সম্পাদকীয়
Posted in সম্পাদকীয়কোনও একসময় সেটি শিশুদের বিদ্যালাভের জায়গা ছিল। জানলা দিয়ে সূর্যের অপূর্ব মায়াবী আলো এসে পড়লেও ঘরটির ভিতরে এখন এক অপার্থিব শূন্যতা। দেওয়ালে, বোর্ডের ওপর নানান আঁকিবুঁকি এখনও সাম্প্রতিক অতীতের সাক্ষ্য দেয়। সবুজ সারিবদ্ধ বসার জায়গাগুলি এখনও প্রাক-হামলার সময়চিহ্ন বহন করছে। শুধু খুদে পড়ুয়াদের বদলে সেখানে কংক্রিটের স্তূপ। সমর্থিত বা অসমর্থিত (যাই হোক না কেন, তা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক) সংবাদ সূত্র অনুযায়ী ১৬৭ মৃত। সংখ্যায় কী বা এসে যায়! এই গণ শিশুহত্যার রক্তের দাগ যাদের হাতে, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি তারা কেউই।
তিন সপ্তাহ হল একটি অশ্লীল, আরেক প্রাচীন সভ্যতা- লুপ্তকারী যুদ্ধ শুরু করেছে যুদ্ধবাজ, বর্বর দুই রাষ্ট্র। একাধিক সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে উদ্দ্যেশ্যপ্রণোদিত নাক গলানোর ক্ষেত্রে যারা তাদের নিজেদের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এদের মধ্যে একটি জনগোষ্ঠী ছিল চরম নিপীড়িত, এখন তারাই নিপীড়কের ভূমিকায়। ইতিহাসের আশ্চর্য পট পরিবর্তন!
শাসনব্যবস্থার বদল? সে তো ঠিক করবে ভূমিপুত্রের দল। পৃথিবীতে একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র গোষ্ঠীই কি ঠিক করবে, আরও কেউ সেই পথে এগোবে কিনা? বিপরীতে যারা পরমাণু শক্তিতে বলীয়ান, তারাও তো পারতেন মানবিকতার সার্বিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে সেই মহা-ধ্বংসের ভাণ্ডার নষ্ট করে ফেলতে! এর ফলে হল কী, দু'মাস আগে যে দেশটির সরকারের দিকে প্রায় তিরিশ হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করার অভিযোগের তীরটি স্থির হয়ে ছিল, আজ তাদেরই সমর্থনে হাজার হাজার সাধারণ নাগরিক পথে নামছেন। এ এক অভাবনীয় পরিস্থিতি!
মুষ্টিমেয় অশুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ মনুষ্য সম্প্রদায়ের এমন নির্লজ্জ আত্মসমর্পণ বারংবার আমাদের ঠেলে দিচ্ছে অনিশ্চয়তার নিকষ অন্ধকার খাদে। নীরব দর্শকের ভূমিকায় আমরা এমন নিপুণ অভিনয় করে চলেছি বলেই ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান আর মধ্যপ্রাচ্যে এমন চতুর্থ শ্রেণীর নাটকের পুনরাবৃত্তি হয়। হতেই থাকে। এই 'রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস' থেকেই তো জন্ম নেয় 'সন্ত্রাসবাদ'। তখন আর তা কোনও নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে না, সকলের কাছেই তা হয়ে দাঁড়ায় অনতিক্রম্য এক সমস্যা। সমগ্র মানবশরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে অনারোগ্য সেই মারণব্যাধি।
সুস্থ থাকুন। দায়বদ্ধ থাকুন।
শুভেচ্ছা নিরন্তর।



0 comments: