0

প্রচ্ছদ নিবন্ধ - প্রমিত বসু

Posted in









বাংলা ভাষা উচ্চারিত না হলে...


আমাদের দেশে হিন্দি দিবস আছে, বাংলা দিবস নেই। ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বাংলা দিবস নয়। যেহেতু আমাদের দেশে কোনো বাংলা দিবস নেই, ২১ তারিখটাকেই যেন মনে হয় আমাদের বাংলা দিবস--- আদতে যেটা কিনা ভারতবর্ষ নামক রাষ্ট্রের কোনো ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিতই নয়।

যাই হোক, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এসে যদি আমাদের নিজেদের মাতৃভাষা নিয়ে ভাবতে শুরু করি, তাহলে দেখব নতুন করে না বললেও এটা খুব স্পষ্ট যে বাংলা ভাষার সমস্যা আর সঙ্কট দুটোই এখন বহুমাত্রিক এবং গুরুতর। সব মিলিয়ে বাংলা ভাষার পিঠ প্রায়-আক্ষরিক অর্থে দেওয়ালে ঠেকে গেছে।

দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার কারণগুলো তলিয়ে দেখতে শুরু করলে বুঝতে পারা যায় ভাষাগত সঙ্কটের এ কুনাট্য রঙ্গের নেপথ্যে একসাথে মজুত অনেকগুলো উপাদান।

প্রথমত, আজকের দিনে প্রচুর বাঙালি জীবিকার তাগিদে নিজভূম ছেড়ে ভিন রাজ্যে বা দেশে পাড়ি দিচ্ছে। পরবাসে থিতু বাঙালির মাতৃভাষা চর্চায় আবেগের পরিমাণ যতই নিখাদ হোক, সেই চর্চারও একটা সীমাবদ্ধতা থাকে। মাতৃভাষা শেখার পরিকাঠামো না থাকলে সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে কেউ শিখলে বা শেখালে সে একান্ত ব্যক্তিগত চর্চার ভিত প্রথম থেকেই হয় নড়বড়ে। এর প্রভাব স্পষ্টতই পড়ে পরের প্রজন্মের ওপর। ফলত তাদের কাছে মাতৃভাষা শিক্ষা বা চর্চা একপ্রকার অসম্ভাব্য প্রকল্প হয়ে ওঠে। বড় জোর অক্ষরজ্ঞান বা প্রাথমিক ভাবে পড়তে আর লিখতে পারাটাই যথেষ্ট কৃতিত্বের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আর আনুপাতিক বিচারে জীবিকার তাগিদে ভিনদেশে বা ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়া বাঙালির সংখ্যাটা কিন্তু আজ নেহাত কম নয়। অর্থাৎ এক রকম ধরে নিতে হবে যে আর এক বা দুই দশক পরে এই বিপুল সংখ্যক বাঙালির উত্তরসূরিরা মাতৃভাষার ওপর নিজেদের উত্তরাধিকার হারাবে।

এর সঙ্গে যোগ করতে হয় দেশের শাসকের তরফ থেকে এক দেশ এক ভাষার নামে সবাইকে এক জোয়ালে জোড়ার সাঙ্ঘাতিক প্রয়াস। দেশের বহুভাষিক কাঠামোকে ধ্বংস করে একভাষিক করার এ এক ভয়ঙ্কর অপচেষ্টা। দায়িত্ব নিয়ে একটি ভাষার প্রচারক হতে গিয়ে বাকি সব ভাষাকে দুর্বল করার সুপরিকল্পিত মারণযজ্ঞ। এই উদ্যোগের শুরু অবশ্য আজ নয়, স্বাধীনতার আগে থেকেই।

রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং এ বিষের ধোঁয়ার সলতে পাকানোর সময় থেকেই আগামির বিপদের আঁচ পেয়ে সাবধান করে দিতে চেয়েছিলেন। ১৯২৩ সালে কাশীতে উত্তর-ভারতীয় বঙ্গসাহিত্য সম্মিলনে সভাপতির ভাষণে কবিগুরু বলেন, “সাম্রাজ্যবন্ধনের দোহাই দিয়ে যে-ঐক্যসাধনের চেষ্টা তা বিষম বিড়ম্বনা। তারা ভাষা-বৈচিত্র্যের উপর স্টীম-রোলার চালিয়ে দিয়ে আপন রাজপথের পথ সমভূম করতে চায়।’’ পরে লিখলেন, “অন্য একটি ভাষাকেও (ইংরেজির বদলে) ভারতব্যাপী মিলনের বাহন করবার প্রস্তাব হয়েছে। কিন্তু, এতে করে যথার্থ সমন্বয় হতে পারে না; হয়তো একাকারত্ব হতে পারে, কিন্তু একত্ব হতে পারে না।’’

হিন্দিকে নিয়ে সেই চেষ্টাই সচেতন ভাবে হয়ে চলেছে স্বাধীনতার জন্মলগ্ন থেকে। আজ সেই উদ্যোগের আঁচ সাঙ্ঘাতিকভাবে পড়ছে নতুন প্রজন্মের ওপর। কেন্দ্রীয় সরকারি স্কুলে ভর্তি হলে একটা শিশু তার মাতৃভাষা বা রাজ্যের ভাষা (যদি না সে হিন্দিভাষী হয়) শেখার অধিকার হারায়। জাতীয় স্তরে যে কোনো ভাল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হলে স্কুলস্তরে কেন্দ্রীয় পাঠক্রম (সিবিএসই) অনুসরণ করা ভিন্ন উপায়ও তেমন থাকে না। তাই ছাত্রছাত্রীদের একরকম বাধ্য হয়েই এই পাঠক্রমে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। আর সেই পাঠক্রমে মাতৃভাষার স্থান খুঁজতে প্রয়োজন অতি উচ্চশ্রেণীর আতস কাচ।

এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে যে এই ব্যবস্থা তো চলে আসছে স্বাধীনতার সময় থেকে। আজ তবে নতুন করে কীসের সঙ্কট তৈরি হল! উত্তরের গোড়াতেই সন্ধান মিলবে সর্ষের মধ্যে বাস করা ভূতেরঃ এই সঙ্কটের জন্য রাজ্য স্তরের পাঠক্রমও সমানভাবে দায়ী। অনতি অতীতে একটা সময় ছিল যখন রাজ্য সরকারি পাঠক্রমে পড়াশুনো করা প্রচুর বাঙালি জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য পেয়েছে, কৃতী হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাঠক্রমের এবং পাঠ্যব্যবস্থার যতটা পরিবর্তন সাধন প্রয়োজন সেই অভিযোজনের চাহিদা অবহেলিত রয়ে গেছে এক বা একাধিক প্রজন্মে। ফলে কেন্দ্রীয় শিক্ষাব্যবস্থার থেকে দিনে দিনে মানের দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছে রাজ্যস্তরের পাঠ্যব্যবস্থা।

সমান্তরালে রয়েছে বিবিধ সরকারি কাজে (সেটা অফিস, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল সহ সব রকম প্রতিষ্ঠানে) হিন্দি বাধ্যতামূলক রাখা। তাই অহিন্দিভাষী কাউকে এক রকম ঘাড় ধরেই হিন্দি শেখানো বা বলতে গেলে গেলানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ভাষা থাকা-না থাকাটা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ওপর। আর এই ব্যাপারে আমাদের নিজেদের উদাসীনতার কথা তো একরকম সুপ্রতিষ্ঠিত। তাই বহুক্ষেত্রেই দেখা যায় দেশের অন্য অনেক রাজ্য বা গোষ্ঠীতে যখন নিজস্ব ভাষাকে প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়ার যথেষ্ট চেষ্টা চলেছে তখন আমাদের হাতে থেকে যায় 'পদে পদে অপমান' নামক পেন্সিলটি।

সরকারি ছেড়ে অন্যত্র দৃষ্টি ফেরালেও অবস্থাটা তথৈবচ। কোনো দোকানে গেলে বা কোথাও গ্রাহক পরিষেবায় ফোন করলে বা নিদেন পক্ষে ট্যাক্সিতে চড়লেও আমাদের শুনতে হয় বিজাতীয় ভাষা, তাও আবার প্রচ্ছন্ন গর্বের সুরে। গর্বটা কিছুটা বাংলা না জানার আর কিছুটা বাঙালিকে হিন্দি বলাতে বাধ্য করার জন্য।

গোদের উপর বিষফোঁড়ার অভাব পূরণ করতে রয়েছে আমাদের নিজেদের মধ্যেই ঢুকে থাকা বেনো জলে অবগাহনের কৃতিত্বের আহ্লাদ। এই আহ্লাদের ঠ্যালায় 'বাবা' হয়ে যাচ্ছে 'পাপা' বা 'dad', 'ঢ্যাঁড়স' হয়ে যায় 'ভিন্ডি', ক্লান্তি পাল্টে গিয়ে হয় 'পারিশান'। এর সাথে যুক্ত হয় হুবহু অনূদিত অপপ্রয়োগ, 'কেন কি' , 'হাত ধুয়ে পেছনে পড়া', 'ভোট করুন', 'বেটা', 'ছুটি মানানো'র মত আরও কত কী! তেমনি 'দোল' বা 'কালীপুজো'র মতো শব্দগুলো 'হোলি' বা 'দিওয়ালি'র চাপে তো আজকাল মনে হয় সুদূর নীহারিকা। অনেক পরিবারকে দেখেছি যেখানে বাবা মা দুজনেই বাংলাভাষী হওয়া সত্ত্বেও বাড়ির শিশুর সাথে হিন্দিতে কথা বলে।

এর একটা প্রধান কারণ হয়তো ভাষা নিয়ে আমাদের অহঙ্কারটা দিনে দিনে অনেক কমে গেছে, বদলে যুক্ত হয়েছে একরকম সামাজিক বা অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা। তাই 'রাজভাষা' হিন্দিকে অনুকরণ করে সেটা মেটানোর একটা ব্যর্থ প্রয়াস চলতে থাকে।

এখানে মনে হতে পারে যে পণ্ডিত মানুষেরা তো বলে থাকেন যে ভাষা বহমান একটা নদীর মতো, সময়ের সাথে সাথে ভাষার পরিবর্তন হয়, অন্য ভাষা থেকে নতুন শব্দ এসে যুক্ত হয়। এটা তো একেবারে ঠিক কথা। ভাষাচার্য সুনীতি চট্টোপাধ্যায় স্বয়ং বাংলা ভাষার উৎপত্তি আর বিকাশের গতি নিয়ে বোঝাতে গিয়ে বলেছিলেন যে আজ যদি রবীন্দ্রনাথের কবিতা থেকে কোনো পরিচিত দুটো লাইন নিয়ে যদি আধুনিক বাংলায় লিখে তারপর আস্তে আস্তে পিছিয়ে গিয়ে পূর্ব যুগের প্রতিরূপগুলো কি রকম ছিল বা থাকা সম্ভব ছিল তা দেখা হয়, তাহলে তার কাঠামোটা অনেকটা এই রকম হবে:

সোনার তরীর লাইন:

"গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে"

আধুনিক বাংলা:

গান গেয়ে না বেয়ে কে আসে পারে
দেখে যেন মনে হয় চিনি ওরে


মধ্যযুগের বাংলা (আনুমানিক ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ):

গান গায়্যা (গাইয়া) নাও বায়্যা (বাইয়া) কে আস্যে (আইসে) পারে,
দেখ্যা (দেইখ্যা) জেনঅ (জেনহ) মনে হোএ চিণী (চিনহীয়ে) ওআরে (ওহারে)


প্রাচীন বাংলা (আনুমানিক ১১০০ খ্রিষ্টাব্দ):

গান গাহিআ নার বাহিআ কে আইশই পারহি
দেখিআ জৈহণ মণে (মণহি) হোই, চিণহিঅই ওহারহি


মাগধী-অপভ্রংশ (আনুমানিক ৮০০ খ্রিষ্টাব্দ):

গাণ গাহিঅ নাঁর বাহিঅ কই (কি) আরিশই পারহি (পালহি),
দেকখিঅ জইহণ (জইশণ) মণহি হোই,
চিণহিঅই ওহঅরহি (ওহঅলহি)


মাগধী-প্রাকৃত (আনুমানিক ২০০ খ্রিষ্টাব্দ):

গাণং গাধিঅ (গাধিত্তা) নাবং বাহি বাহিঅ (বাহিত্তা) কগে (কএ, বা কে) আরিশদি পালধি (পালে),
দেখখিঅ (দেকখিত্তা) জাদিশণং মণধি হোদি কোন (ভোদি) চিহ্নিত অমুশশ কলধি


আদিযুগের প্রাচ্যপ্রাকৃত (আনুমানিক ৫০০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দ):

গানং গাথেত্বা নারং রাহেত্বা করে (কে) আরিশতি পালধি (পালে)
দেকখিত্বা যাদিশং (যাদিশনং) মনেই (মনসি) হোতি (ভোতি), চিণহিয়তি অমুশশ কতে।


বৈদিক আনুমানিক (আনুমানিক ১০০০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দ):

গানং গাথরিত্বা নারং রাহয়িত্বা ককঃ (কঃ) আরিশতি পারধি (=পারে),
দৃক্ষিত্বা (=দৃষ্টা) যাদৃশম মনোধি (মনসি) ভরতি, চিহ্ন্যতে অমুষ্য কৃতে (=অসৌ অস্মাভির জ্ঞায়তে)

ভাষার এই বহমানতা অনন্তকালের সে প্রায় সকলেরই জানা। এই বাংলা ভাষাতে তৎসম বা তদ্ভব শব্দের পাশাপাশি কতরকম দেশী বা বিদেশী ভাষার প্রভাব আছে তা তো বলে শেষ করা যাবে না। আমাদের দৈনন্দিন কথোপকথনের একটা অংশ জুড়েই থাকে এই ভিন ভাষার অস্তিত্ব।

কিন্তু তার সাথে এটাও জানা কথা যে যখন কোনো নতুন শব্দ ভিন ভাষা থেকে এসে ভাষায় এসে যুক্ত হয় তখন সেটা ভাষাকে সমৃদ্ধ করে। কিন্তু যখন অহেতুক ভাবে অন্য ভাষা থেকে প্রতিশব্দ নিয়ে এসে ভাষায় জোড়া হয় তখন কিন্তু তা ভাষাকে দুর্বল করে। ঠিক এখানেই এসে গোল বাঁধছে আমাদের আজকের ভিন ভাষার বেনোজলে। অকারণে অপ্রয়োজনে করা হচ্ছে ভিন ভাষার প্রয়োগ যেখানে তার বাংলা প্রতিশব্দর একটা প্রচলিত অস্তিত্ব রয়েছে। আর এটাই ভাষার সঙ্কটের একটা বড়ো কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

'ভাষা ও সংকেত' প্রবন্ধে ঠিক এই রকমের একটা সঙ্কটের কথাই রাজশেখর বসু বলছেন: 'বাংলা ভাষার জননী সংস্কৃত হতে পারেন, কিন্তু গ্রীক ফারসি আরবি পর্তুগীজ ইংরেজিও আমাদের ভাষাকে স্তন্যদানে পুষ্ট করেছে। যদি প্রয়োজনসিদ্ধির জন্য সাবধানে নির্বাচন করে আরও বিদেশী শব্দ আমরা গ্রহণ করি, তবে মাতৃভাষার পরিপুষ্টি হবে বিকার হবে না। অপ্রয়োজনে আহার করলে অজীর্ণ হয়, প্রয়োজনে হয় না। যদি বলি 'ওয়াইফের টেম্পারটা বড়ই ফ্রেটফুল হয়েছে' তবে ভাষা জননী ব্যাকুল হবেন। যদি বলি - 'মোটরের ম্যাগনেটটা বেশ ফিনকি দিচ্ছে', তবে আমাদের আহরণের শক্তি দেখে ভাষাজননী নিশ্চিন্ত হবেন।'

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারা পৃথিবীতে প্রায় ২২ কোটি মানুষ বাংলায় কথা বলেন, সংখ্যার নিরিখে প্রথম দশটি ভাষার মধ্যে একটা। তাই অনেক হয়তো ভাবতে পারেন যে এই সামান্য অবক্ষয় এতো লোকের ভাষার ওপর কতটাই বা প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু আসল ঘটনা হলো এই ছোট ছোট অবক্ষয়গুলো কিন্তু সত্যি ভাষার এক বড়সড় বিপদ ডেকে আনে। ভাষাকে যদি নদীর মতো সতত বহমান হয়, তাহলে আমাদের এটাও মনে রাখা দরকার যে ভারতবর্ষে যমুনার মতো নদীও একশো বছরের কম সময়ের মধ্যে মুমূর্ষু হয়ে পড়লো। তার প্রধান কারণ ছিল মানুষের তৈরী করা দূষণ। আর ভাষাতেও এই অপপ্রয়োগগুলো ঠিক একই রকমের বিষ বা দূষণ। সেই দূষণ কিন্তু ভাষার অপমৃত্যু ডেকে আনে খুব তাড়াতাড়ি।

বাঙালি বাঙালির সাথে কথা বলুক বাংলায়, লিখুক এই ভাষাতেই। সব কিছুর ফাঁকে নতুন প্রজন্ম জানুক বাংলা হরফ, তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আমরাও পড়ি বাংলা বই। বাংলায় নতুন শব্দ আসুক, ভাষা সমৃদ্ধ হোক সেই নতুন শব্দে। নতুন প্রজন্ম শিখুক 'চ' এ চ্যাটজিপিটি, 'ই' তে 'ইনস্টাগ্রাম' আর 'র' এ রোবোটিক্স। কিন্তু অপ্রোজনীয় শব্দে ভাষাকে যেন ভারগ্রস্থ করে দেওয়া না হয়। তাহলে ভাষা শহীদদের সব প্রয়াসই শেষ হয়ে যাবে কয়েক দশকের মধ্যে, উত্তরাধিকারের সব যোগ্যতা হারাবো আমরা।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সবার জন্য, অন্য ভাষার কণ্ঠরোধ বা অপমান করার নয়। হিন্দির ভাষার সঙ্গেও কোনো লড়াই নেই, হিন্দিভাষী সাধারণ মানুষ তো তার নিজের মাতৃভাষায় কথা বলবেই, তাতে কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু বাংলা যেন বাঙালিদের কাছে অগ্রাধিকার পায় সেটা দেখাটা ভীষণ জরুরি। এটা বাংলা ভাষার অস্তিত্বরক্ষার প্রশ্ন।

বহুত্ববাদী ভারতীয় সংস্কৃতির কাঠামোয় বাংলা থাকুক আমাদের আশা হয়ে, অঙ্গীকার হয়ে, অধিকার হয়ে, নিবিড় ঘন আঁধারে ধ্রুবতারা হয়ে। আর বাংলা থাকুক আমাদের ভালোবাসা ভালোভাষা হয়ে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস থাকুক শুধু একদিনের জন্য নয়, পালন করা হোক আমাদের মনে মনে বছরের প্রতিটি দিন।

0 comments: