গল্প - মনোজিৎকুমার দাস
এক
পদ্মানদীর বিশাল অববাহিকা। মাসের পর মাস অথৈ জলের নিচেয় তলিয়ে থাকে জমিনের পর জমিন। বোশেখ মাস থেকেই পদ্মার জল বাড়তে থাকে। জোষ্ঠি মাসের শেষ দিক থেকে পদ্মা ফুলে ফেঁপে উঠে। সুদোরপুরের মিনহাজ বুড়ো কয়,
' পদ্দা আর গঙগা দুই বুনু। দুই বুনির গলায় গলায় ভাব। গঙগা বড়ু আর পদ্দা ছুটু। বড়ুবুনির গায় গতর ভরি উঠতি না উঠতিই ছুটু বুনু পদদার গায়ও যোয়ানকি উথলে উঠতি দেহা যায়। পদদার নাতিপুতির গা গতরেও জোয়ানকির বাহার দেহা যায় । পদদার মিয়্যা গড়াই, আর গড়াইয়ের মিয়্যা হানুমতি। '
নানার কথা শুনে কুসুমের হাসি পায়। পদ্মার শাখা নদীগুলোতে নতুন জল ঢুকে পড়তে শুরু হবার সাথে সাথে জলের খেলা শুরু – আষাঢ় আসতে না আসতে পদ্মার মেয়েগুলো মায়ের মতোই যৌববতী হয় । শ্রাবণ ভাদ্র চেনার কোন উপায় নেই কে মা আর কে মেয়ে । শুধু জল আর জল, কোথাও কূল কিনারা নেই ।সুদোরপুরের মিনহাজ বুড়ো নাতনিদের কাছে বর্ষাকাল এলেই জলের গল্প বলতে বসে সন্ধ্যের আঁধার হতে না হতে । মিনহাজ বুড়োর বয়সের গাছ পাথর নেই। সে দাবী করে তার বয়স চার কুড়ি পেরিয়ে গেছে । মাথার চুল পেঁকে গেলেও দাঁতগুলো এত বছর বয়সেও পড়েনি। দেখতে তাকে আশি বছরের বুড়ো বলে মনে হয় না । তার তুলনায় ওপাড়ার ছকিরণ খালার আম্মাকে বেশি বয়সী বললে ভুল হবে না। দু’পাড়ার বুড়োবুড়িরা বলে, ‘ মিহাজ তো সেদিনের ছাওয়াল , 'ও বয়োস নিয়ে বড়াই করে ক্যানে । ’
বুড়োবুড়িরা মিনহাজকে মিহাজ বলে ডাকে । গায়েন পাড়ার বদর গায়েন এর উপর মিনহাজ সব সময়ই খুশি থাকে। সে নাকি গুণী মানুষ। মিনহাজ বুড়ো বদর গায়েনকে পেলে তাকে ছাড়তে চায় না। মিনহাজ তাকে বলে,' তোমােকে আজ ছাড়ছিনে । আজ রাত্তিরি ছাওয়ালপরগুলোরে একতারা বাজায়ে হানু গাঙের কিচ্ছা শুনাতি হবেনে কিন্তুক ।’ বদরের উত্তরের অপেক্ষায় না থেকে মিনহাজ ডাক পাড়ে, ’ কন গেলিরে বাতাসী, দেহে যা কে আইছে –’ বাড়ির ভিতর থেকে জবাব আসে , ‘ একটু সবুর , গোরুগুলোরে গোয়ালি তুলি আসতেছি। ’ মিনাজের বউ সাজু বাতাসীকে জন্ম দিতে গিয়ে মারা যাবার পর মিনহাজ কেমন যেন হয়ে পড়ে। লোকে হানুমতি নদীকে হানু গাঙ বলে।
মিনহাজের বাবা মফিজ ব্যাপারী সেই যে সওদাগরী নায়ে বাণিজ্যে গেল, আর ফিরে এলো না। মিনহাজ তখন মায়ের পেটে। বাপ মরা ছেলেটাকে মা সুন্দরী বিবি জল জঙ্গল, জন্তু জানোয়ারের সাথে লড়াই করে বড় করে তোলে ।
মিনহাজের মা সুন্দরী বিবি ভাবে, 'সোমত্ত বয়সে বিধবে হয়ে সে ছাওয়ালটা মুখ চায়ে বাঁচে আছে এতদিন, তার নিজির সোয়ামীর কাছের মানুষ হুরমত ব্যাপারী তাকে নিকে করার জন্যি এক সুমায় কোমর বাঁধে লাগিছিল, কিন্তুক সে তার ইজ্জত অন্য কোন পুরুষির কাছে বেচতে চায়নি। তার জন্যি তারে ভুগক্তিউ কম হয়নি।’ মিনাজের মায়ের চিন্তায় ছেদ পড়ে ছাওয়ালটার কথা ভেবে । সে জলের দেশের মেয়ে হয়ে জলকে ভয় পায় । জলই তার জোয়ান সুয়ামীটাকে---- সে আর ভাবতে পারে না। এত বছর পরেও তার মনে সন্দেহ হয় হুরমত ব্যাপারীকে। তার মন বলে হুরমতই তাকে পাবার জন্য তার সোয়ামীকে মেরে ফেলে জলে ভাসিয়ে দিয়ে ঝড় জলের রাতে নিখোঁজ হবার গল্প বানিযে বলে। মফিজ ও হুরমত দু’জন দোস্ত ছিল সেটা মিনহাজের মা সুনতার বিয়ের আগ থেকেই জানতো। তারা পাশাপাশি গ্রামের ছেলে মেয়ে । ও বালিকা বয়স থেকেই সে হুরমতকে চিনতো। প্রথম থেকেই হুরমতকে কেন যেন তার ভাল লাগতো না। মফিজ আর হুরমত দু’জনেই সুদর্শন । গায়ের রঙ আর স্বাস্থ্য উভয়েরই সুঠাম। বাবা চেয়েছিল মেয়ের বিয়ে হুরমতের সাথে দিতে। কিন্তু মেয়ে বেঁকে বসলো । বাবা বুঝতে পারলো না এর কারণ কী হতে পারে। কারণটা শুধুমাত্র সুন্দরীর জানে। একদিন সুন্দরীকে একা পেয়ে হুরমত সুন্দরীর স্তনদুটোতে হাত দিয়ে দলাই মলাই করেছিল। সেই থেকেই সুন্দরীকে দু'চোখে দেখতে পারে না। সে হুরমতের থেকে দূরে থাকে।
একদিন রাতে সুন্দরীর বাবা সুন্দরী মাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘ তুমার মিয়া বিয়ে করবি কোন রাজপুত্তুরকে? সুন্দরী যে হুরমতকে দু’চোখে দেখতে পারে না । এর হেতুটা কী ! এই হেতুটা তুমাকে জাইনে দেখা লাগবি।’ সুন্দরীর মা জানে এর হেতু একটা নিশ্চয়ই আছে। সে মনে মনে ভাবে‘ সে কি মফিজরে স্বামী হিসেবে পাতি চায় ।’ দু’এক দিন পর সে তার মেয়ে সুন্দরী জিজ্ঞেস করে, ‘ মা সুন্দরী তোরে, একটা কতা কতি চাই। তুই তো জানিস্ তোর বাপ তোর বিয়ের জন্যি ছাওয়াল দেখতি লাগিছে। তোর বাপের পছন্দ জামাই হিসেবে হুরমতকে । তোর সেমোত্ত বয়স , তোরে নিয়ে আমাগেরে চিন্তারই কথা।তোর বিয়েটা দিতি না পারলি আমাগেরে মনে শান্তি নেই । তোর আমারে কলো তোর নাহি হুরমতের সাথে বিয়েতে মত নেই। কতাডা কি সত্যি ?’ মায়ে কথা শুনে সুন্দরীর সুন্দর মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে উঠলো । সে লজ্জায় কোথায় লুকাবে বুঝে উঠতে পারলো না। মা হেতুটা জানবার জন্য নাছোড়বান্দা। সুন্দরীর মা তাকে চাপাচাপি করতে সাহস পায় না। তাদের বড় মেয়ে জলপরী জলে ডুবে মারা যাবার পর সে ভেঙ্গে পড়েছিল। জলপরী মারা যাবার দুই বছর পর সুন্দরী পেটে আসে। তাদের বাড়ি হানুমতি নদীর প্রায় মুখের কাছাকাছি ডাঙ্গাটিতে, মাত্র পাঁচ ছয় ঘর মানুষের বসবাস। বর্ষা নামলেই গড়াই নদীর জল ফুলে ফেঁপে হানুমতিতে ঢুকতে থাকে। বর্ষা কখন আসে সেদিকে নদীর ধারের মানুষগুলোকে সজাগ থাকতে হয় । ওই টিলার প্রতিবেশিরা হুশিয়ার থাকে কখন না জানি হানুমতিতে দৈত্য দানবের রূপ নিয়ে জল ঢুকে সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়। সেটা ছিল জল-ঝড়ের রাত , একটানা আট দশ দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির জলেতে গড়াই এর জল বাড়ছে। তারা ঠাহর করতে পারে না ওই রাতে গড়াই নদীর জল হঠাৎ করে ফুলে ফেঁপে বড় বড় টেউ তুলে দশ পনেরো হাত উচু হয়ে হানুমতির মুখ দিযে ঢুকে পড়বে । টিলার বাসিন্দরা সবাই ঘুমিয়ে, বৃষ্টি পড়ছে াবিশ্রান্ত ধারায়। কেউ ভাবতেও পারে নি গড়াই নদীর রাতে তাদের ঘর বাড়ি ও মানুষজনকে ভাসিযে নিয়ে যাবে। পাঁচ বছরের মেয়ে জলপরী ওই রাতে রাক্ষসি গড়াই নদীর বানে ভেসে যাবে, ওর বাবা মা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি। তারা ভেবেছিল , জলপরী ভাল সাঁতার জানে নিশ্চয়ই সে ডাঙ্গায় উঠেছে। পরীর মতো দেখতে সুন্দরী মেয়েটির নাম রেখেছিল তারা জলপরী । জলপরীর মতো সে সাঁতার কাটতো গড়াই নদীতে। পাড়ার লোকেরা বলতো, 'খাসা নাম রাখিছে ওগেরে মিয়ার, সত্যি সত্যি ও যেন জলপরী । আর সেই জলপরী গড়াই নদীর বানে বেসে গেল ! ওর বাবা মা জলপরীকে হারিয়ে পাগল হয়ে গেল।
এদিকে পাড়াপ্রতিবেশিরাও জলপরীর মৃত্যুতে বড়ই ব্যথিত হলো। জলপরী কেথায় ভেসে গেল কেউই তার হদিস পেল না। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওর লাশটা তার পেল না। জলপরীর মৃত্যুর বছর আড়াই পর সুন্দর ফুটফুটে মেয়েটি জন্ম নিলে বাবা মা এক সময় জলপরীর কথা ভুলে গেল।তারা তার নাম রাখলো সুন্দরী । দিনে দিনে বড় হয়ে উঠলো সে। শরীর স্বাস্থ্য অল্প বয়সেই ডাগর হয়ে উঠায় বাবা মা মেয়ের বিয়ের জন্য উঠে পড়ে লাগলো। বাবা মা হুরমত আলীর সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে মনস্থ করলো। সুন্দরী এক রাতে হুরমত এর কীর্তি কাহিনী মাকে জানাতে হলো।হুরমত সুন্দরীকে নিরালা পেয়ে তার বুকে হাত দেয়। সুন্দরী বেজায় রেগে যায় হুরমতের উপর। হুরমতের বদ চরিত্রের কথা মাকে জানিয়ে সুন্দরী স্বস্তিবোধ করলো। একই গ্রামের এ পাড়া ও পাড়ার ছেলেমেয়ে হওয়ায় সুন্দরী অনেক ছেলেমেয়েকে ভাসাভাসা চিনতো। বছরের ছয় মাসেরও বেশি সময় বর্ষার জলে ডুবে থাকে এপাড়া ওপাড়া । বর্ষার সময় এ বাড়ি থেকে ও বাড়িতে যেতেও সাঁকো পারাপার করা লাগে। বর্ষার সময় লোকজন নৌকা অথবা তালের ডিঙ্গিতে চলাচল করে। মেয়েদের বাড়ির বাইরে যাবার কোন প্রশ্নই উঠে না বর্ষাকালই হোক আর শুকনোর কাল হোক না কেন।
দুই
হারান বয়াতির জারি গানে গড়াই নদীর কথা, হানুমতি নদীর কিচ্ছা , জমিদার জোতদার কথা উটে আছে। হানুমতি নদী স্থানীয় লোকেরা বলে হানু গাঙ । হারান বয়াতি হানু গাঙকে নিয়ে গান বাঁধে। হারান বয়াতি এক সময় নাওয়ের মাঝি ছিল । দেশের সব নদনদী, খালবিল তার নখদর্পণে । জল জঙ্গল, বাঘ, কুমির, হরিণ ,বানর আর সুন্দরী গাছের বনের আশ পাশের বাদা অঞ্চলের গাঙেও তার যাতায়াত ছিল এককালে। এখনও সে বাদা অঞ্চলে যায় কিন্তু নাওয়ের মাঝি হয়ে নয় জারি গানের বয়াতি হিসাবে। নদীর হালহকিকত তার তার জানা। সে হানু গাঙের কিচ্ছা গাইতে গিয়ে নদীর জন্ম কথা বয়ান করে । হারান বয়াতি হানুগাঙকে আদর করে হানুমতি বলে।
হারান বয়াতি সারিন্দায় সুর তোলে, হানুমতির গাঙে কিচ্ছা কত আর কইবো,
জারিগানের দোহাররা পাছ দোয়ারি করে-- তারা দোয়ারকী করে এই বলে-
'হানুমতির গাঙে কিচ্ছা কত আর কইবো,'
হানুমতির মা গড়াই । গড়াইয়ের আসল নাম গৌরী। এ নামের কাহিনী হারান বয়াতি ভাল করেই জানে। গঙ্গা আর পদ্মা দু’বোন এদের আদরিনী কন্যা গৌরী বিপুল জল রাশিকে বুকে ধারণ করে বয়ে চলে হারান বয়াতিদের অনাদি কালের পূর্বপুরুষদের গ্রামগঞ্জের উপর দিয়ে । বহতা নদী কোন এক অনাদীকালে বয়ে চলার সময় পথে পথে এক একটা নদীর জন্ম দিয়েছিল। যখন গড়াই এর নাম ছিল গৌরী, তখন সেও জন্ম দিয়েছিল তার এক কন্যাকে,হারান বয়াতি গান বাঁধার আগে ভাবে। গৌরীর সেই কন্যার নাম হানুমতি , সুন্দরপুরের উত্তর দিকে গৌরীর এক বাক থেকে হানুমতির জন্ম। হারান বয়াতি ভাবে , সুন্দরপুরের কাছ থেকে যার জন্ম তার হানুমতি না হয়ে সুন্দরী হলে মন্দ হতো না। জন্ম মুহূর্তে সে যৌবনবতী সুন্দরী,তন্বি তনুলতার মতো এঁকে বেঁকে ঢেউ তুলে বয়ে চলেছিল দক্ষিণবাহিনী হয়ে । কত গ্রাম,গঞ্জ, পথ প্রান্তরকে পাশ কাটিয়ে সবেগে বয়ে চলার গতিতে ছিল ছন্দময়তা। হানুমতির পাশে কত না খালবিল, কত না জলচর পাখির আনাগোনা । রুই কাতলা,কই মাগুর ট্যাংরা,শৈল, বোয়াল কত না রকমের মাছের সাজসাজো চলনবলন বর্ষা পড়তে না পড়তেই হামতি বুকে। হানুমতি দু’পাড়ে মানুষের বসতি গড়ার ইতিহাস কত না প্রেম বিরহ, হাসি আনন্দ, দু:খ বেদনায় ভরা।হারান বয়াতির জারি গানের দোহাররা আসে,হারান বয়াতি গান বাঁধতে বসে।শোনাই শোন আদ্দিকালের গল্প কথানদীর নাম হানুমতিকী যে সে বেগবতীশোনাই শোন আদ্দিকালের গল্প কথা--- দোহাররা তাদের ওস্তাদকে ঘিরে বসে একততারা, বাঁশি, ঢোল, করতাল নিয়ে। হারান বয়াতি কোলের কাছে দোতারা । গান লেখা শেষ হলে সে দোতারা হাতে তুলে নেয়। বিনোদ বিহারী বাঁশিতে সুর তোলে। হঠাৎ গান থামিয়ে হারান বয়াতি তার দোহারদেরকে ধমক লাগায়। বয়াতি বুঝতে পারে দোহাররা তার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। হারান বয়াতি বলে উঠে, মাসালে জমিদারের কাচারী বাড়িতে পূন্যাহ উপলক্ষে জারী গানের আসর বসবে। মহেষখোলার নিশিকান্তের সাথে সেখানে গানের পাল্লা হবে। তোরা তো একে পাত্তাই দিচ্ছিস্ নে ’ হারান বয়াতির ডান হাত দেদার বক্স । ওইদিন উপস্থিত না থাকায় বযাতি অস্বস্তিরোদ করে। হারান বয়াতি উপলব্ধি করে দেদারই হয়তো তার মান সম্মান রাখতে পারে। এগুলো দিয়ে আসলে কোন কাজ হবে না বলে মনে হয় ।
কয়েকদিন আগে জলপরীর মৃত্যুর কাহিনী হারান বয়াতি তার গানে তুলে ধরে ছিল বড়গাঁওয়ের জমিদার বাড়িতে। 'কী আর কবো সে দুখের কথা বুক ফেটে যায় বলতে হেথা হানুমতি তুই জলপরীরে ভাসাইলি রে তুই আমারে চোখের জলে কাঁদাইলি রে।। ' দোহাররা পিছন থেকে ধুয়ো ধরে ‘কী আর সে দুখের কথা ’। সেবাই দেদার নিশিকান্তের দল ছেড়ে হরান বরয়াতির দলে নাম লেখায়। দেবার বক্সের গানের গলা সুরেলা , তার গানের সুখ্যাতি আছে ভালই। বয়াতির মনে আশা জাগে সে এবার জারীগানের সাথে সাথে কবিগানও গাবার দর গড়ে তুলবে।
হারান বয়াতির মনে পড়ে সেবারই সে প্রথম মেডেল পায়। বড়গাঁওয়ের জমিদার বাবু নিজে হাতে তার গলায় মেডেল পরিযে দেন। সেদিন বযাতির বুকটা আনন্দে যেন দু’হাত ফুরে উঠে। বয়াতি দেদার বক্সকে ভালবাসে। তার প্রমান স্বরূপ তার গলা থেকে মেডেলটা খুলে দেদার বক্সের গলায় পরিয়ে দিয়ে বেজায় খুশি হয়।
এখনো সন্ধ্যা নামলেই মিনহাজ গল্পের আসর জমিয়ে বসে। সে তার মৃত খালা জলপরীর গল্প সবাইকে শোনানোর সময় তারে চোখে যেন জল এসে যায়। সে তার সুন্দরী বিবির গল্প বলতেও দ্বিধা করে না। সুন্দরীর বিয়ে শেষ পর্যন্ত হুরমত ব্যাপারীর সাথে না হয়ে মিনহাজের বাবা মফিজ মিয়ার সাথে হয়। বিয়ের কিছুদিন আগ থেকেই হুরমত আর মফিজ এক সাথে কারবার করতো। সুন্দরর বিয়ে তার সাথে না হয়ে মফিজের সাথে হওয়ায় হুরমত অখুশি সেভাব সে ঘুণাক্ষরেও কারো কাছেও প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। বছরের ছয় মাসের বেশি সব এলাকা জলে সয়লাফ থাকায় কারবারপাতি করতে যেতে নৌকো ছাড়া গত্যন্তর নেই । হুরমতদের দু’দুটো নৌকো। ব্যাপারী বাড়ির ছেলে হিসাবে হুরমত বাবার সাথে কারবারেপাতি নামে যুবক হয়ে উঠার পর থেকে। একটা কাছেপিঠে চলাচলের আর একটা কারবারপাতি করার জন্য পাঁচশ’ মনের নৌকো। পাট, গুড়, ভুসি মাল নৌকোয় বোঝাই করে হুরমত সে সময় থেকেই চাঁদপুর মিরকাদিম , দৌলতপুর যাওয়া শুরু করে বাবার সাথে। মফিজের নিজের কোন নৌকো না থাকায় হুরমতের সাথে ব্যবসাপাতি করা ছাড়া তার উপায ছিল না।



0 comments: