0

সম্পাদকীয়

Posted in


 


















সংবাদপত্রের একেকটা খবর শেষ পর্যন্ত পড়তে ইচ্ছে করে না। যেমন, নয়ডার দুর্ঘটনায় তরুণ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর মৃত্যু। মোবাইল ফোনে একটি টগবগে তরুণের শেষ আর্তি ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাওয়ার আগে মরণপণ চেষ্টা করেও উদ্ধার করা যায়নি তাকে। ভাবনাটি মাথার মধ্যে এলে আনচান করে শরীর, শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা তরল-স্রোত নেমে যায়।প্রকৃতি এবং বিশেষ একটি উদ্ভূত পরিস্থিতির কাছে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সময়োপযোগী বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিও কি নিরুপায়, এই ঘটনাটি তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। মন অবুঝ হলেও এমন ঘটনাকে মেনে নেওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকে না।

কিন্তু যখন জানা যায় একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রধান আর তাঁর স্ত্রীকে ভিত্তিহীন এবং হাস্যকর অভিযোগে অন্য একটি রাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী তাঁর বাসভবন থেকে রাতের অন্ধকারে কিডন্যাপ করে আনে, তখন রাষ্ট্রপুঞ্জ নামক কোনও নীতি নির্ধারক গোষ্ঠীর অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দিহান হওয়া ছাড়া কোনও উপায় থাকে কি? এই কুকর্মটির অন্তরালে লুকিয়ে থাকা দূরভিসন্ধিটিও স্পষ্ট হয়ে যায় এক লহমায়। আর সেই 'অধিকৃত' দেশটির নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্ত মানবাধিকার কর্মী মারিয়া কোরিনা মাচাদো'র এই বিরল এই বিরল সম্মানটিও যখন 'বলশালী রাষ্ট্রপতি' নিজগুণে অধিকার করে নেন, ঘৃণায় শরীর অবশ হয়ে আসে। এই গ্রহের বাসিন্দা হিসেবে লজ্জাবোধ হয়!

এমত পরিস্থিতিতেও রাত পোহালেই বাৎসরিক নিয়ম মেনে ৪৯ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার উদ্বোধন। এখনও বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে যে ক'টি বিষয় একটি সংবেদনশীল মানুষের বেঁচে থাকার কারণ হতে পারে, তার একটি বই।

সুস্থ থাকুন। দায়বদ্ধ থাকুন।

শুভেচ্ছা নিরন্তর।

0 comments: