0

ধারাবাহিক - নন্দিনী সেনগুপ্ত

Posted in




















২২

সেই ঘটনার পর থেকেই ক্রিস্টিনা জলির সঙ্গে মধুর ব্যবহার করত। আবার মাঝেমধ্যে বেশ আধিপত্য দেখাত। সঙ্গে নিয়ে বেড়াতে বেরোত। তরুণ সেই শিল্পী বন্ধু, আলফ্রেড, যার সঙ্গে ক্রিস্টিনা প্রায়ই দেখা করতে যেত, তার সঙ্গেও জলির আলাপ করিয়ে দিয়েছিল সে। সেই শিল্পী অদ্ভুত সব ছবি আঁকত। ক্যানভাসে যেন রঙের উচ্চকিত লড়াই। সাহস এবং নির্মমতার প্রকাশ ছিল তার শৈলীর মধ্যে। মনে হত এক পাষাণহৃদয় আত্মা নিজের সঙ্গেই ছলনা করতে ব্যস্ত। ক্রিস্টিনা আলফ্রেডকে বেশ পছন্দ করত। প্রেমের সীমানা ছাড়িয়ে তার প্রীতি ব্যক্তিপুজার স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। আলফ্রেড এই ব্যাপারটা বেশ উপভোগ করত, কারণ সেও ক্রিস্টিনার ব্যাপারে বেশ আগ্রহী ছিল। আলফ্রেড খুব বাকপটু, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, রসিক হলেও যথেষ্ট বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাবের ছিল। এবং বন্ধুত্বের প্রথম দিন থেকেই সে চেয়েছিল যাতে সে ক্রিস্টিনার কাছে ক্রমেই অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারে।

ক্রিস্টিনার মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিত এবং ক্রিস্টিনার সুপ্ত প্রতিভার আবিষ্কারক ছিল আলফ্রেড। ক্রিস্টিনা অবশ্য শিল্পীর আঁকা ছবি দেখলেও সেসব নিয়ে বিশেষ আলোচনা করত না। কিন্তু যখন সে ছবি দেখত, তখন তার মধ্যে এক তীব্র আগ্রহ লক্ষ্য করেছিল আলফ্রেড। সাধারণত ক্রিস্টিনা উদাসীন স্বভাবের মানুষ। কিন্তু ছবি দেখবার সময়ে তার মধ্যে অদ্ভুত একটা মনঃসংযোগ দেখা যেত। তার বাহ্যচেতনা বিলুপ্ত হত। গোটা দুনিয়া তখন তার কাছে চলমান দৃশ্যাবলীর মত মনে হত।

আলফ্রেড তাকে জিজ্ঞেস করেছিল যে সে নিজে কখনো ছবি এঁকেছে কি না। ক্রিস্টিনা বলেছিল যে ছবি তাকে বিশেষ টানে না। কিন্তু সে নানা ধরনের আকার, শরীরী ভঙ্গিমা, হাত পায়ের গড়ন, মুখের অভিব্যক্তি এসব দেখতে ভালবাসে। সে অতীতে প্রচুর মুখোশ বানিয়েছে। হাত কিম্বা মুখের ভাস্কর্যও বানিয়েছে সে আগে। কিন্তু সেসব বানানো একেবারেই সহজ নয়। আলফ্রেড তার হাতের কাজ দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু এখানে বোর্ডিং স্কুলে সে কিছুই নিয়ে আসেনি এবং এখানে আসবার পরে সে সেরকম কোনও কাজ করেনি।

‘আমার ভাই আমার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিভার অধিকারী’ বলে ক্রিস্টিনা… ‘সে চিত্রকর হতে চায়। তার বয়স মোটে বাইশ। কিন্তু সে বয়সের তুলনায় অনেক পরিণত কাজ করে। আমি তার মত একেবারেই পারি না। ভাস্কর হয়ে ওঠাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ, ভাই বলেছে যে ভাস্কর্য গড়তে গেলে সবার আগে আঁকতে জানতে হয়।’

আলফ্রেড ক্রিস্টিনাকে প্রস্তাব দিয়েছিল একসঙ্গে বসে কাজ করবার জন্য। ক্রিস্টিনা খুবই খুশি হয়েছিল এই প্রস্তাবে এবং তার কাজের ধরনধারণ দেখে আলফ্রেড চমকে গিয়েছিল। অবিশ্বাস্য দ্রুততায় ক্রিস্টিনা কাজ শিখছিল। যেখানে সে আটকে যেত, সেখানে আলফ্রেড তাকে বুঝিয়ে দিত অনেকখানি। ফলে যে কোনো কাজ করেই ক্রিস্টিনা আলফ্রেডের মতামতের অপেক্ষা করত। শিল্পচর্চার ক্ষেত্রে আলফ্রেডই ছিল তার একমাত্র শিক্ষক।

