসা থেকে ফের রৌদ্রে উড়ে যায় মাছি ' 

আমরা জীবনের দ্বিবিধ উৎসের প্রয়োগের এই মাত্রাভেদ দেখে যেমন বিমূঢ় হ‌ই, তেমন‌ই মাছি আমাদের এই 'ক্লান্ত… ক্লান্ত' মানব জীবনের কাছে একটি শাশ্বত সূর্যোদয় হয়ে থেকে যায়। বিস্মিত হ‌ই যখন জীবনানন্দ মাছির জীবনের বিস্তার রক্ত-ক্লেদের উৎস থেকে পৌঁছে দেন সূর্যোদয়ের ইতিবৃত্তে। একটি রূপ বিনির্মিত হয় আলোর সংজ্ঞায়। 

জীবনানন্দের পরবর্তী সময়ে আমরা এই বিজ্ঞান চেতনার ব্যাপ্তি লক্ষ করি বিনয় মজুমদারের কবিতায়। এ কথা বলাই বাহুল্য। কিন্তু বিনয় মজুমদার অবধি আসতে আসতে বাংলা কবিতার শরীরে বড়সড় একটা পরিবর্তন ঘটে গেছে। ইতিমধ্যে মহাকাব্যের যুগ অবসৃত হয়েছে। কাব্যনাট্য, নাট্যকাব্য এবং দীর্ঘ কবিতা মূলত লিরিক ধর্মীতার ভেতরেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অনধিক কুড়ির আওতায় ঢুকে পড়েছে। কেননা, পত্রিকার দাবি মেটানোর একটা তাগিদ শুরু হয়েছিল উত্তর রৈবিক যুগ থেকেই।

বিনয় মজুমদারের কবিতায় বিজ্ঞান চেতনা সম্পর্কে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। এবং এই প্রেক্ষিতটিও বিরাট। এই অবকাশে আলোচনা করা দুস্কর। তবে এ বিষয়ে তো আমরা সকলেই সহমত যে বিনয় মজুমদারের কবিতায় বিজ্ঞান কেবল প্রত্যক্ষ চিহ্ন হিসেবেই ব্যবহৃত হল না, বরং বিজ্ঞান দর্শন হয়ে উঠল,


"আর যদি নাই আসো,ফুটন্ত জলের নভোচারী
বাষ্পের সহিত যদি বাতাসের মতো না-ই মেশো,
সেও এক অভিজ্ঞতা ; অগণন কুসুমের দেশে
নীল বা নীলাভবর্ণ গোলাপের অভাবের মতো
তোমার অভাব বুঝি ; কে জানে হয়তো অবশেষে
বিগলিত হতে পারো ; আশ্চর্য দর্শনবহু আছে
নিজের চুলের মৃদু ঘ্রাণের মতন তোমাকেও
হয়তো পাইনা আমি, পূর্ণিমার তিথিতেও দেখি
অস্ফুট লজ্জায় ম্লান ক্ষীণ চন্দ্রকলা উঠে থাকে,
গ্রহণ হবার ফলে, এরূপ দর্শন বহু আছে ।"(আর যদি নাই আসো)


বিনয় মজুমদারের কবিতা একটি ফটোগ্রাফি তৈরি করে, কেবল তাঁর বাস্তবিক অবস্থান নয়, কেবল তাঁর গ্রাম, পরিবেশ, পরিস্থিতি নয়, বিনয় মজুমদারের কবিতায় উপস্থাপিত হয় এমন একটি টপোগ্রাফি, যার অস্তিত্ব আমাদের চারপাশেই, অথচ, যাকে আমরা আবিস্কার করতে পারিনি কখনও। 

এই আবিস্কারের প্রবণতাই তো একটি কবিতাকে বিনির্মাণ আর পূণর্বিনির্মাণের দিকে ঠেলে দেয়। যে দ্বন্দ্বের অভিযোজনে‌ই কবিতা একটি কালিক পরিস্থিতি থেকে স্পর্শ করতে পারে আরেকটি কালিক পরিস্থিতিকে। ঠিক এই কথার সূত্রেই আমাদের মনে পড়ে মণীন্দ্র গুপ্তের কবিতার কথা। বস্তুত শতবর্ষী মণীন্দ্র বোধহয় তাঁর দৃষ্টিক্ষেত্রকে বিস্তার করতে পেরেছিলেন মানুষের নিজস্ব গণ্ডি পেরিয়ে। যেমন আমরা যদি 'গণ্ডার' কবিতাটির কথা মনে করি কিংবা 'এখন ওসব কথা থাক' কবিতাটির কথা মনে করি, অনায়াসে দেখতে পাচ্ছি আমাদের পরিবেশের, পরিস্থিতির, ঘটমানতার গঠনতন্ত্র বদলে যাচ্ছে। আমরা এ কবিতার ওপর সুররিয়ালিজমের বা যে কোন‌ও রকম আলো ফেলে দেখতেই পারি। দেখব এ কবিতা প্রতিটি আলোকেই গ্রহণ করছে। কিন্তু, সবকিছু অতিক্রম করে পরিস্ফুট হয়ে ওঠে একটি আবহমান সময়ের বহমান ও বিবর্তমান মনস্তত্ত্বের ধারাভাষ্য। কেবল তাই নয় সময়ের তার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের মূল সূত্রটি বলে রাখেন মণীন্দ্র এ কবিতায়,

"এক লক্ষ বছর সঙ্গে থাকার পর সাব্যস্ত হবে, তুমি আমার কিনা।
ওসব কথা এখন থাক।
এখন চলো মিকির পাহাড়ে বুনো কুল পেকেছে, চলো খেয়ে আসি।

লাল রুখু চুল
        সূর্যাস্তের মধ্যে...
          অর্কিডের উজ্জ্বল শিকড়ের মতো উড়ছে।
          —দেখি দেখি, তোমার তামাটে মুখখানা দেখি!

সূর্য এখনি অস্ত যাবে। পশুর মতো ক্ষীণ শরীরে আমরা হাঁটু পর্যন্ত জলস্রোত পেরিয়ে চলেছি—
                   জলস্রোত ক্রমশ তীর... কনকনে..."
 ( এখন ওসব কথা থাক )


বস্তুত পক্ষে এতক্ষণ আমরা কথা বলছিলাম, বিজ্ঞান কিভাবে বাংলা কবিতায় দর্শন হিসেবে উপস্থিত হয় — এ বিষয়ে। এ সম্পর্কে আর‌ও কথা বলা যাবে নির্দিষ্ট সূত্রে। এখন চলে যেতে চাইছি আরেক প্রসঙ্গে। বিশেষত যে সময়টি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পর সোসাইটি ৫.০-র দিকে ঝুঁকতে চাইছে। যে সময়টি তার নিজের গঠন ও গঠনের মনস্তত্ত্বকে বদলাতে চাইছে। অর্থাৎ দু'হাজার পনের সনের পরবর্তী সময়ে। 

আমরা যদি বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে ভাবতে শুরু করি, তবে একটা বিষয় লক্ষ করতে পারব যে দু'হাজার দশ থেকে কুড়ি সময়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, সময়টিকে সাহিত্যের প্রেক্ষিতে বিচার করলে দেখতে পাচ্ছি, দু'হাজার পনের পর্যন্ত প্রাধান্য পেত প্রিন্ট মাধ্যম। অরকুট, ফেসবুক কিংবা ওয়েবম্যাগ বা ওয়েবজিন তখন‌ও গুরুত্বহীন। দু'হাজার পনের'র পর কিন্তু অবস্থাটা দ্রুত বদলে যেতে শুরু করল। আন্তর্জাল মাধ্যম বেশি সক্রিয় হয়ে উঠল। প্রিন্ট মাধ্যম কিছুটা হলেও পিছনে সরল। এরসঙ্গে সঙ্গে আমরা যে ঘটনাটি লক্ষ করলাম তা হল অ্যালগোরিদমের দাবিতে কবিতার আকার বদলাতে শুরু হল। আমরা জানি ইতোমধ্যে মহাকাব্যের যুগ অবসৃত, নাট্যকাব্য-কাব্যনাট্য — অতিবিরল শিল্পে পরিণত। দীর্ঘ কবিতার চর্চা ক্রমশ প্রচ্ছন্ন, কবিতা মোটামুটি কুড়ি পঙক্তির হয়ে এসেছে। কেবল যে গঠনতান্ত্রিক প্রভাব লক্ষ করলাম — তার নয়। এক‌ইসঙ্গে আমাদের মনে রাখার দরকার — আমরা যখনই সমাজ মাধ্যমে বা ওয়েবজিনে আমার কবিতাটি প্রকাশ করছি, আসলে করছি একটি অফুরন্ত এবং বিস্তীর্ণ প্রচার মাধ্যমে। বিচিত্র ধরনের, বিচিত্র রসের প্রেমিক, বিবিধ অবস্থানের মানুষ কবিতাটির পাঠক হয়ে উঠছেন। এমন মানুষ পাঠক হয়ে উঠছেন, যাঁরা কবিতার প্রাথমিক পাঠক। কবিতার প্রতি আগ্রহ আছে কিন্তু খুব বেশি কবিতা পড়া হয়নি। তাঁরাও কেবল পাঠক নন, স্বাধীন মতামত দাতা ও রচনাটির বিচারক হয়ে উঠলেন। এবং মতামত অনেক সময় ও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রচনাকারের চিন্তার অবস্থান থেকে বহু দূরের। ফলে এই ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা বা পাঠক প্রিয়তা কিংবা সম্ভ্রম অর্জনের জন্য কবিতা বদলাতে শুরু করল। সহজ দর্শন, সরল ভাষা এবং অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত আকারের প্রচ্ছন্ন বা উচ্চাবচতাময় ছন্দ সম্পন্ন কবিতা উপস্থাপিত হতে শুরু করল। পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করল। আমরা এক্ষেত্রে রুপি ক‌উরের কবিতাকে উদাহরণ হিসেবে ভাবতে পারি। এক‌ইসঙ্গে এও দেখা গেল কবিতার কূট, গহন, ইঙ্গিতবাহী রূপটি অবহেলিত চর্চায় পরিণত হল। 

এ আই ক্রমাগত শিখছে। বাংলার মতো জটিল ভাষা অর্জন করতে তার বেশ কিছু সময় লাগবে সন্দেহ নেই। কিন্তু, সেই সময় অনন্ত নয়। ছবি কিংবা ভাস্কর্যকে হুবহু অনুকরণ করতে শিখে গেছে। সম্প্রতি নেচার পত্রিকাও একটি সমীক্ষা করে দেখেছে, কবিতা রচনার ক্ষেত্রে এ আই খুব বেশি অমানবিক নয়।
"Study 1 showed that human-out-of-the-loop AI-generated poetry is judged to be human-written more often than poetry written by actual human poets, and that experience with poetry does not improve discrimination performance. Our results contrast with those of previous studies, in which participants were able to distinguish the poems of professional poets from human-out-of-the-loop AI-generated poetry16, or that participants are at chance in distinguishing human poetry from human-out-of-the-loop AI-generated poetry17. Past research has suggested that AI-generated poetry needs human intervention to seem human-written to non-expert participants, but recent advances in LLMs have achieved a new state-of-the-art in human-out-of-the-loop AI poetry that now, to our participants, seems “more human than human.”…"
( Brian Porter and Eduard Machery : article number - 26133: published - november 2024 : Nature)

আমরা আমাদের লক্ষ্য রাখতে চাইছি দ্বিতীয় উদ্ধৃত অংশের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে। মোট দুটো স্টাডির প্রথমটিতেই আমরা এই বিষয়ে অবগত হতে পারছি যে, মানুষের আবেগ, ভালোবাসা, জেদ,ঈর্ষা, কাতরতা, স্বপ্নকে স্পর্শ করতে পারছে এ আই। অনুবাদ করতে পারছে সে। ক্রমশ নিজেকে মানুষের অস্তিত্ব, অস্তিত্বের ইতিবৃত্তকে জেনে ফেলছে সে। হারারির ধারণাকে মান্যতা দিয়ে যদি আমরা নেচার কৃত দ্বিতীয় স্টাডির ফলাফল দেখি, 

Study 2 finds that participants consistently rate AI-generated poetry more highly than the poetry of well-known human poets across a variety of factors. Regardless of a poem’s actual authorship, participants consistently rate poems more highly when told that a poem is written by a human poet, as compared to being told that a poem was generated by AI.
 ( Brian Porter and Eduard Machery : article number - 26133: published - november 2024 : Nature)

খুব স্বস্তিদায়ক নয়। মানুষের শিল্পকে রচিত এই আই দখল করবে বটে, কিন্তু টিঁকিয়ে রাখবে কি ! 

এই প্রসঙ্গে প্রবেশের আগে বলে নেওয়া ভাল যে, পূর্বোল্লিখিত কবিতার নতুন গঠন ও প্রবণতা কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেই উৎসাহিত করবে। কেননা, তারপক্ষে জটিল -কূট বিন্যাসের বদলে তাৎক্ষণিকভাবে স্পর্শকাতর কবিতাগুলিকে নকল করাই তার পক্ষে সহজ। এবং আমরা চমৎকৃত হয়ে দেখছি যে, অ্যালগোরিদম কিন্তু বাংলা কবিতাকে ঠেলে দিতে চাইছে সেদিকেই।

এখন প্রশ্ন হল—বিজ্ঞানের সঙ্গে কথোপকথনে সদা নিয়োজিত কবিতাকে, বাংলা কবিতাকেও কিন্তু শংকিত হয়ে থাকতে হচ্ছে একটা প্রশ্নে — মানুষের শিল্পকে কতদিন জায়গা ছেড়ে দেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা? কেননা, এই আই এখন নতুন স্বরূপ ধারণ করেছে। সে এখন আর নকল করতে সক্ষম মাত্র নয়, সে এখন সিন্থেটিক এ আইয়ে পরিণত। এমন এ আই যে মানুষের সমান্তরাল বাস্তবতার জন্ম দিতে সক্ষম। সে কবিতা লিখতেও পারদর্শী হয়ে উঠবে না — আমরা কি করে বলছি ? অন্তত এলিয়েন শক্তি হিসেবে সে ইতিমধ্যেই মানুষের প্রতি যে কৌতুহল দেখিয়েছে — তা যথেষ্ট এবং উদ্বেগজনক। 

তবে, সঙ্গে সঙ্গে একথাও ভরসা জোগায় যে মানুষের কৌতুহল ও কৌতুহলজাত উদ্ভাবনা তাকে স্বতঃবিবর্তনের দিকে এগিয়ে দিয়েছে। এই বিবর্তন তাকে প্রতি মুহূর্তে নিজের কাছে অচেনা করে তুলেছে নিজেকে। একারণেই আমরা হয়তো আমাদের শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে পারব। এই কৌতুহল জাত স্বতঃবিবর্তনের মাধ্যমে। কেননা সেই বিবর্তিত মানুষ যেমন নিজের কাছে অচেনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছেও। আমাদের কাছে ভরসার জায়গা এটাই তৈরি হয়। তবে, আমাদের একটা মনে রাখার দরকার— কৌতুহলহীন অথবা ক্র্যাক রাইটিং বা জনপ্রিয় লেখার এখন যে প্রবণতা, সেই প্রবণতা কিন্তু কতদূর জারি থাকবে, তা কিন্তু চিন্তার অবকাশ তৈরি করতে পারে, আশংকার‌ও। মানুষের তালা চাবি যত মজবুত হবে, বিজ্ঞানের সঙ্গে তার যত কথোপকথন হবে, সে নিজের উদবর্তন তৈরি করতে পারবে। অন্যথায় কিন্তু, একদিন হোমো সেপিয়েন্স আক্ষরিক অর্থেই সংকটের মুখে পড়বে। বিজ্ঞান‌ই হবে তার সংকটের কারণ।

0 comments: