সম্পাদকীয়




















একজন বিশ্বখ্যাত ফুটবলারের কলকাতা সফর নিয়ে ধুন্ধুমার। যা ঘটল, তাকে নজিরবিহীন বললেও কিছুই বলা হয় না। শ্রমার্জিত,  এমনকী অনেক ক্ষেত্রে সুদের বিনিময়ে ঋণ করা অর্থ দিয়ে কেনা টিকিট জোগাড় করেও ফুটবল পাগল কিছু মানুষ তাদের কাঙ্খিত পুরুষটির দর্শন থেকে বঞ্চিত হলেন।


এর ফলাফল হল ভয়াবহ। যদিও অনেকের মতে আমরা যা প্রত্যক্ষ করলাম, আরও বেশি সংখ্যায় এবং আরও উগ্র মেসি-সমর্থকের দল সেদিন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে উপস্থিত থাকলে সামগ্রিক পরিস্থিতি একটা দাঙ্গার চেহারা নিতে পারত।


এই ঘটনার দায় কার? এখনও পর্যন্ত যেটুকু বোধগম্য হচ্ছে তা হল, সংশ্লিষ্ট কোনও বিভাগই সরাসরি সীমাহীন এই অপদার্থতার দায়িত্ব স্বীকার করেনি। কিছু 'ক্ষমা প্রার্থনা', 'দুঃখ প্রকাশ', 'অব্যাহতি চাওয়া' এবং 'কারণ দর্শানো'র মধ্যেই পুরো বিষয়টি সীমাবদ্ধ রয়েছে। একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে অবশ্য। সেই কমিটি কোনও যুক্তিগ্রাহ্য দিশা দেখাতে পারবে কিনা, সেই উত্তর ভবিষ্যতের গর্ভে। আপাতত যে প্রশ্নগুলি উঠে আসে, তার প্রথমটি হল মারাত্মক পরিকাঠামোগত ঝুঁকি জিইয়ে রেখে এধরনের একটি আন্তর্জাতিক (প্রত্যাশিত) মানের অনুষ্ঠান করা যায় কি? কী হতো, যদি প্রবল ভিড় থেকে ঘটে যেত কোনও দুর্ঘটনা, যাতে মেসি আঘাতপ্রাপ্ত হতেন? পুলিশের কাজ নিরাপত্তা দেওয়া। তাঁরা যদি সেখান থেকে সরে এসে নিজস্বী সংগ্রহে মগ্ন হন, সর্বনাশের বাকি কিছু থাকে কি? জনমানসে এখন এমন অনেক ধন্দের ছায়া। সেই ভাবনার অভিমুখটি যদি আসন্ন নির্বাচনের দিকে ঘুরে যায়, তাতে মনে হয় সকলেরই  মঙ্গল!


সুস্থ থাকুন। দায়বদ্ধ থাকুন।

বড়দিন ও নববর্ষের শুভেচ্ছা সকলকে।

1 comment:

  1. অনেক ভালো লেখা রয়েছে l শুভেচ্ছা সম্পাদকমণ্ডলী কে l হোম থেকে মাত্র পাঁচটি লেখা পড়া যাচ্ছে l বিপুল দাস এর লেখাটা হারিয়ে গেলো l গল্প আছে নাকি? হোম এ scroll করে সব পেলে সুবিধা হয় l যোগাযোগ ঠিকানা দিলে ভালো হবে l
    .. সুব্রত ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি l

    ReplyDelete