আলফ্রেড গভীরভাবে ক্রিস্টিনার প্রেমে পড়েছিল। ক্রিস্টিনার উপস্থিতি তার কাছে অভ্যেসে পরিণত হয়েছিল। সে ভাবতেও পারেনি যে ক্রিস্টিনা কোনওদিন তাকে ছেড়ে চলে যেতে পারে। কাজেই ক্রিস্টিনা যখন বলেছিল যে বোর্ডিং স্কুলে তার থাকবার মেয়াদ আর মাত্র দুই মাস, তখন সে কথা শুনে আলফ্রেড খুব বিমর্ষ হয়ে পড়েছিল। সে বলেছিল যে সে এমন কথা ভাবতেও পারছে না। ক্রিস্টিনা হাসিতে ফেটে পড়েছিল… ‘যাই হোক, তবে আমার কাছে আর এমন কী বা পাবে তুমি?’

আলফ্রেড ঘাড় বাঁকা করে তাকিয়েছিল তার দিকে। নিঃশব্দ এক রাগে ফেটে পড়ছিল সে… ‘বেশ…ভাল বলেছ… সে কথা যেন তুমি জানোই না।’ উত্তেজিত হয়ে বলেছিল সে… ‘দুনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমি তোমার বিষয়ে চিন্তা করি।’

ক্রিস্টিনা উঠে দাঁড়িয়েছিল। তারপর সেদিন যেভাবে বোর্ডিং স্কুলের প্রধানা শিক্ষিকার পাশে গিয়ে গা ঘেঁষে বসেছিল, ঠিক সেভাবে সে আলফ্রেডের পাশে গিয়ে বসল। আলফ্রেড আবেগপ্রবণ হয়ে তার হস্তচুম্বন করবার চেষ্টা করেছিল। ক্রিস্টিনা ফিরে তাকিয়েছিল তার দিকে এক অদ্ভুত ভোঁতা শীতলতা নিয়ে। তারপর তার ঠোঁটে দীর্ঘচুম্বন দিয়েছিল।

যখন জানাজানি হয়ে গেল যে আলফ্রেডের স্টুডিওতে ক্রিস্টিনা মাঝেমধ্যে জলিকে নিয়ে যায়, তখন একদিন জলিকে ডেকে পাঠানো হল প্রধান শিক্ষিকার ঘরে। সব শিক্ষিকা উপস্থিত ছিলেন। জলি ভয়ে কাঁপতে লাগল। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে খুঁটিনাটি বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর জেরা করা হতে লাগল।

“ক্রিস্টিনার সঙ্গে একদম মিশবে না।” বলা হল তাকে… “তার প্রভাব অত্যন্ত খারাপ এবং বিপজ্জনক।”

জানালার ফ্রেমের সামনে মেঝের দিকে তাকিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়েছিল জলি। তার ছোট জাপানি ধাঁচের মুখমণ্ডলে কোনও অভিব্যক্তি না থাকলেও বোঝা যাচ্ছিল যে সে শালীনতা বজায় রাখবার জন্য চুপ করে আছে। কোনও কথা বলবার সাহস যোগাচ্ছিল না তার মনে। কথা বলতে গেলে কণ্ঠস্বর কেঁপে যাবে, এরকম ভেবেছিল সে। শিক্ষিকারা বলে যেতে লাগলেন…

‘আজ থেকে অন্য ঘরে ঘুমাবে তুমি। ক্রিস্টিনার সঙ্গে পড়াশুনা কিম্বা অন্য কোনও বিষয়ে কোনও যোগাযোগ রাখবে না।’

জলি তীব্রভাবে কেঁপে চোখ বুজে ফেলল এই কথা শুনে। কিন্তু সে কিচ্ছুটি বলল না। চোখও খুলল না।

‘তোমাকে যা করতে বলা হয়েছে, তুমি সে ব্যাপারে সহমত পোষণ করো তো?’ পাশ থেকে বলে উঠলেন প্রধানা শিক্ষিকা। ‘পরিষ্কার জানাও যে তুমি এই নিয়মকানুন সঠিকভাবে মেনে নিতে রাজি কি না।’ জলি নীরবে মাথা নাড়ল। সেই মুহূর্তে তার মনে হচ্ছিল যে যদি সে ক্রিস্টিনাকে একটিবার দেখতে পায়! সে এত কথার মধ্য থেকে শুধু এইটুকুই বুঝতে পেরেছিল যে শিক্ষিকারা ক্রিস্টিনার কাছ থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে চাইছেন।

-‘কিন্তু জলি’ প্রধান শিক্ষিকা আবার বলে উঠলেন… ‘তুমি কি বুঝতে পারছ না যে তোমার ভুল সংশোধন করবার জন্য আমরা তোমাকে একটা সুযোগ দিতে চাই? তুমি খুব বিশ্রীভাবে নিয়মভঙ্গ করেছ এবং তোমার কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত এই কারণে যে এই কথাটা আমরা তোমার অভিভাবকদের জানাচ্ছি না।’

জলি একটু অবাক দৃষ্টিতে সবার দিকে তাকাল… ‘কিন্তু আমি ক্রিস্টিনাকে ভালবাসি’ সে বলল, ‘ওর সঙ্গে এক ঘরে থাকতে পারলে আমার ভাল লাগবে।’

শিক্ষিকাদের ধৈর্যের পরীক্ষা এখন। একজন শিক্ষিকা বিড়বিড় করে ক্রিস্টিনার কুপ্রভাবের ফলে জলি এমন উদ্ধত আচরণ করছে, এই স্বগতোক্তি করলেন। প্রধানা শিক্ষিকা বললেন যে এখনই জলিকে তার সিদ্ধান্তের কথা পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে।

জলির জাপানি চোখ হঠাৎ বেশ বড় হয়ে উঠল। এত বড় আকারে যে তার চোখ কখনো খুলতে পারে, এরকম ঘটনা কেউই আগে লক্ষ্য করেনি। ভয়ে না রাগে এমন হল, সে কথা বলা মুস্কিল। জলি তার ছোট ছোট দুই হাতে জানালার পাল্লা চেপে ধরল। চিৎকার করে উঠল সে, ডুকরে ডুকরে কেঁদে বলতে লাগল… ‘কিন্তু আমি ক্রিস্টিনাকে ভালবাসি।’ বারে বারে হাহাকার করে বলতে লাগল সে… ‘কিন্তু আমি ক্রিস্টিনাকে ভালবাসি।’

ঠিক তখনই ক্রিস্টিনা প্রবেশ করল সে ঘরে। ভেজানো দরজায় আগাম টোকা না দিয়েই সে ঢুকে পড়ল। গটগট করে সে জলির দিকে এগিয়ে একটু ঝুঁকে তার কাঁধে হাত রাখল। তারপর দাঁড়াল তার পাশে। ক্রিস্টিনা জলির থেকে অনেকটা লম্বা এবং যুবতীসুলভ দেহ তার। তুলনায় জলির শরীর এখনো অপরিণত। যৌবনের লক্ষণ প্রকট হয়নি এখনো। জলিকে প্রায় বালকের মত দেখাচ্ছে ক্রিস্টিনার পাশে। ক্রিস্টিনার ভারি গড়ন বেশ টানটান দেখাচ্ছে। সে জলিকে সাহস দেবার জন্য এসেছে এখন। অদম্য আত্মবিশ্বাসে তার মুখচোখ উজ্জ্বল হয়ে আছে।

প্রধানা শিক্ষিকা ক্রোধে টকটকে লাল হয়ে গেলেন… ‘তুমি এখানে কী ভাবে এলে?’ কর্কশস্বরে চিবিয়ে চিবিয়ে শান্তভাবে বলে উঠলেন তিনি… ‘তুমি এখানে দরজায় দাঁড়িয়ে আড়ি পাতছিলে, তাই না?’

ক্রিস্টিনা জলির দিকে একটু ঝুঁকে দাঁড়িয়েছিল। একথা শুনে সে মাথা তুলল এক মুহূর্তের জন্য…

-‘হ্যাঁ, অবশ্যই। আড়ি পাতছিলাম আমি। কারণ আমার মনে হয়েছিল যে কিছু একটা ঘটতে চলেছে।’

তার কথা শুনে শিক্ষিকারা চেয়ার থেকে লাফ দিয়ে উঠতে যাচ্ছিলেন। বাক্যহারা হয়ে সবাই প্রধানা শিক্ষিকার দিকে তাকালেন, যিনি একটা টেবিলের সামনে টকটকে লাল, হতভম্ব মুখ নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ক্রিস্টিনা একেবারে প্রধান শিক্ষিকার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।

‘আপনি জলিকে শাস্তি দেবেন না!’ সে বলে… ‘আপনি খুব ভাল করেই জানেন যে তাহলে আপনারা নিজেরাই নিজেদের মূর্খ প্রমাণ করে ছাড়বেন।’ যদিও তার কণ্ঠস্বর উষ্ণ বন্ধুত্বপূর্ণ এবং কিছুটা উদাসী, কিন্তু তার চোখের দৃষ্টি প্রধানা শিক্ষিকার চোখ থেকে এক মুহূর্তের জন্য সরে যায় না। চোখের পলক ফেলে না ক্রিস্টিনা। তার চোখে কি একইসঙ্গে ব্যঙ্গ এবং নির্মমতা?

-‘আমি সব ঠিক করে দেব।’ জলির দিকে ফিরে ক্রিস্টিনা তার সঙ্গে চলে আসতে বলে। তারপর জলির ঘাড়ে হাত রেখে তাকে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।

এই ঘটনায় কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন না শিক্ষিকারা। তারা বেরিয়ে যাবার আগে দরজা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত সবার চোখ ক্রিস্টিনার দিকে নিবদ্ধ থাকে। প্রধান শিক্ষিকার প্রতি করুণাবশত সম্ভবত সবাই চুপচাপ বসে থাকেন।

ক্রিস্টিনার বোর্ডিং স্কুলের কার্যক্রম শেষ হবার কিছু আগে ঘটেছিল এই ঘটনা। তারও বেশ কিছুদিন পর সেই বোর্ডিং স্কুলে এসেছিল ইনেস। তবে ইনেসের সঙ্গে ক্রিস্টিনার আলাপ বেশি জমে উঠতে পারেনি। কারণ ক্রিস্টিনা অনেকটা সময় আলফ্রেডের সঙ্গে কাটাত এবং স্কুলের পাঠক্রমের দিকে বিশেষ মনোযোগ ছিল না তার। স্বাভাবিক কারণেই, ক্রিস্টিনাকে নিয়ে যত কাণ্ডকারখানা ঘটেছিল বোর্ডিং স্কুলে, সেই সমস্ত কথা ইনেসের কানেও পৌঁছেছিল। জলির ঘটনাও জেনেছিল সে। যদিও ইতিমধ্যে জলিরও পাঠক্রম শেষ হয়ে গিয়েছিল। বোর্ডিং স্কুল থেকে যাবার সময়ে তার মা এসেছিলেন তাকে বাড়ি নিয়ে যাবার জন্য।

ক্রিস্টিনার সঙ্গে পরিচিত হবার জন্য ইনেসের বেশ আগ্রহ ছিল। যদিও সে শুনেছিল যে ক্রিস্টিনা খুব অহংকারী আর উদ্ভট স্বভাবের মেয়ে, তবে সামনাসামনি দেখে ইনেসের সেরকম কিছু মনে হয়নি। বরঞ্চ তার সঙ্গে আলাপ করে বন্ধু হবার ইচ্ছে জেগেছিল তার। ক্রিস্টিনার ঘরেও একবার গিয়েছিল সে। ক্রিস্টিনা তখন প্রস্তুত হচ্ছে বোর্ডিং ছেড়ে দেবার জন্য। অর্ধেক জিনিসপত্র গোছগাছ হয়ে গেছে। ঘরের বাইরে স্যুটকেস দাঁড় করিয়ে রাখা।

-‘তুমি কয়েক সপ্তাহ আগে এলে ভাল হত!’ ক্রিস্টিনা বলেছিল।

ইনেস বিষণ্ণ বোধ করছিল। বোর্ডিং স্কুলে এসে ইস্তক সেভাবে কোনও মেয়ের সঙ্গে এখনও তার বন্ধুত্ব হয়নি। কিন্তু এই লম্বা, বুদ্ধিমতী মেয়েটি, যে এক দুই দিনের মধ্যেই চলে যাবে, তাকে তার বেশ পছন্দ হয়েছে।

- ‘তুমি তো তাও একা ছিলে না।’ ইনেস বলে… ‘জলি ছিল তোমার সঙ্গে।’

ক্রিস্টিনা মাথা নাড়ে। ‘খুব ভাল, মিষ্টি মেয়েটা। কষ্ট পেল… কিন্তু, যাই হোক… তুমি আরেকটু আগে এলে… তোমার সঙ্গে কথা বলতে বেশ লাগে আমার!’

ইনেসের একটু অস্বস্তি হতে থাকে। ক্রিস্টিনার আপাত উদাসী কণ্ঠস্বরের মাঝে একটা আবেগী চোরাস্রোত আছে, যেটা বিপজ্জনক অথচ শান্ত, গভীর এক আবেদনে ভরপুর। ক্রিস্টিনার হাতদুটির মধ্যেও আছে সেই আবেদন। বড়সড়, সাদা, সুন্দর হাতদুটি স্থিরভাবে রেখেছে সে তার গাঢ় রঙের পোশাকের উপর। সুডৌল সেই বাহুদুটির উপর ঝুঁকে যে কারো ইচ্ছে হতে পারে হস্তচুম্বন করবার জন্য।

ইনেস সোজা হয়ে বসে। নিজের ভাবনার গতিপ্রকৃতি দেখে একটু অদ্ভুত দ্বিধাবোধ জাগে তার নিজের মনেই। সে লক্ষ্য করে ক্রিস্টিনা বিস্ময়ে তার চোখের পাতা, ভ্রু একটু উপরে তুলে তাকিয়ে আছে তার দিকে। সে কি পড়তে পেরেছে ইনেসের মনের ভাবনা?



(চলবে)

0 comments: