Next
Previous
3

সম্পাদকীয়

Posted in


সম্পাদকীয় 



মহা অষ্টমী। প্রকাশিত হলো ঋতবাক ২য় বর্ষ, ১৫তম সংখ্যা। বাঙ্গলার প্রাণের উৎসবে বাঙ্গালী মাতোয়ারা। এই তো দু-দিন আগেই, পঞ্চমীর দিন শোনা গেলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দুর্গা দেখতে গিয়ে উপচে পড়া ভীড়, হতাহত, শহর জুড়ে বিশৃঙ্খলা। তবুও বাঙ্গালী নিজস্ব ছন্দে। এতো সত্বেও কিন্তু বলতেই হবে উৎসব পালনের রীতিতে বেশ পরিবর্তন এসেছে। আজকাল শহুরে বাঙ্গালী পুজোর এই তিন-চার দিন যেন একটু বেশীই অন্তর্মখী। ভীড়ভাট্টার বাইরে নিজস্ব বৃত্তে স্বেচ্ছাবন্দী। নিভৃতে, একেবারে একান্ত অন্তরঙ্গ পরিমণ্ডলে টানা তিন-চার দিন একাধারে অবসর যাপন ও নাগরিক ক্লান্তি অপনোদনের এমন সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করছেন না অনেকেই। যাই হোক, যে যেমন ভাবে সুখে-শান্তিতে থাকে, তাকে সেই ভাবে থাকতে দেওয়াই ভালো। সকলেই নিজের মতন করে আনন্দে থাকুক, এটাই কাম্য। 

ওদিকে আশু প্রকাশিতব্য ঋতবাক সংকলনের খবরও তো বেশ ভালোই। আর দিন কয়েকের মধ্যেই মুদ্রিত সংস্করণের নির্বাচিত লেখা-সহ বেশ কিছু নতুন লেখা চললো মুদ্রকের ঘরে। প্রকাশিত আরো অনেক লেখাই হয়তো নেওয়া যেতো, কিন্তু সাধ আর সাধ্যের মধ্যে বিরোধ যে চিরকালীন!! 

এদিকে ঋতবাক-এর এবারের সংখ্যায় বেশ কিছু প্রাসঙ্গিক প্রবন্ধের সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ আকর্ষণ এই সংখ্যার ধারাবাহিকগুলি। প্রতিটিই এখন টান টান চমকের চরম মুহূর্তে। প্রাচীন কথা বিভাগে শুরু হলো কৃষ্ণদেব রায়-এর নতুন ধারাবাহিক ‘বিন্দুতে সিন্ধু দর্শন’, শিরোনামেই বিষয়বস্তু সম্বন্ধে সম্যক ধারণা করা যায়। আর সৌরেন চট্টোপাধ্যায়-এর ‘উত্তরাপথের পথে’ তো চমকের পর চমক দিয়ে এখন একেবারে উত্তেজনার উত্তুঙ্গে! এবারের স্মৃতির সরণী বিভাগে রয়েছে প্রায় তিরিশ বছর আগে দেখা হিমালয়ের স্মৃতি, লিখছেন শীলা পাল। নিয়মিত বাকি বিভাগগুলিও আপনাদের সক্রিয় সহযোগিতায় সমৃদ্ধ। 

ঋতবাক-এর পক্ষ থেকে সুধী সাহিত্যপ্রেমী বন্ধুদের জন্য রইলো শারদীয়ার আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত সাহচর্যই ঋতবাক-এর একমাত্র পাথেয়। 

নিরন্তর শুভ কামনা

সুস্মিতা বসু সিং